Don't Miss
Home / হোম স্লাইডার / জামায়াত নিষিদ্ধের ইস্যুতে ক্ষমতাসীনদের টালবাহানা

জামায়াত নিষিদ্ধের ইস্যুতে ক্ষমতাসীনদের টালবাহানা

এমএনএ ডেস্ক রিপোর্ট : রাজনৈতিক কৌশলগত কারণ এবং লাভক্ষতির দোটানায় জামায়াত নিষিদ্ধের ইস্যুতে সুস্পষ্ট কোন অবস্থান না নিয়ে ক্ষমতাসীনরা শুরু করেছে টালবাহানা।

যুদ্ধাপরাধ বিচার ট্রাইব্যুনাল প্রায় তিন বছর আগে জামায়াতকে সন্ত্রাসী সংগঠন (ক্রিমিনাল অর্গানাইজেশন) হিসেবে চিহ্নিত করলেও অদ্যাবধি নিষিদ্ধ হয়নি দলটি। এ ব্যাপারে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা দীর্ঘদিন ধরে জোরালো দাবি জানিয়ে আসছে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে স্বাধীনতাবিরোধী এ সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করতে নানা টালবাহানা করছে সরকারের সংশ্লিষ্টরা। জামায়াতে ইসলামীকে আদৌ নিষিদ্ধ করা হবে কিনা, হলেও তা কবে নাগাদ হবে- সে ব্যাপারে সুস্পষ্টভাবে কোনো মন্তব্য করতে পারছেন না সরকারের কোনো নীতিনির্ধারক।

অনেকের মতে, বিভিন্ন সভা-সমাবেশ এবং আলোচনা সভায় সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ নীতিনির্ধারকরা মুখে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করা হবে বলে দাবি করলেও বাস্তবে এ ইস্যুতে চলছে টালবাহানা।

তাদের মতে, রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবেই জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই ঝুলিয়ে রেখেছে ক্ষমতসীনরা। এ ব্যাপারে লাভক্ষতির হিসাব কষছেন তারা।

গত বছরের ১৭ নভেম্বর এক অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ খোলেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক।

Jamat-E-Islamiওই সভায় তিনি বলেছিলেন, ‘জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করতে নতুন বছরের (জানুয়ারি-২০১৬) শুরুতেই জাতীয় সংসদে বিল আসছে। এ সংক্রান্ত আইনের খসড়া ডিসেম্বরে মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। জানুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এটি বিল আকারে উত্থাপনের পরিকল্পনা আছে।’

এরও আগে বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপের ১২২তম পর্বে অংশ নিয়ে তথ্যমন্ত্রী ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) একাংশের সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেছিলেন, ‘জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি নিষিদ্ধের ব্যাপারে শক্ত অবস্থানে রয়েছে সরকার। তবে নির্বাহী আদেশে নিষিদ্ধ করার কথা এখনই ভাবা হচ্ছে না। কেননা জামায়াতকে নিয়ে একটি মামলা বিচারাধীন আছে। সেজন্য আদালতের দিকেই তাকিয়ে আছে সরকার।’

জামায়াত নিষিদ্ধের ব্যাপারে সরকারের একটা নীতিগত অবস্থান আছে। তাহলে কেন তাদের নির্বাহী আদেশে নিষিদ্ধ করা হচ্ছে না? বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে এমন প্রশ্নের জবাবে হাসানুল হক ইনু আরও বলেছেন, ‘নির্বাহী আদেশে জামায়াত নিষিদ্ধের বিষয়টি সরকার পরীক্ষা করে দেখেছে। তবে যেহেতু একটি মামলা আদালতে বিচারাধীন আছে, তাই সরকার সেদিকেই তাকিয়ে আছে।’ তিনি বলেন, ‘তবে যদি প্রয়োজন হয়, তবে নির্বাহী আদেশের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।’

আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক এবং তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর এ বক্তব্যের পর ছয় মাস চলে গেছে। জামায়াতকে নিষিদ্ধে কোনো বিল এখন পর্যন্ত মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হয়নি। এমনকি এ সংক্রান্ত কোনো ড্রাফট এখন পর্যন্ত আইন মন্ত্রণালয়ও তৈরি করেনি। শুধু আইনমন্ত্রী কিংবা তথ্যমন্ত্রীই নন, সরকারের আরও একাধিক প্রভাবশালী মন্ত্রী নানা দফায় জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করা সময়ের ব্যাপার মাত্র বলে দাবি করলেও বিষয়টি শেষ পর্যন্ত মাঠের বক্তৃতা-বিবৃতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে গেছে।

নেদারল্যান্ডস সফর শেষে গত বছরের ৮ নভেম্বর গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত নিষিদ্ধের বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত কি? এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।’

TRIBUNALসর্বশেষ ১৬ মে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনী মিলনায়তনে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছিলেন, ‘আগামী জুন মাসেই জামায়াতে ইসলামীকে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিষিদ্ধ করা হবে।’

ওই সভায় তিনি আরও বলেন, ‘আগামী ১ জুন যে বাজেট অধিবেশন শুরু হতে যাচ্ছে, সেই অধিবেশনে যুদ্ধাপরাধীর দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হবে।’ আ ক ম মোজাম্মেল হক এ সময় বিশ্বের অন্যান্য দেশের যুদ্ধাপরাধীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নজির অনুসরণ করে বাংলাদেশেও যুদ্ধাপরাধীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান।

১ জুন দশম জাতীয় সংসদের ১১তম অধিবেশন শুরু হয়। ২ জুন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট এই অধিবেশনে উপস্থাপন করেন। এখন এই বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা চলছে। ফাঁকে বেশ কয়েকটি বিল পাসও হয়েছে জাতীয় সংসদের চলতি অধিবেশনে। কিন্তু জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধের কোনো বিল এখন পর্যন্ত জমা হয়নি আইন শাখায়।

এ প্রসঙ্গে আইন, প্রবীণ রাজনীতিবিদ এবং বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, ‘জামায়াত এখন আর কোনো গণতান্ত্রিক আচরণ করছে না। তারা জঙ্গি সংগঠনের রূপ ধারণ করেছে। সংবিধান অনুযায়ী তো তাদের দ্রুত নিষিদ্ধ করা উচিত।’

জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, ‘আমরা চাই জনগণের ইচ্ছানুযায়ী যুদ্ধাপরাধী রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা হোক। যত দ্রুত জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা হবে ততই দেশ ও জাতির জন্য মঙ্গল হবে।’ এ ব্যাপারে সরকারের সিদ্ধান্ত কি জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকার জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার ক্ষেত্রে অনড় অবস্থানেই রয়েছে।’

Jamat E Islami 3সংবিধান বিশেষজ্ঞসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিদের মতে, সব রকম সুযোগ হাতে থাকা সত্ত্বেও জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করতে শাসক দল আওয়ামী লীগ অহেতুক টালবাহানার আশ্রয় নিচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘সরকার জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার নামে টালবাহানা করছে। এটা চলবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘জামায়াত নিষিদ্ধ না করে আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছে। সরকারের পরিষ্কার করে বলা উচিত জামায়াত নিষিদ্ধ করতে তাদের সমস্যা কোথায়?

