Don't Miss
Home / আইন আদালত / গৃহকর্মী আদুরী নির্যাতনে গৃহকর্ত্রীর যাবজ্জীবন

গৃহকর্মী আদুরী নির্যাতনে গৃহকর্ত্রীর যাবজ্জীবন

এমএনএ রিপোর্ট : গৃহকর্মী আদুরী (১১) নির্যাতন মামলায় প্রধান আসামি নওরীন জাহান নদীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এদিকে মামলার দ্বিতীয় আসামি নদীর মা ইসরাত জাহানের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। দন্ডপ্রাপ্ত আসামি নওরীন কারাগারে আছেন।

আজ মঙ্গলবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩-এর বিচারক জয়শ্রী সমাদ্দার এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আদুরী আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন আদুরীর মা। রায় ঘোষণার পর আদুরীর মা সাফিয়া বেগম বলেন, বিচারে তাঁরা খুশি।

এদিকে আদুরীর পক্ষে মামলা পরিচালনাকারী জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির আইনজীবী ফাহমিদা আক্তার রিংকি বলেন, ‘আমরা আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি আশা করছি। এটা যেন একটা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে। ‘

বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির নির্বাহী পরিচালক সালমা আলী বলেন, এই রায়ের মধ্য দিয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৩ সালে ২৩ সেপ্টেম্বর ১১ বছরের শিশু গৃহকর্মী আদুরীকে পল্লবীর ডিওএইচএস এলাকার একটি ডাস্টবিনে আধমরা অবস্থায় পাওয়া যায়। তখন এ নিয়ে গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার ঝড় তোলে।

এ ঘটনায় তার মামা নজরুল ইসলাম ২৬ সেপ্টেম্বর বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন। মামলায় নদী ও তার মা ছাড়াও নদীর স্বামী সাইফুল ইসলাম মাসুদ, তাদের আত্মীয় সৈয়দ চুন্নু মীর ও রনিকে আসামি করা হয়। পরে নদীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করে। আদালতে তিনি নির্যাতনের দায় স্বীকার করেন।

তদন্ত শেষে ওই বছরের ২৯ অক্টোবর নদী ও তার মাকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। পরের বছর ২০১৪ সালের ৬ জুন আদালত দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন।

আদুরী পটুয়াখালী সদর উপজেলার জৈনকাঠির কৌরাখালি গ্রামের প্রয়াত খালেক মৃধার ছোট মেয়ে। অভাবের সংসারে মা সাফিয়া বেগম দিশেহারা হয়ে ৯ সন্তানকেই গৃহপরিচারিকা হিসেবে কাজে দেন। আদুরীকে এক প্রতিবেশী চুন্নু মীরার সহযোগিতায় রাজধানীর পল্লবীতে নওরীন জাহান নদীর বাসায় পাঠানো হয়। সেখানে নানা অজুহাতে দিনের পর দিন তাকে অমানবিক নির্যাতন করা হয়। গৃহকর্ত্রী নদী তাকে দিনে একবেলা মুড়ি খেতে দিত। অন্যবেলা খাবারের বদলে তার মুখে মরিচের গুঁড়ো ঢেলে দেয়া হতো। মাঝেমধ্যে লবণ দিয়ে ভাত দিত। বাসার ব্যালকনিতে থাকতে দিত। এছাড়াও নির্যাতনে ব্যবহার করা হতো খুন্তি, গরম ইস্ত্রি, চাকু ও ব্লেড। সুস্থ হওয়ার পর এমন তথ্য দেয় আদুরী।

নির্যাতনের একপর্যায়ে নদী ও তার মা ইসরাত জাহান পল্লবীর ডিওএইচএস এলাকার একটি ডাস্টবিনে তাকে ফেলে দিয়ে যায়। সেখান থেকে দুই নারী কর্মী অর্ধমৃত অবস্থায় উদ্ধার করে তাকে। পরে পুলিশের সহায়তায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতলে ভর্তি করা হয়। দেড় মাস চিকিৎসার পর সুস্থ হলে পরিবারের কাছে আদুরীকে হস্তান্তর করা হয়।

আদুরী বর্তমানে জৈনকাঠি ছালিয়া দাখিল মাদ্রাসায় তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ছে।

আদুরীর মা সাফিয়া বলেন, ব্যথায় প্রতি রাতে মেয়ে চিৎকার করে। এখন প্রয়োজন সুচিকিৎসা। অভাবের কারণে আদুরীর চিকিৎসা ও লেখাপড়ার খরচ চালাতে পারছেন না বলে জানান তিনি।

x

Check Also

একটি মামলায় সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি কারাগারে থাকা সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস একটি মামলায় জামিন পেয়েছেন। ...