Don't Miss
Home / হোম স্লাইডার / ডাইসুগি : জাপানিদের কাঠ উৎপাদনে অনন্য কৌশল
জাপানের বনাঞ্চলে

ডাইসুগি : জাপানিদের কাঠ উৎপাদনে অনন্য কৌশল

এমএনএ ফিচার ডেস্ক : দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে জাপানের বনাঞ্চলের বেশ ক্ষতি হয়। যুদ্ধের চাহিদা মেটাতে নির্বিচারে বৃক্ষনিধন হয়। যুদ্ধের পর জাপান বনাঞ্চল পুনরুদ্ধারে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেয়। যেখানে যেমন প্রাকৃতিক বন ছিল সেখানে তেমনই বন সৃষ্টির চেষ্টা করা হয় । দেশটি ফের বৃক্ষ সমৃদ্ধ হতে যে কৌশলকে প্রাধান্য দেয় তার নাম ‘ডাইসুগি’। এটি একটি জাপানীজ কাঠ উৎপাদনের প্রাচীন কৌশল।
জাপানীরা ৭০০ বছর ধরে গাছ না কেটে এভাবেই তা থেকে কাঠ উৎপাদন করে আসছে। ১৪তম শতাব্দীতে অসাধারণ এই ‘ডাইসুগি’ কৌশল জাপানে উদ্ভাবিত হয়।

প্রকৃতপক্ষে, ডাইসুগি কৌশল প্রয়োগ করার মূল উদ্দেশ্য হলো সময় এবং জমি বাঁচিয়ে দ্রুত উন্নত মানের কাঠের উৎপাদন করা। গাছগুলোকে আগামী প্রজন্মের জন্য রেখে দেওয়া। তাই তারা গোড়া থেকে কখনোই গাছটাকে কেটে ফেলে না। বরং সেগুলো ছাঁটাই করে যাতে গাছগুলো বিশাল আকারের বনসাই গাছে রূপান্তরিত হতে পারে। এর ফলে এক গাছের উপরেই নতুন অনেক গাছের দ্রুত জন্ম দিতে পারে। এই নতুন গাছ থেকে যে কাঠটি পাওয়া যায় তা একেবারেই অভিন্ন, সোজা এবং গিঁট ছাড়া, নির্মাণের জন্য অত্যান্ত কার্যত ও নিখুঁত।

যুদ্ধের পর জাপান এই পদ্ধতি অনুসরণে আবার বৃক্ষ, গুল্ম, পাখি, কীটপতঙ্গ সেই ফিরে আসে। জাপানে বর্তমানে ৬৯ শতাংশ বনাঞ্চল। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর এই বনাঞ্চলের পরিমাণ ৩০ শতাংশ বেড়েছে।এই বৃদ্ধির অন্যতম কারণ ডাইসুগি। ঘন ঘন ভূমিকম্পের কারণে জাপানীরা গৃহ নির্মাণ এবং আসবাব বাবদ কাঠ ব্যবহার করলেও গাছ কাটে না।

মূলত এই পদ্ধতিতে গাছের ডালপালা কেটে ছেঁটে নির্দিষ্ট কিছু ডালকে পরিকল্পিতভাবে বড় হতে দেওয়া হয়। এটাকে প্রুনিং বলা হয়। এভাবেই একই গাছ শত বছরও টিকে থাকে। কাঠের জোগান দিয়ে যায়, বন এবং পরিবেশ রক্ষা পায়। জাপানীদের এই প্রাচীন বৃক্ষ বৃদ্ধির পদ্ধতি আজ সারা বিশ্বের বিশ্ময়।

x

Check Also

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত চালুতে সরকারের জোর তৎপরতা: উপদেষ্টা মাহদী

এমএনএ প্রতিবেদক মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের শ্রমবাজার দ্রুত পুনরায় চালু করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে ...