Don't Miss
Home / আজকের সংবাদ / খালেদা জিয়ার সাজা হলে কোথায় রাখা হবে

খালেদা জিয়ার সাজা হলে কোথায় রাখা হবে

এমএনএ রিপোর্ট : খালেদা জিয়ার দুর্নীতি মামলার রায়-পরবর্তী সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রস্তুতি রাখছে কারা প্রশাসন। রায়ে খালেদা জিয়ার সাজা হলে তাঁকে কোথায় রাখা হবে, সে বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষ প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজা হলে তাকে কোথায় রাখা হবে- সে প্রশ্ন এখন সবখানে। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে কোনো বিশেষ সাবজেলে না অন্য কোথাও রাখা হবে তা নিয়ে ভাবছে কারা অধিদপ্তর। এরই মধ্যে রাজধানীর পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের নারী সেলের ঘষামাজার কাজ শুরু হয়েছে। প্রস্তুত করা হয়েছে কাশিমপুরের মহিলা কারাগারের একটি ভিআইপি সেলও। আদালত খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিলে ভিআইপি বন্দি হিসেবে তার জন্য একাধিক স্থানকে সাবজেল ঘোষণার বিকল্প চিন্তাও রয়েছে কারা অধিদপ্তরের।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী কারা মহাপরিদর্শক আবদুল্লাহ আল মামুন গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা এখনও নিশ্চিত নই খালেদা জিয়ার মামলার রায় কি হবে? তবে সাজা হলে খালেদা জিয়াকে রাখা হতে পারে তার নিজ বাড়িতে, কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের মহিলা সেলে, ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে, কেরানীগঞ্জ কারাগারে, সংসদ ভবনের বিশেষ ডিভিশন সেলে অথবা ঢাকার যে কোনো এলাকায়। তিনি বলেন, ৪ ঘণ্টা সময় পেলে তাকে যে কোনো স্থানে রাখার মতো ব্যবস্থা করার সক্ষমতা রয়েছে কারা অধিদপ্তরের।
তবে এরই মধ্যে নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিন নাজিমউদ্দিন রোডের পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে সেখানে বাড়তি পুলিশ মোতায়েনের দৃশ্য চোখে পড়ে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি উৎসুক জনতার ভিড় দেখা গেল।
কারাগারের আরেক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, সাজা হলে খালেদা জিয়াকে গাজীপুরের কাশিমপুরে অবস্থিত কেন্দ্রীয় নারী কারাগারে (কাশিমপুর-৩) রাখার কথা ভাবা হচ্ছে। ওই কারাগারেই ভিআইপি নারী বন্দী রাখার যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। সেখানকার নিরাপত্তাব্যবস্থাও বেশ ভালো। তবে সেখান থেকে ঢাকার আদালতে আনা-নেওয়ার পথ ঝুঁকিমুক্ত নয় বলে কর্মকর্তারা মনে করছেন।
আবার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারের নারী সেলের দোতলার ঘরগুলোতেও ধোয়ামোছার কাজ শুরু হয়েছে। সেখানে চারটি বড় ঘর রয়েছে। এখানে আগে নারী বন্দীদের শিশুসন্তানেরা খেলাধুলা করত। এখন সেখানে সংস্কার চলছে। সরকারের বিভিন্ন সংস্থার লোকজন নাজিমুদ্দিন রোডে কারা কর্তৃপক্ষের ওই প্রস্তুতি দেখে গেছেন। ভেতরে পুলিশ রয়েছে।
