এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : মিয়ানমারের চলমান সহিংসতা নিয়ে আলোচনা করতে আগামী বৃহস্পতিবার বৈঠক করবে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। কূটনীতিকরা বলছেন, ওই বৈঠকে রাখাইন প্রদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলবেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।
এফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মিয়ানমারে সামরিক দমনপীড়নের কারণে চার লাখ ৩০ হাজারের বেশী লোক পালিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করায় ব্রিটেন, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র এবং অপর চারটি দেশের আবেদনের প্রেক্ষিতে পরিষদ এ বৈঠকে করতে যাচ্ছে। দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া এসব লোকের অধিকাংশ রোহিঙ্গা মুসলিম।
মিয়ানমার ইস্যুতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকের জন্য মিশর, কাজাখস্তান, সেনেগাল ও সুইডেনও আবেদন জানায়। দেশগুলোর কোনটিই জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য নয়।
এদিকে এ বিষয়ে উন্মুক্ত অধিবেশনে জাতিসংঘ মহাসচিবের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের আগে আজ মঙ্গলবার নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের মিয়ানমারের হালনাগাদ পরিস্থিতি সম্পর্কে জানানো হবে।
এর আগে এ মাসের গোড়ার দিকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ সহিংসতা বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার আহবান জানিয়েছিল।

রাখাইনে সেনাবাহিনীর অভিযানকে জাতিগত নিধন বলে বর্ণনা করেছে জাতিসংঘ। এছাড়া গত সপ্তাহে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাঁক্রো ওই অভিযানকে গণহত্যা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এছাড়াও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপ এরদোগান সংখ্যালুঘু মুসলমানদের বিরুদ্ধে ‘বৌদ্ধ সন্ত্রাস’ চালানোয় মিয়ানমারকে দায়ী করে এ গণহত্যার কঠোর নিন্দা জানান।
গত ২৫ আগস্ট বেশ কয়েকটি পুলিশ চেক পোস্টে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাখাইনে সেনা মোতায়েন করে মিয়ানমার সরকার। তারপরই দ্বিতীয়বারের মতো সহিংসতা শুরু হয় রাখাইনে।
সেখানে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর নির্যাতন, নিপীড়ন, হত্যা, ধর্ষণ এবং রোহিঙ্গাদের বাড়ি-ঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে সেনাবাহিনী।
নিরাপত্তা পরিষদের চার অস্থায়ী সদস্য দেশ মিসর, কাজাখস্তান, সেনেগাল এবং সুইডেনও জরুরি বৈঠকের জন্য জাতিসংঘকে অনুরোধ জানিয়েছে।
এর আগে চলতি মাসের ১৩ তারিখে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা করতে জরুরি বৈঠক ডাকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। ওই বৈঠকে রাখাইন রাজ্যের সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর সে দেশের সেনাবাহিনীর অভিযান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

