জাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো প্রশাসনিক ভবন অবরোধ
Posted by: News Desk
September 4, 2019
এমএনএ রিপোর্ট : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে গাছ কেটে অপরিকল্পিতভাবে হল নির্মাণসহ উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগের বিচার বিভাগীয় তদন্তসহ তিন দফা দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করেছেন একদল শিক্ষক-শিক্ষার্থী। এতে প্রশাসনিক ভবনের সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ও পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে অবস্থান নিয়েছেন তারা। এ অবস্থান চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত।
দাবিগুলো হলো- ১. বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের পাশের তিনটি হল স্থানান্তর করে নতুন জায়গায় দ্রুত কাজ শুরু করতে হবে। ২. মেগা প্রজেক্ট এর টাকার দুর্নীতির ব্যাপারে বিচারবিভাগীয় তদন্ত করতে হবে। একই সঙ্গে টেন্ডারের সিডিউল ছিনতাইকারীদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। ৩. মেগা প্রজেক্ট এর বাকি স্থাপনাগুলোর কাজ স্থগিত রেখে সকল স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে মাস্টারপ্ল্যান পুনর্বিন্যাস করে কাজ শুরু করতে হবে।
এর আগে গতকাল মঙ্গলবারও প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করে অবস্থান নেন তারা। এতে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ভবনে প্রবেশ করতে না পারায় স্থবির ছিল সব ধরনের দাপ্তরিক কার্যক্রম।
তবে প্রশাসনের দুর্নীতির অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে একইদিন সংবাদ সম্মেলন করেন একদল সিনেটর। এদিন বেলা ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানবিক অনুষদের লাউঞ্জে সংবাদ সম্মেলন করেন উপাচার্যপন্থী সিনেটররা। এতে ভিন্ন মতাদর্শী অন্তত ১৯ জন সিনেটর উপস্থিত ছিলেন।
অপরদিকে এক সংবাদ বিবৃতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট থেকে নির্বাচিত ১৯ জন সিনেট সদস্য।
বিবৃতিতে তারা উল্লেখ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান মেগা প্রকল্প সম্পর্কে সিন্ডিকেট ও সিনেট সভায় উপস্থাপন করা হয়নি এবং তাদের কোনো মতামত গ্রহণ করা হয়নি। মহাপরিকল্পনায় যথাযথ ধাপ অনুসরণ করা হয়নি এবং সব অংশীজনের সঙ্গে আলোচনাও করা হয়নি।
তারা বলেন, মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য যে কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের কারও এত বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের যোগ্যতা নেই। উপাচার্য তার ব্যক্তিগত সচিবসহ অনুগত ও অদক্ষ ব্যক্তিদের প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটিতে রেখেছেন। বিবৃতিতে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও বিচার বিভাগীয় তদন্তেরও দাবি করেন এই সিনেটররা।
আন্দোলনকারীরা জানান, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অপরিকল্পিতভাবে গাছ কেটে নতুন পাঁচটি হলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে হলগুলোর নির্মাণের প্রাথমিক কাজ শুরু করেছে। এ ছাড়া কয়েকটি গণমাধ্যমে উন্নয়ন প্রকল্পের দুই কোটি টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মাঝে ভাগবাটোয়ারা করে দেওয়ার অভিযোগ তুলে খবর প্রকাশিত হয়।
এসব অনিয়মের কারণে গত কয়েকদিন ধরেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের একাংশ আন্দোলন করে আসলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এসব অভিযোগ শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসছে। তাই দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা তিন দফা দাবি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ও পুরাতন প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করে গতকাল থেকে নতুন করে আন্দোলন শুরু করে।
প্রসঙ্গত বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান মেগা প্রকল্পের মাস্টার প্ল্যান অস্বচ্ছ ও অপূর্ণাঙ্গ বলে দাবি করে আন্দোলন করে আসছেন একদল শিক্ষক-শিক্ষার্থী। ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে তিন দফা দাবিতে গতকাল মঙ্গলবার সারা দিন দুটি প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করেন তারা।
এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এদিন কোনো দাপ্তরিক কাজ সম্পাদন হয়নি। অবরোধ কর্মসূচি পালন শেষে আজ ও আগামীকাল অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
প্রশাসনিক ভবন অবরোধ কর্মসূচি পালনের ধারাবাহিকতায় আজ দ্বিতীয় দিনের মতো অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে তারা। আন্দোলনকারীদের পূর্বের ঘোষণা অনুযায়ী প্রশাসনিক ভবন অবরোধ কর্মসূচি পাল শেষে আজ ও আগামীকাল অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে আন্দোলনকারীরা।
ভবন দ্বিতীয় দিনের প্রশাসনিক অবরোধ মতো জাবিতে 2019-09-04