কারা অধিদপ্তরের অপর একটি নির্ভরযোগ্যে সূত্র গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, খালেদা জিয়ার সাজা হলে তাকে নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখার সম্ভাবনাই বেশি। সেখানে একটি ভবনের দ্বিতীয় তলার ডে-কেয়ার সেন্টারটি ইতিমধ্যেই প্রস্তুত করা হয়েছে। সূত্রটি বলছে, সেখানে অতিরিক্ত ১০ জন কারারক্ষী মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া ভেতরে-বাইরে মিলে ২ জন ডেপুটি জেলারের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এদের মধ্যে মহিলা জেলার কারাগারের ভেতরে এবং পুরুষ জেলার বাইরে অবস্থান করবেন। সার্বক্ষণিক একজন চিকিৎসকও থাকবেন। ওই কারাগারের ভেতরে দায়িত্ব পালনের জন্য কয়েকজন দক্ষ ও পুরোনো কারারক্ষীকে দায়িত্ব দেওয়া হবে বলে বাছাই করা হয়েছে।
সূত্রটি জানায়, সেখানে রাখা হলে সব দিক থেকেই ভালো হবে। কেননা খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আরও বেশ কিছু মামলা রয়েছে। সেখান থেকে তাকে আদালতে আনা নেয়ার কাজও সহজ হবে। কেরানীগঞ্জের নতুন কেন্দ্রীয় কারাগারে মহিলা সেল এখনও সম্পন্ন হয়নি। কাশিমপুরে রাখা হলে আদালতে আনা-নেয়ার কাজে সমস্যা হবে।’
উল্লেখ্য, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি ঘোষণা করা হবে। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে শেখ হাসিনা এবং খালেদা জিয়াকে রাখা হয়েছিল সংসদ ভবনের সাবজেলে। এছাড়া সাবেক রাষ্ট্রপতি এএইচএম এরশাদকে রাখা হয়েছিল নাজিমউদ্দিন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগারের বিশেষ সেলে।
এক নজরে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন এবং কারাভোগ : ৩৬ বছরের রাজনৈতিক জীবনে খালেদা জিয়া একবারই কারাগারে যান। ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তিনি গ্রেপ্তার হন। তাঁকে সংসদ ভবন এলাকার স্থাপন করা বিশেষ কারাগারে রাখা হয়। পাশাপাশি আরেকটি ভবনে স্থাপিত বিশেষ কারাগারে ছিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের আদেশে মুক্ত হন খালেদা জিয়া।
১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি প্রাথমিক সদস্য হিসেবে বিএনপিতে যোগ দেন খালেদা জিয়া। এরপর তিনবার পুলিশ তাঁকে আটক করে। তবে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়নি। এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় ১৯৮৩ সালের ২৮ নভেম্বর, ১৯৮৪ সালের ৩ মে, ১৯৮৭ সালের ১১ নভেম্বর আটক হন তিনি। এর মধ্যে প্রথম দুবার ঘটনাস্থল থেকে আটক করে তাঁকে বাসায় পৌঁছে দেয় পুলিশ। ১৯৮৭ সালে হোটেল পূর্বাণীতে এক অনুষ্ঠান থেকে আটক করে আরও কয়েকজন নেতার সঙ্গে তাঁকে কিছু সময় মতিঝিল থানায় নেওয়া হয়। অবশ্য পুলিশ সে সময় তাঁকে গ্রেপ্তার বা আটকের বিষয়ে কোনো কিছু বলেনি। বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা বলছেন, এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় ‘অঘোষিত’ভাবে তাঁকে গৃহবন্দী থাকতে হয়েছে। তবে এটা আইনানুগ নয়।
বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সময় ২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর গুলশানের বাসায় অবরুদ্ধ করা হয় তাঁকে। আর ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি তাঁর গুলশানের কার্যালয়ের দুই পাশে বালুর ট্রাক রেখে অবরুদ্ধ করা হয়। ৯৩ দিন অবরুদ্ধ থাকার পর এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে আদালতে হাজিরা দিয়ে বাসায় ফেরেন তিনি।
x

Check Also

ব্যাংক রেজুলেশন আইন ২০২৬ দুর্নীতি সহায়ক, লুটেরাদের পুনর্বাসন আত্মঘাতী: টিআইবি

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক সদ্য পাস হওয়া ব্যাংক রেজুলেশন আইন, ২০২৬ নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনার ...