সংসদ প্রতিবেদক
জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের নেতৃত্ব নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। তিনি দাবি করেন, ওই আন্দোলনের “ক্যাপ্টেন” ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের দশম দিনের বৈঠকে, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ-এর সভাপতিত্বে তিনি এ বক্তব্য দেন।
রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনা সাধারণত সরকারের নীতি ও রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে এ দিনের অধিবেশনে রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও আন্দোলনের কৃতিত্ব নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য সংসদে উত্তেজনার সৃষ্টি করে।
মীর শাহে আলম বলেন, জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে ছাত্র-জনতা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তি অংশ নিলেও নেতৃত্ব ছিল নির্দিষ্ট। তার ভাষায়, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস লন্ডনে গিয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচনের সময়সূচি নিয়ে এসেছেন, যা নেতৃত্বের বিষয়টি স্পষ্ট করে।
তিনি আরও দাবি করেন, এ প্রক্রিয়ার ফলেই দেশে একটি “অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন” অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং সাম্প্রতিক জুলাই-আগস্ট আন্দোলন—এই তিনটির কৃতিত্বই বিএনপির। এ সময় তার বক্তব্যে সংসদে উপস্থিত বিরোধীদলীয় সদস্যরা প্রতিবাদ জানান।
রাষ্ট্রপতির ভাষণ প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতিফলন ঘটেছে। তিনি উল্লেখ করেন— জিয়াউর রহমান-কে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে উল্লেখ; খালেদা জিয়া-কে “গণতন্ত্রের মা” হিসেবে উপস্থাপন; ও আওয়ামী লীগকে সমালোচনামূলকভাবে চিত্রিত করা। এসব বিষয়কে তিনি বিএনপির রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেন।
বক্তব্যে তিনি সরকারের কিছু সামাজিক কর্মসূচির কথাও উল্লেখ করেন, যার মধ্যে রয়েছে— ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড প্রদান।
তিনি জানান, কৃষক কার্ড কর্মসূচি শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হবে।
প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, সংসদে “অসংখ্য অসত্য তথ্য” উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি এসব বক্তব্য কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানান।
তিনি আরও বলেন, বিরোধীদল গঠনমূলক ভূমিকা পালন করবে—ন্যায্য বিষয়ে সহযোগিতা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান নেবে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, উত্থাপিত বক্তব্য যাচাই করে দেখা হবে। কোনো অসংসদীয় বা অসত্য তথ্য পাওয়া গেলে তা সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়া হবে।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