শাহরিয়ার কবির আরও বলেন, জামায়াত সন্ত্রাসী দল। জামায়াত নিষিদ্ধ করতে আদালতের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে থাকার প্রয়োজন নেই। জেএমবি, আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের মতো সন্ত্রাসী দলগুলোকে যেভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে সেভাবেই জামায়াত নিষিদ্ধ করা যাবে।

তিনি বলেন, ‘সরকারের নানা অংশের কথায় আমি বুঝতে পারি তারা আইন খোঁজার ভান করছেন। আইন খোঁজার তো কোনো দরকার নেই। আইন আছে। সংবিধানেও বলা আছে। দরকার শুধু সরকারের সদিচ্ছা।’

শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘আর কত পরীক্ষা দিয়ে আমাদের প্রমাণ করতে হবে যে, জামায়াতকে গণতান্ত্রিক রাজনীতির মঞ্চে বসতে দেয়া যায় না। তারা জাতীয় পতাকা পুড়িয়েছে, শহীদ মিনার ভেঙেছে। সাক্ষীদের হত্যা করতে শুরু করেছে। ওরা সবাইকে হত্যা করবে। সব জেনেশুনেও কেন সরকার বসে আছে এটা আমি জানি না।’

এ প্রসঙ্গে সংবিধান বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম বলেন, জামায়াত নিষিদ্ধ করতে সরকারের জন্য সংবিধান, সন্ত্রাস দমন আইন এবং একই সঙ্গে বিশেষ ক্ষমতা আইন রয়েছে। সরকার এর যে কোনো প্রক্রিয়ায় জামায়াত-শিবিরের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে পারে। এছাড়া সংশোধিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের মাধ্যমেও সরকার একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য সংগঠন হিসেবে জামায়াতের বিচার করতে পারে। সরকার কেন সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না এটা বুঝতে পারছি না।’

TRIBUNAL-2সংশ্লিষ্টদের মতে, রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার ক্ষেত্র অনেক আগেই তৈরি হয়েই আছে। প্রায় তিন বছর আগে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য গঠিত ট্রাইব্যুনালের পাঁচটি রায়ের পর্যবেক্ষণে জামায়াতকে ‘অপরাধী সংগঠন’ (ক্রিমিনাল অর্গানাইজেশন) হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

এছাড়া ২০১৩ সালে হাইকোর্টে জনস্বার্থে দায়ের করা এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনের রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করে রায় দেন। সেই রায়ের বিরুদ্ধে দলটি উচ্চ আদালতে আপিল করেছে, যা এখন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় আছে।

এ প্রসঙ্গে সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেন, ‘সংবিধানের ৩৮ অনুচ্ছেদ এবং বিশেষ ক্ষমতা আইন ও সন্ত্রাস দমন আইনসহ বিভিন্ন আইনে জামায়াতকে নিষিদ্ধ ঘোষণার সুযোগ রয়েছে। এখন সরকার ইচ্ছে করলেই সংবিধান ও আইনের বিধান
প্রয়োগ করে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করতে পারে। এর জন্য প্রয়োজন কেবল সরকারের সদিচ্ছা।’

বিশেষজ্ঞদের মতে, জামায়াতকে নিষিদ্ধের দুটি উপায় রয়েছে। একটি হচ্ছে প্রশাসনিক আদেশ এবং অন্যটি বিচারের মাধ্যমে। সংবিধানের ৩৮ অনুচ্ছেদ, রিপ্রেজেন্টেশন অব পিপলস অর্ডিন্যান্স-১৯৭২ এবং দ্য পলিটিক্যাল পার্টিস অর্ডিন্যান্স ১৯৭৮-এর বিধিবিধান অনুসরণ করে যে কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠনকে নিষিদ্ধ করা যায়। এজন্য সরকারের সদিচ্ছাই যথেষ্ট।

সংবিধানের ৩৮ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘জনশৃংখলা ও নৈতিকতার স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ সাপেক্ষে সমিতি বা সংঘ গঠন করিবার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকিবে। তবে শর্ত থাকে যে, কোনো ব্যক্তির উক্তরূপ সমিতি বা সংঘ গঠন করিবার কিংবা উহার সদস্য হইবার অধিকার থাকিবে না, যদি (ক) উহা নাগরিকদের মধ্যে ধর্মীয়, সামাজিক এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার উদ্দেশ্যে গঠিত হয়; (খ) উহা ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষ, জন্মস্থান বা ভাষার ক্ষেত্রে নাগরিকদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি করিবার উদ্দেশ্যে গঠিত হয়; (গ) উহা রাষ্ট্র বা নাগরিকদের বিরুদ্ধে কিংবা অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী বা জঙ্গি কার্য পরিচালনার উদ্দেশ্যে গঠিত হয়; বা (ঘ) উহার গঠন ও উদ্দেশ্য এই সংবিধানের পরিপন্থী হয়।’

