
এমএনএ সাইটেক ডেস্ক : বাসটি দেখে সায়েন্স ফিকশন ছবির কোন গাড়ি বলে মনে হতে পারে, কিন্তু ভবিষ্যতের এই কনসেপ্ট বাস এখন চলতে শুরু করেছে চীনের রাস্তায়। বিবিসির খবরে বলা হয়, চলতি সপ্তাহে বাসটি উত্তর চীনের হেবেই প্রদেশের রাজপথে প্রথমবারের মতো নামানো হয়। এ পরীক্ষামূলক চালনাটি করা হয়েছে কিনহুয়াংদাও শহরে।
গত মে মাসে এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তির বাসের একটি ক্ষুদ্র মডেল দেখানো হয়েছিল ভিডিওতে। সাড়া পড়ে গিয়েছিল সাড়া বিশ্বে। এতো দ্রুত সেটা বাস্তবে রূপ নেবে সেটা কেউই বোধ হয় ভাবেনি। কিন্তু মাত্র ৩ মাসের মধ্যেই রাস্তায় একে নামিয়ে ফেলেছে চীন।

এই বাসটি সাধারণ বাসের মত নয়। এটি ট্রানজিট এলিভেটেড বাস (টিইবি)। এটি লম্বায় প্রায় ৭৩ ফুট (২২ মিটার), ২৬ ফুট চওড়া (৭.৮ মিটার) ও প্রায় ১৫ ফুট (৪.৮ মিটার) উঁচু টিইবি-১ এর ধারণক্ষমতা তিনশো। বিদ্যুৎচালিত এই বাস তিনশো যাত্রী নিয়ে এটি পথের সব গাড়ির ওপর দিয়ে চলবে। নিচের অংশে ২ মিটার ফাঁকা থাকায় টিইবির নিচ দিয়ে অনায়াসেই চলবে প্রাইভেট কার, ভ্যান ও অন্য যানবাহন। টিইবির গতি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিমি।

সাধারণ বাসেরমত বড় বড় চাকায় ভর দিয়ে নয়, বরং ট্রাম রাস্তার দুই প্রান্তে বসানো ট্রাম লাইনের মত ছঁকে আকা ট্র্যাকে চলবে বিশালাকৃতির এই বাস। কিন্তু এতে রাস্তার অন্যান্য যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন হবে না। নিচে দিয়ে চলবে কার।
চীনের পরিবহণ দপ্তর অনেক চিন্তাভাবনা করে চালু করেছে এই প্রোজেক্ট। এটি জনবহুল চীনের গণপরিবহণে বড় ভূমিকা রাখবে বলেই তাদের ধারণা। এদিকে আবার পাতাল রেল নির্মাণ ব্যয়ের পাঁচ ভাগের এক ভাগ খরচেই এই ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব হচ্ছে।

টিইবি-১ এর গতিরোধ সিস্টেম মূল্যায়ন, চলাচল ও শক্তি খরচ সবকিছু পর্যবেক্ষণ করেছে টিইবি নির্মাণে সহায়ক কোম্পানি টেবটেক।
টিইবি-১ এর প্রতি ইতোমধ্যে ব্রাজিল, ফ্রান্স, ভারত ও ইন্দোনিয়ার সরকার আগ্রহ দেখিয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে ১৯তম চীনা বেইজিং ইন্টারন্যাশনাল হাই-টেক এক্সপোতে টিইবির নকশা উন্মোচন করা হয়।
ইঞ্জিনিয়াররা প্রত্যাশা করছেন, এই নকশা রাস্তার প্রশস্ততা বাড়াতে সাহায্য করবে। পাশাপাশি রোজকার বাসের চেয়ে ট্রাফিক জ্যাম কমাতে সাহায্য করবে।

ভবিষ্যৎ সংস্করণে টিইবি একহাজার দুইশো যাত্রী বহন করতে পারবে। এমন একটি টিইবি তৈরি করতে সময় লাগবে আরও এক বছর। জানান টিইবি প্রোজেক্টের ইনচার্জ বাই ঝিমিং।
এর নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের প্রধান প্রকৌশলী সং ইউঝাউ বলেছেন, বাসটি শুধু বড় অংশের যাত্রী পরিবহনই নয়, অন্তত ৮শ’ টন জ্বালানিও বাঁচাবে। সেইসঙ্গে ২৪৮০ কার্বন কম নির্গমন হবে। সড়কে এমন অভিনব যানের চলাচল নিশ্চিত করা গেলে কমে আসবে যানজট।
টিইবির পরীক্ষামূলক চালনা সম্পন্ন হলেও বছরের শেষে তা চীনে স্বাভাবিকভাবে চলচলের জন্য নামানো হবে।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

