জামিন পেলেন এফআর টাওয়ারের মালিক ফারুক
Posted by: News Desk
August 20, 2019
এমএনএ রিপোর্ট : জামিন পেয়েছেন নকশা জালিয়াতির মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া বনানী অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এফআর টাওয়ারের জমির মালিক প্রকৌশলী এসএমএইচআই ফারুক।
আজ মঙ্গলবার ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক কে এম ইমরুল কায়েশ এ জামিন মঞ্জুর করেন।
ফারুকের আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী বলেন, উনার (ফারুক) বয়স ৮০ বছরের উপরে। তিনি মারাত্মক অসুস্থ। হাসপাতাল থেকে তাকে অমানবিকভাবে নিয়ে আসা হয়েছে।
অন্যদিকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, এ মামলার আসামি হল তিন সেট। এক সেট আসামি হল রাজউক, এক সেট জমির মালিক আর আরেক সেট ডেভেলপার। আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে নকশা কারসাজি করেছেন। এফআর টাওয়ারের ১৫তলা থেকে ২৩তলা পর্যন্ত অবৈধ। এরা সবাই সমান অপরাধী।
গতকাল সোমবার দুপুরে রাজধানীর গুলশান-২ থেকে ফারুককে গ্রেপ্তার করে দুদক। এর আগে গত রবিবার গ্রেপ্তার করা হয় এ মামলার আরেক আসামি এফআর টাওয়ারের বর্ধিত অংশের মালিক কাসেম ড্রাইসেলের এমডি ও বিএনপি নেতা তাসভির উল ইসলামকে। পরে গতকাল সোমবার জামিন পান তাসভির।
প্রসঙ্গত,গত ২৮ মার্চ এফআর টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২৭ নিহত হওয়ার পর এই ভবন নির্মাণে নানা অনিয়মের বিষয়গুলো বেরিয়ে আসতে থাকে।
কামাল আতাতুর্ক এভিনিউয়ে ওই ভবনের জমির মূল মালিক ছিলেন প্রকৌশলী এস এম এইচ আই ফারুক। অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ভবনটি নির্মাণ করে রূপায়ন হাউজিং এস্টেট লিমিটেড। সে কারণে সংক্ষেপে ভবনের নাম হয় এফআর টাওয়ার।
নকশা জালিয়াতির মাধ্যমে ভবনটিতে কয়েকটি তলা বাড়ানোর অভিযোগে গত ২৫ জুন তাসভীরসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করেছিলেন দুদক কর্মকর্তা মো. আবুবকর সিদ্দিক।
একটি মামলায় রাজউকের ভুয়া ছাড়পত্রের মাধ্যমে এফআর টাওয়ারকে ১৯ তলা থেকে বাড়িয়ে ২৩ তলা করা, উপরের ফ্লোরগুলো বন্ধক দেওয়া ও বিক্রি করার অভিযোগে ২০ জনকে আসামি করা হয়।
অপর মামলাটি করা হয় এফআর টাওয়ারের ১৫ তলা পর্যন্ত নির্মাণের ক্ষেত্রে ইমারত বিধিমালা লঙ্ঘন এবং নকশা জালিয়াতির মাধ্যমে ১৮ তলা পর্যন্ত বাড়ানোর অভিযোগে।
এফআর টাওয়ারের মালিক এস এম এইচ আই ফারুক এবং নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রূপায়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খান মুকুল দুই মামলারই আসামি। তাসভীরের কোম্পানি ওই ভবনের ২১, ২২ ও ২৩ তলার মালিক।
মামলায় রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান কেএএম হারুন, সাবেক সদস্য রেজাউল করিম তরফদার, সাবেক পরিচালক শামসুল আলম, বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক মোফাজ্জল হোসেন, সহকারী পরিচালক শাহ মো. সদরুল আলম, সাবেক প্রধান ইমারত পরিদর্শক মাহবুব হোসেন সরকার, সাবেক ইমারত পরিদর্শক আওরঙ্গজেব সিদ্দিকী, সহকারী অথরাইজড অফিসার নজরুল ইসলাম, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক জাহানারা বেগম, সহকারী পরিচালক মেহেদউজ্জামান, নিম্নমান সহকারী মজিবুর রহমান মোল্লা ও অফিস সহকারী এনামুল হককেও আসামি করা হয়েছে।
১৯৯০ সালে পনের তলা ভবন নির্মাণের জন্য রাজউক থেকে অনুমতি নেয় এফআর টাওয়ার কর্তৃপক্ষ। পরে সেই একই নকশা দেখিয়ে ১৯৯৬ সালে ১৫ তলার জায়গায় ১৮ তলা ভবন নির্মাণের অনুমোদন নেওয়া হয়।
দুদকের মামলার আরজিতে বলা হয়েছে, ওই অনুমোদন দেওয়ার বিষয়টিও ছিল ‘অবৈধ’।
এফআর টাওয়ার পরে ২০০৩ সালে রূপায়ন হাউজিং লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি করে। সেই চুক্তি অনুযায়ী নির্মিত হয় ১৮ তলা ভবন। একই বছর রূপায়নের সঙ্গে সম্পূরক চুক্তি করে এফআর টাওয়ার। সেখানে ভবনটি ২৩ তলায় উন্নীত করতে সম্মত হয় দুই পক্ষ।
এজাহারে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজের জন্য রাজউকের এস্টেট শাখা থেকে কোনো দরপত্র দেওয়া হয়নি। কোন ধরনের নকশা বা বিলও অনুমোদন করা হয়নি।
এর আগে এফআর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশের করা মামলাতেও ফারুককে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সে সময় পুলিশ তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করেছিল। পরে তিনি ওই মামলায় জামিনে মুক্তি পান।
জামিন ফারুক মালিক পেলেন এফআর টাওয়ারের 2019-08-20