Jamat-E-Islami-2আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিমের সদস্য ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ বলেন, ‘বিশেষ ক্ষমতা আইন ও সন্ত্রাসবিরোধী আইন দিয়ে তাদের নিষিদ্ধ করতে হবে। দলের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে হবে। ট্রাইব্যুনালে তাদের অপরাধী সংগঠন প্রমাণ করে আদালতের কাছে দাবি করতে হবে, যেন কোনো জামায়াত-শিবির সদস্য এদেশে আর রাজনৈতিক তৎপরতার নামে জঙ্গি তৎপরতায় যুক্ত হতে না পারে।’

১৯৭৪ সালে প্রণীত বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২০ ধারায় বলা হয়েছে, ‘কোনো ধর্মের নামে বা ধর্মের ওপর ভিত্তি করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে গড়া কোনো সংগঠন, ইউনিয়ন বা গোষ্ঠীর সঙ্গে কেউ যুক্ত হতে পারবে না। এ ধরনের সংগঠনকে সরকার গেজেটের মাধ্যমে নিষিদ্ধ করতে পারবে। সরকার ওই সংগঠনের সমূহ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে পারবে। নিষিদ্ধ হওয়ার পর এ ধরনের কার্যক্রমে আবার কেউ যুক্ত হলে তাকে তিন বছরের জেল অথবা জরিমানা বা দুটিতেই দণ্ডিত করা যাবে।’

এছাড়া সন্ত্রাসবিরোধী আইন-২০০৯ (২০০৯ সালের ১৬ নম্বর আইন) এর ১৮ ধারায় বলা হয়েছে, ‘সরকার কোনো সংগঠনকে সন্ত্রাসী কাজের সঙ্গে জড়িত আছে মর্মে যুক্তিসঙ্গত কারণের ভিত্তিতে, আদেশ দ্বারা, তফসিলে তালিকাভুক্ত করে নিষিদ্ধ করতে পারবে।’

ট্রাইব্যুনাল জামায়াতকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেছে। কাজেই এক্ষেত্রে সন্ত্রাসবিরোধী আইন প্রয়োগে কোনো বাধা নেই। এছাড়া একাত্তরে স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধিতাকারী দল হিসেবে জামায়াতের বিচারেরও সুযোগ রয়েছে। ২০০৯ সালে সংশোধিত ট্রাইব্যুনাল আইনে ব্যক্তির বিচার করার সুযোগ সৃষ্টি হলেও কোনো সংগঠনের বিচারের সুযোগ ছিল না। এজন্য ২০১১ সালে সংবিধানের ৪৭(৩) অনুচ্ছেদ সংশোধনের মাধ্যমে ব্যক্তির পাশাপাশি সংগঠনকেও বিচারের আওতায় আনা হয়।

ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯৪০ সালের ৭ আগস্ট প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর জামায়াতে ইসলামী তিন দফায় নিষিদ্ধ হয়েছিল। আর দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত নিষিদ্ধ ছিল জামায়াত। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সামরিক সরকারের শাসনামলে রাজনৈতিক দলের অধ্যাদেশের মাধ্যমে দলটি আবার পুনরুজ্জীবিত হয়। বর্তমানে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের প্রধান শরিক জামায়াতে ইসলামী।

x

Check Also

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত চালুতে সরকারের জোর তৎপরতা: উপদেষ্টা মাহদী

এমএনএ প্রতিবেদক মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের শ্রমবাজার দ্রুত পুনরায় চালু করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে ...