জীবনের শেষ নির্বাচনে ক্ষমতায় যেতে চাই : এরশাদ
Posted by: News Desk
January 9, 2018
এমএনএ রিপোর্ট : জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, আগামী নির্বাচন তার জীবনের ‘শেষ ভোট’। বয়সের কারণে এরপর আর নির্বাচনে লড়তে পারবেন না বলে মনে করছেন ৮৮ বছর বয়সী সাবেক এই রাষ্ট্রপতি।
‘জীবনের শেষ নির্বাচনে’ জয়ী হতে সর্বোচ্চ পরিশ্রম করবেন জানিয়ে এরশাদ আরও বলেছেন, ক্ষমতায় না গিয়ে তিনি মরতে চান না।
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে জাপার যৌথসভায় এসব কথা বলেন দলের চেয়ারম্যান এরশাদ।
গত মাসে রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে বিজয়ী জাপা আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীতে মহাসমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে। এ কর্মসূচি সফল করতে আজ মঙ্গলবার এ যৌথসভার আয়োজন করা হয়।
এরশাদ বলেন, ‘১৫ ফেব্রুয়ারি দেখাতে চাই জাতীয় পার্টি শক্তিশালী দল।’
বিএনপিবিহীন দশম সংসদ নির্বাচন ‘বর্জনের ঘোষণা’ দিয়েছিলেন এরশাদ। তবে তার স্ত্রী রওশন এরশাদের নেতৃত্বে জাপার একাংশ নির্বাচনে অংশ নিয়ে ৩৪ আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
নির্দলীয় সরকারের দাবিতে গত নির্বাচন বর্জন করা বিএনপি এবার ‘সহায়ক সরকারের’ দাবি জানাচ্ছে। এরশাদ আশঙ্কা প্রকাশ করেন, ‘সামনে আবারও একটা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে যাচ্ছে।’
দলের নেতাকর্মীদের প্রস্তুত হতে নির্দেশ দেন এরশাদ। জাপা চেয়ারম্যান বলেন, নির্বাচনী ব্যয় নিয়ে তিনি ভাবছেন না। দলের নেতাদেরও টাকা-পয়সা নিয়ে দুঃশ্চিন্তা করতে মানা করেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে এরশাদ বলেন, ‘আমার জীবনের শেষ নির্বাচন…জাতীয় পার্টিকে ক্ষমতায় দেখে যেতে চাই। তার আগে মরতে চাই না।’
১৫ ফেব্রুয়ারির মহাসমাবেশে অন্তত পাঁচ লাখ লোকের সমাগম ঘটানোর নির্দেশ দেন সাবেক সেনাশাসক এরশাদ। সেদিন জাপার শক্তিমত্তা প্রকাশের দিন বলে মনে করেন তিনি। এরশাদ বলেন, ‘দুর্বলের সাথে কেউ হাত মেলায় না। ফাইনাল কথা—শক্তি সঞ্চয় করো—হাত এগিয়ে আসবে।’
আওয়ামী লীগের ৯ বছরের শাসনামলে অর্থনৈতিক উন্নতির হলেও ‘মানুষের দুর্দশার’ লাঘব হয়নি বলে দাবি করেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত এরশাদ। তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন ঢাকায় হাজার হাজার মানুষ আসে কাজের জন্য। কিন্তু কাজ নাই। মানুষ ফুটপাতে শুয়ে থাকে। বাংলাদেশ না-কি, মধ্যম আয়ের দেশ! মধ্যম আয় শুধু আওয়ামী লীগের মধ্যে।’
আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রতি মানুষ বীতশ্রদ্ধ—দাবি করে এরশাদ আরও বলেন, ‘গ্রামগঞ্জের মানুষ আর আওয়ামী লীগ-বিএনপির কথা বলে না। তাদের মনে জাতীয় পাটি। আওয়ামী লীগের কাছে বিএনপি নিরাপদ নয়। বিএনপির কাছে আওয়ামী লীগ নিরাপদ নয়। জাতীয় পার্টির কাছে সব দল ও মানুষ নিরাপদ।’
সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন জাপার কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের, প্রেসিডিয়াম সদস্য পরিবেশ ও বনমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গা, শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু এবং সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি প্রমুখ।
যেতে জীবনের ক্ষমতায় চাই নির্বাচনে এরশাদ শেষ 2018-01-09