এমএনএ প্রতিবেদক
জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গণভোটের রায় অস্বীকার করার মধ্য দিয়েই দেশে নতুন এক ধরনের ফ্যাসিবাদের সূচনা হয়েছে, যা অতীতের চেয়েও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাজধানীর মগবাজারে আল ফালাহ মিলনায়তনে আয়োজিত জামায়াতের ‘জেলা আমির সম্মেলন’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি অভিযোগ করেন, উচ্চ আদালতের বিচারক নিয়োগে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে একটি বডি গঠনের জন্য অধ্যাদেশ জারি করা হলেও তা কার্যকর হতে দেওয়া হয়নি। এর ফলে দলীয় প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তার মতে, দলীয় বিবেচনায় বিচারক নিয়োগের কারণে বিচার বিভাগে বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব তৈরি হয়েছে এবং এর নেতিবাচক প্রভাব জনগণকে ভোগ করতে হচ্ছে। একইভাবে পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি) গঠনের ক্ষেত্রেও একই ধরনের বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবেই দেশে এ সংকট দেখা দিয়েছে। তবে এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার সম্মিলিত উদ্যোগ না নিয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিচ্ছে। একদিকে তেলের সংকট নেই বলা হচ্ছে, অন্যদিকে প্রতিদিন দীর্ঘ সময় লোডশেডিং চলছে—যা পরস্পরবিরোধী বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ছে। এমনকি ক্রিকেট বোর্ডেও দলীয়করণের প্রভাব পড়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। প্রশাসনে সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে সরিয়ে রাখা হচ্ছে, যা জনগণকে তাদের সেবা থেকে বঞ্চিত করছে।
ডা. শফিকুর রহমান দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উপাচার্য পরিবর্তন, দুর্নীতি দমন কমিশনের নিষ্ক্রিয়তা এবং মানবাধিকার কমিশনের পদত্যাগ—এসবই রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্বলতার প্রমাণ। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, বিচারকদের স্বাধীন বলা হলেও বাস্তবে তাদের ওপর হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে।
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি নিয়েও তিনি সমালোচনা করেন। তার মতে, কৃষক, পরিবার ও স্বাস্থ্য কার্ড বিতরণে দলীয় প্রভাব কাজ করছে, যার ফলে প্রকৃত সুবিধাভোগীরা বঞ্চিত হচ্ছেন। এছাড়া চাঁদাবাজি বৃদ্ধি, জ্বালানি খরচ বৃদ্ধি এবং অতিরিক্ত চাপের কারণে দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভুল নীতি থেকে সরে এসে গণভোটের ফলাফল মেনে নেওয়া উচিত। তিনি জানান, ফ্যাসিবাদমুক্ত একটি শাসনব্যবস্থা গড়ে তুলতে ইতিবাচক উদ্যোগে তারা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত, তবে জনগণের ওপর কোনো ধরনের ফ্যাসিবাদ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

