গাবতলীতে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে তাবিথের ওপর হামলা
Posted by: News Desk
January 21, 2020
এমএনএ রিপোর্ট : রাজধানীর গাবতলীতে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আওয়ালের ওপর নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময় হামলার অভিযোগ উঠেছে।
আজ মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে রাজধানীর গাবতলীর আনন্দনগর তেলের মিল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ধাওয়া-পালটা ধাওয়া ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপে বৈশাখী টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার সাইদ খান, যমুনা টেলিভিশনের রিপোর্টার রবিন এবং বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল, শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানীসহ ১৫-২০ জন আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সোয়া ১১ টার দিকে এই এলাকায় গণসংযোগ করছিলেন তাবিথ আউয়াল।
এ সময় পেছন থেকে হঠাৎ করে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে ইট পাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়। ইট তাবিথের শরীরে এসেও পড়ে। এতে আহত হন কয়েকজন কর্মী।
তাবিথের সঙ্গে থাকা বিএনপির নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, স্থানীয় ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী (ঠেলাগাড়ি প্রতীক) মুজিব সরোয়ারের মাসুমের প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে ‘জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে’ এ হামলা চালানো হয়। হামলার সময় তাবিথের গায়ে একটি ইট এসে পড়ে। এতে তিনি আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তাবিথ আউয়াল ও তার কর্মীরা ওই এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর সঙ্গে সঙ্গে একদল লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালান। এ সময় তাবিথের ওপর ডিম ছুড়েও মারা হয়।
এদিকে মিরপুর ৯নং ওয়ার্ডের বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী সাইদুল ইসলাম সাইদুল গণমাধ্যমকে বলেন, রড-বাঁশ দিয়ে আমাদের গণসংযোগে স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অতর্কিত হামলা চালায়।
‘এ সময় তাবিথ আউয়ালকে ঘুষি দিয়ে রাস্তায় ফেলে দেয়া হয়। এ ছাড়া আমাকে রড দিয়ে মারধর করা হয়।’
হামলায় তিনি ও তাবিথসহ ৭০-৮০ বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থক আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন সাইদুল।
এ বিষয়ে তাবিথ আউয়াল গণমাধ্যমকে বলেন, আমাকে টার্গেট করেই প্রতিপক্ষের দুষ্কৃতকারীরা হামলা চালিয়েছে। নির্বাচনী প্রচারণার সময় আমাদের মিছিলের পিছন থেকে এ হামলা চালানো হয়। এ সময় পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও তারা কোনো প্রতিরোধ কিংবা সন্ত্রাসীদের আটকে কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
প্রতিপক্ষের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, যতই হামলা হোক নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াব না।
হামলার পরেও গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন তাবিথ।
এদিকে এর আগে ভোটাররা যাতে সুষ্ঠু ভয়-ভীতি ছাড়া নিরপেক্ষভাবে ভোট দিতে পারে সে ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনের প্রতি দাবি জানান তাবিথ।
আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টা ৫০ মিনিটের দিকে গাবতলী পর্বত সিনেমা হলের সামনে থেকে গণসংযোগ শুরু করেন তিনি।
এরপরে তিনি ৯নং ওয়ার্ডের কোর্টবাড়ি,বাজার পাড়া, হরিরামপুর, গোলারটেক, দিয়া বাড়ি, বর্ধনবাড়ি, বাঘবাড়ি, গাবতলী বাসস্ট্যান্ড এবং ১১নং ওয়ার্ডের কল্যাণপুর বাসস্ট্যান্ড, লেকভিউ, দক্ষিণ পাইকপাড়া, বটতলা, মধ্য পাইকপাড়া, লালওয়াল, নতুন বাজার, ডি টাইপ কলোনি, কল্যাণপুর হাউজিং এস্টেট, পোড়াবস্তি, শহীদ মিনার রোড গণসংযোগ করবেন।
তাবিথ আউয়াল বলেন, ভোটারা সুষ্ঠ নির্বাচন নিয়ে শঙ্কার মধ্যে আছেন। ইভিএম নিয়ে ভোট নিয়ে জনগণের মধ্যে এক ধরনের শঙ্কা কাজ করছে। নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবে কিনা।
তিনি বলেন, ইসি নির্বাচনের তারিখ নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি করেছিল। এখন তারিখ নিয়ে সুষ্ঠ সমাধানে আসতে পেরেছে। আমরা আশা করবো ভোটারদের ভোট দেওয়ার পরিবেশ তৈরি করবে। তবে আমরা ধানের শীষের পক্ষে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। ভোটারেরা ভোট দিতে পারলে বিজয় নিশ্চিত।
ধানের শীষের প্রার্থী বলেন, আমাদের মাইক কেড়ে নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের বাধা দেওয়া হচ্ছে। এভাবে চললে ভোটারেরা ভয়ে মধ্যে থাকবে। সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন করা সম্ভব হবে না।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, সহ দপ্তর সম্পাদক বেলাল আহমেদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম, ৯নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী সাইদুল ইসলামসহ বিএনপি ও তার অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
এর আগে ১২ জানুয়ারি মিরপুর-১ নম্বরের উত্তর বিশিলে শাহআলী মাজারের সামনে পুলিশের সামনেই তাবিথ আউয়ালের প্রচার মিছিলে হামলা হয়।
ওই হামলার জন্য আওয়ামী লীগকর্মীদের দায়ী করে তাবিথ বলেন, শাহআলী মাজারের সামনে প্রচারের সময় জয়-বাংলা স্লোগান দিয়ে হামলা চালানো হয়। পুলিশের সামনেই আমাদের ওপর হামলা হয়েছে।
দিয়ে ওপর গাবতলীতে জয় বাংলা স্লোগান তাবিথের হামলা 2020-01-21