ছয় বছর পর দেশে ফিরলেন মালালা ইউসুফজাই
Posted by: News Desk
March 29, 2018
এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : তালেবান জঙ্গিদের গুলিতে আহত হওয়ার ঘটনার ছয় বছর পর দেশে ফিরেছেন শান্তিতে নোবেলজয়ী পাকিস্তানের নারীশিক্ষা আন্দোলনের কর্মী মালালা ইউসুফজাই।
২০১২ সালে নারী শিক্ষার প্রচারোণা চালানোর সময় এক তালেবান বন্দুকধারীর গুলিতে আহত হন মালালা। তার মাথায় গুলি লাগে।
সংকটাপন্ন অবস্থায় কিশোরী মালালাকে যুক্তরাজ্যে নিয়ে গিয়ে বার্মিংহ্যাম শহরের কুইন এলিজাবেথ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে দীর্ঘ চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে ওঠেন মামলা।
এরই মধ্যে তাকে নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। মালালা হয়ে ওঠেন নারী অধিকার ও নারীশিক্ষার পক্ষে এক বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। সেদিনে কিশোরী মালালা এখন ২০ বছরে পা দিয়েছেন।
নারীশিক্ষা ও মানবাধিকার কর্মী ২০ বছর বয়সী মালালা এই সফরকারে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শহিদ খাকান আব্বাসির সঙ্গে এক বৈঠকে বসতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে ক্রমাগত জঙ্গিদের হামলার ঝুঁকির মধ্যে থাকা দেশ পাকিস্তানে মালালার উপস্থিতির স্পর্শকাতরতার কারণে বৈঠকটির সময়, স্থান ইত্যাদির ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
পাকিস্তানে মালালার সফর সম্পর্কে এক কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, সংবেদনশীলতার কারণে তার এই সফর সম্পর্কে বিস্তারিত বিষয়গুলো গোপন রাখা হয়েছে।
পাকিস্তানের বেশ কিছু গণমাধ্যম ও টেলিভিশনের ফুটেজে দেখা যায় নিশ্ছিদ্র, নজিরবিহীন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে ইসলামাবাদের বেনজির ভুট্টো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মালালা তার বাবা-মায়ের সঙ্গে বিমান থেকে নেমে আসছেন।
-

-
জাতিসংঘের একটি স্পেশাল বিমান থেকে নামছেন মালালা ইউসুফজাই।
স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, পাকিস্তানে চারদিনের সফর করবেন মালালা। তিনি তার মালালা ফান্ড গ্রুপের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে পাকিস্তানে পৌঁছেছেন। এই সফরে তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শহীদ খাকান আব্বাসীর সঙ্গে বৈঠক করবেন।
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সোয়াত অঞ্চলে মালালার পিতৃনিবাস ছিল। এই সফরে নিজ শহর সোয়াতের সেই পুরনো বাড়িতে মালালা যাবেন কিনা তা এখনও নিশ্চিত নয়। পর্বতসঙ্কুল এই জায়গাটি পাকিস্তানের প্রত্যন্ত উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত। সেখানে তালেবানসহ বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠির প্রবল দৌরাত্ম্য রয়েছে।
তার এই দেশে ফেরাকে মানবাধিকারকর্মী ও সংস্থাগুলো স্বাগত জানিয়েছে। মুক্তমনা মানুষজনের শুভেচ্ছার বন্যা বইছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
১৪ বছর বয়সে মালালা স্কুলবাসে করে যাওয়ার সময় তালেবানের হামলার শিকার হয়। তার ওপর হামলার ঘটনা বিশ্বজুড়ে তাকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসে। মারাত্মক আহত অবস্থায় তাকে পাকিস্তানের একটি সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তিনি তার পরিবার নিয়ে থাকতে শুরু করেন।
সুস্থ হওয়ার পর মালালা নতুন করে আবারও বিশ্বজুড়ে শিশু শিক্ষা এবং শিশু অধিকারের প্রতি সোচ্চার হয়ে ওঠেন। তিনি তার বাবার সহায়তায় মালালা ফান্ড গড়ে তোলেন। এর লক্ষ্য হচ্ছে এমন একটি বিশ্ব গড়ে তোলা যেখানে সব নারী শিক্ষা অর্জন করতে পারবে এবং তারা কোনো ভয় বা আতঙ্ক ছাড়াই নেতৃত্ব দিতে পারবে।
২০১৪ সালে সর্বকনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান মালালা। তিনি এবং ভারতীয় কর্মী কৈলাস সাতিয়ারথি যৌথভাবে শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করায় নোবেল পুরস্কার পান।
দেশে পর ফিরলেন ছয় বছর মালালা ইউসুফজাই 2018-03-29