Don't Miss
Home / আজকের সংবাদ / জীবন ঝুঁকির মুখে পড়েছে ‘বঙ্গ বাহাদুর’

জীবন ঝুঁকির মুখে পড়েছে ‘বঙ্গ বাহাদুর’

জামালপুর প্রতিনিধি : ভারতের আসাম থেকে ভেসে আসা বন্যহাতি ‘বঙ্গ বাহাদুর’ কে জলাশয়ের কাদা থেকে দ্রুত উদ্ধার করা না গেলে তার জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ার আশংকা রয়েছে।

বাংলাদেশ বন বিভাগের সাবেক বন সংরক্ষক কর্মকর্তা ড. তপন কুমার দে বলেন, আজ সোমবার সকাল থেকে বেলা সাড়ে ১২টার পর্যন্ত হাতিটিকে জলাশয়ে কাদা থেকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। কাদায় বেশিক্ষণ থাকায় হাতিটির শরীরে তাপমাত্রা বেড়ে গেছে। এতে সে ছটফট করছে এবং ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে।

কিন্তু শিকল ছেঁড়ার ভয়ে তাকে পর্যাপ্ত খাবার দেয়া যাচ্ছে না। হাতিটির জীবন ঝুঁকির মুখে রয়েছে। এটাকে দ্রুত সরিয়ে নেয়ার দরকার বলে জানান তিনি।

ঢাকার বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পরিদর্শক অসীম মল্লিক বলেন, পায়ে শিকল নিয়ে হাতিটি কাদার মধ্যে পড়ে গেছে। তাকে দ্রুত উদ্ধার করা প্রয়োজন। হাতি উদ্ধারে গাজীপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাফারি পার্ক থেকে তিনটি হাতি গতকাল রবিবার রাতেই আসার কথা, কিন্তু আজ সোমবার দুপুর পর্যন্ত ওই হাতিগুলো আসেনি।

Indian-Elephantজামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার কয়ড়া গ্রামে জলাশয়ে থাকা হাতিটি গতকাল রবিবার ভোর ৫টার দিকে পেছনের পায়ের শেকল ছিঁড়ে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে বন বিভাগের উদ্ধারকারী সদস্যরা সকাল ৭টার দিকে ঘটনাস্থলে এসে দেখে হাতিটি জলাশয়ে নেই।

পরে তারা খোঁজাখুঁজির পর দুই কিলোমিটার দূরে উপজেলার কামরাবাদ ইউনিয়নের সোনাকান্দ গ্রামের একটি খোলা জায়গায় হাতিটিকে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। এখানে তাকে অচেতন করার জন্য ট্র্যাংকুলাইজারের মাধ্যমে ৪টি ডার্ট ছোড়া হয়।

এরপর হাতিটি পড়ে না গিয়ে কাঁদা পানিতে দাঁড়ানো অবস্থায় ঝিমোতে ছিল। এ সময় হাতির পেছনের ও সামনের পায়ে শেকল ও রশি দিয়ে বেঁধে ফেলা হয়। শেষ পর্যন্ত ওই কাঁদা পানিতেই অবস্থান করছিল হাতিটি।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে হাতিটিকে চেতনানাশক ওষুধ দিয়ে অচেতন করা হয়। পরে হাতিটিকে ধরে শিকল ও রশি দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। গত শুক্রবার রাতে সামনের দু’পায়ের শিকল ও রশি ছিঁড়ে ফেলে হাতিটি। এ সময় আশপাশের গাছপালা ভাংচুর করে। রাতভর হাতিটির গর্জন ও তাণ্ডবে আতংকিত হয়ে পড়ে স্থানীয়রা।

গত শনিবার বেলা ১১টার দিকে বন বিভাগের সদস্যরা হাতিটির সামনের দুই পা বেঁধে ফেলার চেষ্টা করলে সেটি পাশের গভীর জলাশয়ে অবস্থান নেয়।

ভারতের আসামের কাজি রাঙ্গা ন্যাশনাল পার্কের হাতিটি ১৭ জুন বন্যার পানিতে ভেসে কুড়িগ্রামের রৌমারীতে আসে। পরে গাইবান্দা, জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জের বিভিন্ন চরাঞ্চল ঘুরে ২৭ জুন সিরাজগঞ্জ জেলার কাজিপুর উপজেলার ছেন্নার চর যমুনা নদীর দ্বীপে আটকে পড়ে।

এখানে কয়েক দিন অবস্থান করার পর ২৮ জুলাই জামালপুরের সরিষাবাড়ী চলে আসে হাতিটি। এ সময় হাতিটিকে পর্যবেক্ষণ করেন বাংলাদেশ বন বিভাগের ৩টি ইউনিটের ১৭ সদস্য। তিনদফা চেতনানাশক ওষুধ প্রয়োগ করে উদ্ধার অভিযানে ব্যর্থ হন তারা। তারপর হাতিটি উদ্ধারের জন্য ভারতের তিন সদস্যের দল সরিষাবাড়ীতে আসেন ৪ আগস্ট। দলটি হাতি উদ্ধারে ব্যর্থ হয়ে ৭ আগস্ট সরিষাবাড়ী ত্যাগ করে।

ট্যাগসমূহ : জীবন ঝুঁকির মুখে, বন্যহাতি ‘বঙ্গ বাহাদুর’, জলাশয়ে, জামালপুরের সরিষাবাড়ী

Save

Save

x

Check Also

ব্যাংক রেজুলেশন আইন ২০২৬ দুর্নীতি সহায়ক, লুটেরাদের পুনর্বাসন আত্মঘাতী: টিআইবি

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক সদ্য পাস হওয়া ব্যাংক রেজুলেশন আইন, ২০২৬ নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনার ...