Don't Miss
Home / আজকের সংবাদ / জাপানের নির্বাচনে শিনজো আবের বড় জয়

জাপানের নির্বাচনে শিনজো আবের বড় জয়

এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : জাপানের আগাম নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে ও তার নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি বড় ধরনের জয় পেয়েছে। এ নিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো জাপানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হলেন শিনজো আবে।
এর আগে ২০১২ সালে দ্বিতীয়বারের মতো সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতা গ্রহণ করেন আবে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর শিনজো আবেই দেশটিতে সর্বাধিকবার নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী।
দেশটির দ্বিকক্ষবিশিষ্ট পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের ৪৬৫ আসনের মধ্যে ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ও জোটের অপর দল কোমেইতো পার্টি মিলে ৩১৩ আসন পেয়েছে। খবর জাপান টাইমস ও সিএনএনের।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রথমবারের মতো কোনো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শিনজো আবে তিন দফায় ক্ষমতায় সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদ পার করবেন।
সাধারণ নির্বাচনের স্বাভাবিক সময় অনুযায়ী, আগামী বছর ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আবে সংসদ ভেঙে আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দেন।
নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে আবে দেশটির সংবিধান পরিবর্তনের উদ্যোগ নিচ্ছেন। এ জয়ের ফলে সংবিধান সংশোধনে তাদের আর কোনো বাধা থাকবে না।
নির্বাচনে জয়ী হয়ে আজ সোমবার টোকিওতে এক সংবাদ সম্মেলনে তার প্রতি আস্থা রাখার জন্য দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানান শিনজো আবে।
তিনি বলেন, তার প্রধান কাজ হবে দেশবাসীর নিরাপত্তার স্বার্থে উত্তর কোরিয়া পাগলামীর সমুচিত জবাব দেয়া।

গতকাল রবিবার সকালে শুরু হওয়া ভোট ঘূর্ণিঝড়ে বাধাগ্রস্ত হয়। কয়েক হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। ৪৭ প্রদেশে সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে।
পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের ৪৬৫ আসনে ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), টোকিওর প্রথম নারী গর্ভনর ইরিকো কইকের নেতৃত্বাধীন কিবো নো তো পার্টি এবং প্রধান বিরোধীদল ডেমোক্রেটিক পার্টির (ডিপি) নেতৃত্বাধীন জোট প্রতিযোগিতা করে।
দৃঢ়ভাবে উত্তর কোরিয়াকে দমন করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রচারণা চালিয়েছেন আবে। তিনি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমাদের কাছে এটাই বড় চ্যালেঞ্জ। জাপানের জনগণের সুরক্ষা এবং উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে বিশ্ব ঐক্য গড়তে সর্বাধিক গুরুত্ব দেবে সরকার।’
স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে জানানো হয়েছে, পার্লামেন্টের দুই তৃতীয়াংশ ভোটে জয়ী হয়েছে শিনজো আবের ক্ষমতাসীন দল। এলডিপি থেকে বের হয়ে কিবো নো তো দল গঠন করেন টোকিওর প্রথম নারী গর্ভনর ইরিকো কইকে। নির্বাচনের মাত্র এক মাস আগেই তিনি এই দল গঠন করেন। তার দল পেয়েছে ৫০টি আসন।
নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম ভালো করব, কিন্তু পারিনি। এটা সত্যিই আমাদের জন্য খুব কষ্টকর একটি দিন।’ তবে তিনি জনগণের রায় মেনে নিয়েছেন।
আবের এই জয়ের ফলে জাপানের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সংস্কার পরিকল্পনা আবেনোমিক্স আগের মতোই পরিচালিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে অর্থনৈতিক ধস এবং দু’টি দুর্নীতি কেলেঙ্কারীর অভিযোগে আবে সরকারের জনপ্রিয়তায় ধস নেমেছিল।
কিন্তু উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র এবং ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে জনগণকে দেয়া আবের প্রতিশ্রুতি এবং বেশ কিছু কার্যক্রমের কারণে তার জনপ্রিয়তা আবার বাড়তে শুরু করে। পিয়ংইয়ংয়ের ক্রমাগত হুমকির মুখে নিজের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়েই আগাম নির্বাচন ডেকে বসেন আবে।
x

Check Also

ব্যাংক রেজুলেশন আইন ২০২৬ দুর্নীতি সহায়ক, লুটেরাদের পুনর্বাসন আত্মঘাতী: টিআইবি

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক সদ্য পাস হওয়া ব্যাংক রেজুলেশন আইন, ২০২৬ নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনার ...