Don't Miss
Home / শিল্প ও বাণিজ্য / ঘুরে দাঁড়িয়েছে চামড়াজাত পণ্য রফতানি
রফতানি বৃদ্ধির জন্য সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ

ঘুরে দাঁড়িয়েছে চামড়াজাত পণ্য রফতানি

এমএনএ শিল্প ও বাণিজ্য ডেস্ক : দীর্ঘদিন সঙ্কটে থাকা চামড়া ও চামড়জাত পণ্যের রফতানি কমছিল। রফতানি বৃদ্ধির জন্য সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও তেমন সুবিধা হচ্ছিল না। শুধু সরকারি পর্যায় নয়, বেসরকারিভাবে রফতানি বৃদ্ধির জন্য নানা উদ্যোগ হাতে নিয়েছিল। সেই উদ্যোগগুলোর সুফল আসতে শুরু করেছে। দীর্ঘদিন পতনে থাকা চামড়া খাত ফের জেগে উঠছে। রফতানি আয়ও বাড়তে শুরু করেছে।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, উৎপাদকরা জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে ৭৮ কোটি ৪৯ লাখ ডলারের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রফতানি করেছেন। যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ২৯ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারিতে রফতানি হয়েছিল ৬০ কোটি ৫৫ লাখ ডলার। ২০১৯-২০ অর্থবছরে একই সময়ে ৬৩ কোটি ১৮ লাখ ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছিল।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৮ মাসে চামড়া, চামড়াজাত পণ্য ও চামড়ার তৈরি ফুটওয়্যার পণ্যের রফতানি বেড়েছে যথাক্রমে ৩৬ দশমিক ৬১ শতাংশ, ৩৫ দশমিক ৩৪২ শতাংশ এবং ২৫ দশমিক ৮৯ শতাংশ। রফতানিকারকরা বলছেন, চামড়া খাতে প্রচুর ক্রয়াদেশ আসছে। সামনে আরও রফতানি বাড়বে। বাংলাদেশের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের প্রধান বাজার হচ্ছে ইউরোপের দেশগুলো। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানসহ আরও কয়েকটি দেশে রফতানি হয় এই পণ্য।

মহামারি করোনার কারণে প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে এই দেশগুলো। ছোট-বড় সব ধরনের শপিংমল খুলেছে। মানুষজন এখন পুরোদমে কেনাকাটা করছে। অর্থনীতি আবার গতি ফিরে এসেছে। অন্যান্য পণ্যের মতো চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের চাহিদাও বাড়ছে। সে কারণেই রফতানি বাড়ছে বলে জানিয়েছেন রফতানিকারকরা।লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বিশ্বে জুতার মোট বাজারের ৫৫ শতাংশ চীনের দখলে। ভারত ও ভিয়েতনামেরও ভালো অবস্থান আছে। বিশে^ জুতার বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান ১৮তম। তবে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের এ খাতে অবদান মাত্র ১ দশমিক ৭ শতাংশ।

করোনার পর তৈরি পোশাকের মতো চামড়া খাতের রফতানিতেও নতুন সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। প্রধান রফতানিকারক দেশ চীনের কিছু অর্ডার বাংলাদেশে আসতে শুরু করেছে। ভিয়েতনাম থেকেও অর্ডার আসছে। এসব সুযোগ ভালোমতো কাজে লাগাতে পারলে ভবিষ্যতে রফতানি আরও বাড়বে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের রফতানিকারকরা।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) পরিসংখ্যানে আরও দেখা যায়, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রফতানি করে ১১৩ কোটি ডলার আয় করেছিল বাংলাদেশ। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে তা বেড়ে ১১৬ কোটি ডলারে দাঁড়ায়। ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে এই আয় আরও বেড়ে হয় ১২৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার, যা ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে চামড়া শিল্প থেকে সবচেয়ে বেশি রফতানি আয়। এরপর থেকেই ধস নামে এ খাতের রফতানিতে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে তা ১০৮ কোটি ৫৪ লাখ ডলারে নেমে আসে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে তা আরও কমে ১০২ কোটি ডলারে নামে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে তা আরও কমে ৭৯ কোটি ৭৬ লাখ ডলারে নেমে আসে।

