জাফর ইকবালের ওপর হামলার প্রতিবাদে শিক্ষকদের কর্মবিরতি
Posted by: News Desk
March 5, 2018
এমএনএ রিপোর্ট : সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অধ্যাপক জাফর ইকবালের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির আয়োজনে দুই ঘণ্টার প্রতীকী অবস্থান ও কর্মবিরতি পালন করেছেন।
প্রতিবাদ কর্মসূচীতে অপরাধীদের শাস্তি দাবিতে কালো ব্যাজ ধারণ করে প্রতীকী অনশন ও কর্মবিরতি পালন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন-২–এর সামনে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফরিদউদ্দন আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ ইলিয়াস উদ্দীন বিশ্বাস, শিক্ষক সমিতির সভাপতি সৈয়দ হাসানুজ্জামান শ্যামল, সাধারণ সম্পাদক জহীর উদ্দিন আহমেদ, সমিতির সাবেক সভাপতি কবির হোসেন, আরেক সাবেক সভাপতি সৈয়দ শামসুল আলম, ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক মো. রাশেদ তালুকদার, ক্যামিকৌশল ও পলিমার বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মো. আখতারুল ইসলামসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা এই কর্মসূচিতে অংশ নেন।
শিক্ষকেরা এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ আমরা সবাই ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করব।’ বড় ধরনের আঘাত থেকে ড. জাফর ইকবাল রক্ষা পাওয়ায় তিনি সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ জানান।
সভাপতি সৈয়দ হাসানুজ্জামান বলেন, এই ক্যাম্পাসে মুক্তচিন্তা বন্ধ করে দেওয়া যাবে না। ক্যাম্পাসে নবীনবরণসহ সকল অনুষ্ঠান হবে নিয়মনীতি মেনেই। সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিতককরণের স্বার্থে একটি নিরাপত্তা নীতি তৈরি করার দাবি ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জানানো হয়েছে।
জহীর উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘জাফর ইকবালের ওপর হামলা মানেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ওপর হামলা। আমরা এ ধরনের হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। প্রকাশ্যে এ ধরনের নৃশংস হামলার ঘটনার দ্রুত বিচার না হলে এ ধরনের হামলার ঘটনা বাড়তে পারে।’
-

-
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন-২ এর সামনে আজ সোমবার প্রতীকী অবস্থান ও কর্মবিরতি পালন করেন শিক্ষকরা।
-

-
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন-২ এর সামনে আজ সোমবার প্রতীকী অবস্থান ও কর্মবিরতি পালন করেন শিক্ষকরা।
-

-
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন-২ এর সামনে আজ সোমবার প্রতীকী অবস্থান ও কর্মবিরতি পালন করেন শিক্ষকরা।
শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. ফারুক উদ্দিন বলেন, দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি পত্রিকায় আনসারুল্লাহ বাংলা টিমে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১ ছাত্রের জড়িত থাকার বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন হয়েছ। তারপরও এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। নিলে হয়তো এ ঘটনা ঘটত না।
এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং এবং সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ যৌথভাবে মৌন মিছিল বের করে। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ক্যাম্পাসের এম এ ওয়াজেদ মিয়া আইআইসিটি ভবনের সামনে থেকে মিছিলটি বের হয়। মিছিলটি পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এসে শেষ হয় এবং সমাবেশ করে। সেখানে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক জহিরুল ইসলাম, শহীদুর রহমান, রেজা সেলিম ও সাইফুল ইসলাম বক্তব্য দেন।
মৌন মিছিলে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘আমাদের প্রিয় জাফর ইকবাল স্যারের ওপর হামলার খুব দ্রুত বিচার হতে হবে। এটি শুধু স্যারের ওপর হামলা নয়, সারা দেশের সবার ওপর হামলা।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিএসই বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. শহিদুর রহমান, অধ্যাপক ড. মো. রেজা সেলিম, অধ্যাপক ড. মো. জহিরুল ইসলাম, সহযোগী অধ্যাপক মো. মাসুম, সহকারী অধ্যাপক মো. সাইফুল ইসলাম এবং ইইই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. মেহেদী হাসান নাহিদ প্রমুখ।
এদিকে অধ্যাপক জাফর ইকবালের ওপর হামলা ও জড়িতদের শাস্তি দাবিতে আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ভবনের সামনে থেকে একটি প্রতিবাদ র্যালি করার ঘোষণা দিয়েছে শিক্ষক সমিতি। আজ সোমবার প্রতীকী অবস্থান কর্মসূচি থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। শাবির সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এ এইচ বেলায়েত হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রসঙ্গত, গত শনিবার সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে এক অনুষ্ঠানে দর্শকসারিতে থাকা জাফর ইকবালের পেছন থেকে তাঁর ওপর ফয়জুর রহমান নামের এক যুবক ছুরি দিয়ে হামলা চালায়। হামলার পর রক্তাক্ত অবস্থায় জাফর ইকবালকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর শরীরে ছয়টি আঘাত আছে। তবে তিনি শঙ্কামুক্ত।
গতকাল রবিবার ব্রিফিংয়ে সিএমএইচের কনসালট্যান্ট সার্জন মেজর জেনারেল মুন্সী মুজিবুর রহমান বলেন, অধ্যাপক জাফর ইকবালের মাথায় চারটি, পিঠের ওপরে ও বাঁ হাতে একটি করে আঘাত আছে। সব মিলিয়ে তাঁর শরীরে মোট ছয়টি আঘাত আছে। তিনি এখন শঙ্কামুক্ত। তাঁর মানসিক অবস্থাও ভালো।
শিক্ষকদের হামলার ওপর কর্মবিরতি প্রতিবাদে জাফর ইকবালের 2018-03-05