Don't Miss
Home / সংগঠনের খবর / গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও আস্থার সংকট: সমালোচনা করার সুযোগ আছে, তবে বিশ্বাসযোগ্যতা তলানিতে

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও আস্থার সংকট: সমালোচনা করার সুযোগ আছে, তবে বিশ্বাসযোগ্যতা তলানিতে

এমএনএ প্রতিবেদক

বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বর্তমান সময়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, জবাবদিহি ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা উঠে এসেছে। বক্তারা একদিকে সরকারের সমালোচনা করার সুযোগ থাকার কথা উল্লেখ করেছেন, অন্যদিকে গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা তলানিতে পৌঁছানোর বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘জন আস্থা পুনর্নির্মাণ: বাংলাদেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক জবাবদিহি’ শীর্ষক এই আলোচনা সভা যৌথভাবে আয়োজন করে ইউনেস্কো এবং টিআইবি।

আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, বর্তমান সরকারের একটি ইতিবাচক দিক হলো—এখন সরকারকে প্রকাশ্যে সমালোচনা করা সম্ভব হচ্ছে।

তিনি উল্লেখ করেন, সভায় উপস্থিত এক গণমাধ্যম সম্পাদক যখন উচ্চস্বরে সরকারের সমালোচনা করছিলেন, তখন কোনো ধরনের সেন্সরশিপ ছাড়াই তা করা সম্ভব হয়েছে। এটি সরকারের প্রতি এক ধরনের স্বীকৃতি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

অন্যদিকে, দ্য ডেইলি স্টারের কনসাল্টিং এডিটর কামাল আহমেদ বলেন, গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা বর্তমানে তলানিতে এসে ঠেকেছে।

তার মতে, এর পেছনে দুটি প্রধান কারণ কাজ করছে— অতীতে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ও ভীতির সংস্কৃতি ও বর্তমানে মালিকপক্ষের হস্তক্ষেপ ও করপোরেট স্বার্থ।

তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের মালিকদের প্রভাবের কারণে সম্পাদকরা স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য—যেমন ঋণখেলাপি বা অর্থ পাচারকারীদের তালিকা—কিছু গণমাধ্যম আংশিক বা বাছাই করে প্রকাশ করে, যা তাদের বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য কমিশনের প্রধান কামাল আহমেদ আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্যও গণমাধ্যমের প্রতি আস্থা কমিয়ে দিচ্ছে। এসব তথ্য অনেক সময় রাজনৈতিক বা গোষ্ঠীগত স্বার্থে ছড়ানো হয়, যার ফলে পাঠকদের জন্য প্রকৃত তথ্য যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়ে।

সংকট উত্তরণে গণমাধ্যমের জন্য একটি টেকসই অর্থনৈতিক মডেলের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন তিনি। তার মতে, সরকার বা অন্য কোনো গোষ্ঠীর আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়লে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

একই সঙ্গে তিনি সম্পাদকদের পেশাগত সততা বজায় রেখে মালিকপক্ষের চাপের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সুজান ভাইজ, ফাহিম আহমেদ, রিয়াজ আহমেদ এবং শাহনাজ মুন্নি। সভাটি সঞ্চালনা করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান।

আলোচনায় উঠে আসে, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি এর বিশ্বাসযোগ্যতা পুনর্গঠন এখন বড় চ্যালেঞ্জ। সমালোচনার সুযোগ থাকা একটি ইতিবাচক দিক হলেও, মালিকানাগত প্রভাব, অর্থনৈতিক চাপ এবং অপতথ্যের বিস্তার—এই তিনটি বড় বাধা হিসেবে সামনে এসেছে।

বক্তারা মনে করেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও আস্থা পুনর্গঠনে কাঠামোগত সংস্কার এবং পেশাগত নৈতিকতার চর্চা জরুরি।

x

Check Also

সিলেটে তেলিবাজারে ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষ, নিহত ৮, অধিকাংশই নির্মাণশ্রমিক

সিলেট প্রতিনিধি সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার তেলিবাজার এলাকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ৮ জন নিহত ...