খালেদা না পারলেও বিএনপি নির্বাচনে আসবেই : কাদের
Posted by: News Desk
February 17, 2018
এমএনএ রিপোর্ট : বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে না পারলেও বিএনপি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
আজ শনিবার সকালে ফেনী সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ কথা বলেন তিনি।
ওবায়দুল কাদের বলেন, খালেদা জিয়া ছাড়াও বিএনপি আগামী নির্বাচনে অংশ নেবেই। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে কিনা তা সম্পূর্ণ আদালতের এখতিয়ার। সে ব্যাপারে সরকারের কোন হস্তক্ষেপ নেই।
মন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া যে মামলায় দণ্ডিত হয়েছেন তা বিগত ১০ বছর পূর্বে ওয়ান ইলেভেন সরকারের আমলে হয়েছিল। দুদক বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছিল। আর এ সরকার ক্ষমতায় রয়েছে ৯ বছর।
তিনি প্রশ্ন করে বলেন, এ সরকার যদি তার মামলায় হস্তক্ষেপ করবে তবে মামলাটি এত বছর চলল কিভাবে। মামলায় খালেদা জিয়ার পক্ষে ১৫০ বার সময় নেয়া হয়েছে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, খালেদা জিয়া জেল কোড অনুযায়ী সব সুযোগ সুবিধা পাচ্ছেন। তার সাথে একজন গৃহকর্মীও দেয়া হয়েছে। যার নজির কোন দেশে নেই। মাওলানা ভাসানী, বঙ্গবন্ধু সহ আমরাও জেল খেটেছি। আমরাতো এ ধরনের সুযোগ সুবিধা পাইনাই।
মন্ত্রী জানান, তিনিও জেলে গেছেন; ডিভিশন পেয়েছেন। ফখরুদ্দিন সরকারের আমলে জেল খাটার সময় প্রিজন ভ্যানে করে কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে নেয়ার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন তিনি।
খালেদা জিয়ার মামলার রায়ের সার্টিফাইড কপির ব্যাপারে তিনি বলেন, ৬৩২ পৃষ্ঠার রায়ের সার্টিফাইড কপি পেতে যুক্তিসংগত সময় লাগবে। যথা সময়ে তারা সার্টিফাইড কপি পেয়ে যাবেন। এ ব্যাপারে সরকারের কোন হস্তক্ষেপ নেই।
মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অক্ষম। বিএনপি ভেবেছিল খালেদা জিয়াকে আটকের পর দেশে উত্তাল তরঙ্গের মত আন্দোলন হবে। তাদের ডাকে কেউ সাড়া দেয়নি। তারা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি করতে জানেনা। তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির ইতিহাস নেই।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার মামলার রায়ের আগে হাইকোর্টের সামনে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে তারা আসামি ছিনিয়ে নিয়েছে। তারা লন্ডনে বাংলাদেশি দূতাবাসে হামলা- ভাঙচুর করেছে। শুধু তাই নয়, তার জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাঙচুর করে চরম অবমাননা করেছে।
মন্ত্রী বলেন, বিএনপি রাতের আঁধারে গঠনতন্ত্র সংশোধন করে ৭ ধারা বাদ দিয়ে দণ্ডিত ব্যক্তি তারেক রহমানকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বানিয়েছেন।
তিনি বলেন, আমাদের সরকারের আমলে বিচারহীনতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে দেওয়া হয়নি। বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারায় আমাদের একাধিক এমপি, মন্ত্রী বা মেয়র আদালত কর্তৃক দণ্ডিত হয়েছেন। যুবলীগ ছাত্রলীগসহ অনেকে এখন কারাগারে রয়েছেন। এসব সুশাসনের অংশ। এ ব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও মোটে বিচলিত নন।
এ সময় ফেনীর জেলা প্রশাসক মনোজ কুমার রায়, পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম সরকার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মনিরুজ্জামান, জেলা আ’লীগের সভাপতি আবদুর রহমান, ছাগলনাইয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মেজবাউল হায়দার সোহেল, ফেনী পৌর প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী উপস্থিত ছিলেন।
কাদের না পারলেও আসবেই খালেদা নির্বাচনে বিএনপি 2018-02-17