এমএনএ সংবাদ ডেস্ক : দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ১৩ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে করোনাভাইরাস (কভিড-১৯)। তাদের মধ্যে পুরুষ ৯ এবং নারী ৪ জন। হাসপাতালে ১৩ জন মারা যান। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে মোট মারা গেলেন সাত হাজার ৮৬২ জন। আক্রান্ত হিসেবে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন আরো ৭৬২ জন। ফলে দেশে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়ালো ৫ লাখ ২৬ হাজার ৪৮৫ জনে।
শুক্রবার বিকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত করোনা বিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৯৯টি পরীক্ষাগারে ১৩ হাজার ৬৫২টি নমুনা সংগ্রহ এবং ১৩ হাজার ৬৭৮টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। ফলে এ পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪ লাখ ৩১ হাজার ৭৯২টি। একই সময় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন আরো ৭৬২ জন। ফলে দেশে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়ালো পাঁচ লাখ ২৬ হাজার ৪৮৫ জনে।
গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার তুলনায় রোগী শনাক্তের হার ৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ এবং এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষার তুলনায় রোগী শনাক্তের হার ১৫ দশমিক ৩৪ শতাংশ। রোগী শনাক্তের তুলনায় সুস্থতার হার ৮৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪৯ শতাংশ।
এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন আরো ৭১৮ জন। এ নিয়ে মোট সুস্থ রোগীর সংখ্যা দাঁড়ালো চার লাখ ৭১ হাজার ১২৩ জনে।
করোনায় মৃতদের বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত ১৪ জনের মধ্যে ত্রিশোর্ধ্ব দুইজন, চল্লিশোর্ধ্ব একজন, পঞ্চাশোর্ধ্ব দুইজন এবং ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে ৯ জন রয়েছেন।
এ পর্যন্ত করোনায় মোট মৃতের মধ্যে পুরুষ পাচঁ হাজার ৯৬৩ জন (৭৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ) ও নারী এক হাজার ৮৯৯ জন (২৪ দশমিক ১৫ শতাংশ)।
গত বছর ৮ মার্চ প্রথম করোনা ভাইরাসের রোগী শনাক্ত হয়। প্রথম মৃত্যু হয় ১৮ মার্চ। আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ছাড়িয়েছিল তিন মাস পর গত ১৮ জুন। তার ঠিক এক মাস পর ১৮ জুলাই শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ২ লাখ ছাড়িয়ে যায়। এর পরের ১ লাখ রোগী শনাক্তে ৯ দিন বেশি সময় লাগে। ২৬ অগাস্ট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৩ লাখ ছাড়ানোর খবর দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
এর পরের দুই মাসে ২৬ অক্টোবর সেই তালিকায় যোগ হয় আরো এক লাখ শনাক্ত। এর ৫৫ দিনের শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৫ লাখ ৭১৩ জন। এর মধ্যে গত ২ জুলাই ৪ হাজার ১৯ জন কভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়, যা এক দিনের সর্বোচ্চ।
৩০০ দিনের মাস ভিত্তিক শনাক্তের হারে দেখা যাচ্ছে, সবচেয়ে বেশি ২২ দশমিক ৬৩ ভাগের করোনা শনাক্ত হয় জুলাই মাসে। আর গত বছরের ৫ এপ্রিলের পর আজ বৃহস্পতিবার শনাক্তের হার সবচেয়ে কম যা ৫ শতাংশে নিচে।
পরীক্ষার সংখ্যার তুলনায় শনাক্তের হার যখন পাঁচ শতাংশের কম হয় এবং একনাগাড়ে পর পর তিন সপ্তাহ এই হার থাকে, তখন বলা হয় সংক্রমণ নিয়ন্ত্রিত হয়েছে। গত বছর মার্চে বাংলাদেশে প্রথম শনাক্ত হয়। এরপর শনাক্তের হার ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। এক সময় সেটা তেইশ শতাংশের আশেপাশে উঠে যায়। এ অবস্থায় কয়েক সপ্তাহ কেটে যায়। তারপর ধীরে ধীরে সংক্রমণ কমতে থাকে।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