মহামারির মধ্যেও ২০২০-২১ অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রফতানি থেকে ৯৪ কোটি ১৭ লাখ ডলারের বিদেশি মুদ্রা দেশে এনেছেন বাংলাদেশের রফতানিকারকরা। টাকার হিসাবে এই অর্থের পরিমাণ ৮ হাজার কোটি টাকার বেশি। আগের বছরের চেয়ে রফতানি বেড়েছিল ১৮ শতাংশ। অর্থবছরের প্রথম ভাগে এ খাতের রফতানিতে ধস নামলেও দ্বিতীয় ভাগে এসে তা ঘুরে দাঁড়িয়ে প্রবৃদ্ধিতে ফিরে আসে।

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের শুরু থেকেই চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রফতানিতে ইতিবাচক ধারা লক্ষ করা যায়। প্রতি মাসেই বেড়েছে রফতানি। সর্বশেষ তথ্যে দেখা যাচ্ছে, অর্থবছরের প্রথম ৮ মাসে (জুলাই- ফেব্রুয়ারি) এ খাতের রফতানি থেকে ৭৮ কোটি ৪৯ লাখ ডলার দেশে এসেছে। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৯ শতাংশ; লক্ষ্যের চেয়ে আয় বেড়েছে প্রায় ১৪ শতাংশ।

এই আয়ের ৪৭ কোটি ৫০ লাখ ডলারই চামড়ার জুতা রফতানি থেকে। চামড়া দিয়ে তৈরি ব্যাগ, লাগেজ, মানিব্যাগ, বেল্টসহ অন্যান্য পণ্য রফতানি করে। কাঁচা ও ওয়েট-ব্লু চামড়া রফতানি করে এই ৮ মাসে আয় হয়েছে ১০ কোটি ২ লাখ ডলার। গত বছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে এই খাত থেকে ৬০ কোটি ৫৬ লাখ ডলার আয় করেছিল বাংলাদেশ। চামড়াজাত পণ্যের রফতানি বৃদ্ধি করতে নানা উদ্যোগ হাতে নিয়েছে সরকার। এই খাতকে পরিবেশবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে ২০০৩ সালে হাজারীবাগ থেকে চামড়া শিল্পনগরী সাভারে স্থানান্তরে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। তিন বছরের মধ্যে প্রকল্প শেষের কথা ছিল। কিন্তু দেড় যুগ শেষ হতে চললেও এই শিল্পনগরী এখনও পরিবেশবান্ধব হয়ে ওঠেনি।

প্রকল্প শেষ না হলেও ২০১৭ সালে উচ্চ আদালত হাজারীবাগের চামড়া কারখানা বন্ধের ঘোষণা দেয়। ফলে সব কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। এর মধ্যে বেশ কিছু চামড়া কারখানার বৈশ্বিক প্লাটফর্ম লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের (এলডব্লিউজি) সনদ ছিল। এ সনদের সুবাদে তারা জাপান, কোরিয়াসহ ইউরোপ-আমেরিকায় চামড়া রফতানি করতে পারত। হাজারীবাগে কারখানা বন্ধ হওয়ায় সেই সনদ ও বায়ার (বিদেশি ক্রেতা) হারায় চামড়া শিল্প কারখানাগুলো।

এত দীর্ঘ সময়েও সাভারের চামড়া শিল্পনগরী পূর্ণাঙ্গভাবে প্রস্তুত না হওয়ায় এখনও এলডব্লিউজির সনদ ফিরে পায়নি কারখানাগুলো। একই সঙ্গে নতুন বাজার সৃষ্টি হয়নি। সনদ না থাকায় জাপান, কোরিয়াসহ ইউরোপ-আমেরিকায় এলডব্লিউজির আওতায় চামড়া রফতানি করতে পারছে না কারখানাগুলো।

x

Check Also

বাজেটে ব্যবসায়ীদের ওপর বাড়তি চাপ আসছে না: বাণিজ্যমন্ত্রী

এমএনএ প্রতিবেদক আসন্ন ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে দেশের ব্যবসায়ীদের ওপর কোনো অতিরিক্ত চাপ বা নেতিবাচক ...