Don't Miss
Home / আজকের সংবাদ / ডিএনসিসি উপনির্বাচনে তাবিথকেই বেছে নিল বিএনপি

ডিএনসিসি উপনির্বাচনে তাবিথকেই বেছে নিল বিএনপি

এমএনএ রিপোর্ট : ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র পদে উপনির্বাচনে দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়ালকেই বেছে নিয়েছে বিএনপি। গতকাল সোমবার রাতে খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে বিএনপির মনোনয়ন বোর্ড আগ্রহীদের সাক্ষাৎকার নেওয়ার পর দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি ও ২০ দলীয় প্রার্থী হিসেবে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়ালের নাম ঘোষণা করেন।
এর আগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে দলের মনোনয়ন বোর্ডে আগ্রহীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য তাবিথ আউয়াল, বিশেষ সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, সহ-প্রকাশনা সম্পাদক শাকিল ওয়াহেদ ও সাবেক এমপি মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। এ ছাড়া দেশের বাইরে থাকা ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সভাপতি এমএ কাইয়ুমের পক্ষে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বজলুল বাসিত আঞ্জু সাক্ষাৎকার দেন।
বৈঠক শেষে দলীয় মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে তাবিথ আউয়ালকে বেছে নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, পাঁচজন প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন, তাদের সবাই যোগ্য। তবে তারা মনে করেন, এই নির্বাচনে জয়লাভ করার জন্য তাবিথ যোগ্য প্রার্থী। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বিগত নির্বাচনে তাবিথ আউয়াল বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। অনেক ভোট পেয়েছিলেন। এ কারণে এবারও তাকে পছন্দ করা হয়েছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা তাবিথকে মনে করেছি, হি ইজ দ্য বেস্ট ক্যান্ডিডেট, ফিটেস্ট ক্যান্ডিডেট। এই নির্বাচনে জয়লাভ করার জন্য সবচেয়ে যোগ্য ক্যান্ডিডেট। আমাদের স্থায়ী কমিটি হচ্ছে পার্লামেন্টারি বোর্ড। সেখানে আলোচনা হওয়ার পরে অন্যরা যোগ্য প্রার্থী ছিল। তার মধ্যে তাবিথকে মনে হয়েছে এই নির্বাচনে জয়লাভ করার জন্য সবচেয়ে যোগ্য ক্যান্ডিডেট।’
তিনি বলেন, ‘আন্দোলনের অংশ হিসেবে আমরা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছি।’
এর আগে রাত পৌনে ১০টায় গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে বিএনপির মনোনয়ন বোর্ডের সাক্ষাৎকার নেওয়া শুরু হয়।
বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটি দলীয় মনোনয়ন বোর্ড হিসেবে গণ্য হয়। এর বাইরে সংশ্নিষ্ট শাখার দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা সাক্ষাৎকারের সময় উপস্থিত থাকেন। বৈঠকে বোর্ডের সদস্য দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এ ছাড়া পদাধিকারবলে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মুন্সি বজলুল বাসিত আনজু ও সাধারণ সম্পাদক আহসানউল্লাহ হাসান বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী শাকিল ওয়াহেদকে দিয়ে সাক্ষাৎকার শুরু করেন খালেদা জিয়া। এরপর একে একে অন্য প্রার্থীদের ডাকা হয়। পৌনে ১১টায় শেষ হয় তাবিথ আউয়ালের সাক্ষাৎকারের মধ্য দিয়ে।
মনোনয়ন বোর্ডের সাক্ষাৎকার শেষে রাত ১০টা ৫৫ মিনিটে বোর্ডের দুই সদস্য (মুন্সি বজলুল বাসিত আনজু ও আহসানউল্লাহ হাসান) কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসার পর স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উত্তর সিটি নির্বাচনের মেয়র পদে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়।
রাত সাড়ে ১১টায় দলের মহাসচিব মেয়র পদে তাবিথের নাম ঘোষণার পর সাংবাদিকদের সামনে আসেন তাবিথ। তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া অনেক আগেই বলেছিলেন, আগামীর বাংলাদেশ হবে তরুণদের বাংলাদেশ, আধুনিক বাংলাদেশ। সেই ধারাবাহিকতায় আমরা দেখতে পারছি খালেদা জিয়া তাঁর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করলেন। এই মুহূর্তে আমি আর কিছু বলব না। অফিশিয়ালি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার পর প্রার্থী হিসেবে আমি আপনাদের সামনে আসব।’
এর আগে গুলশানের কার্যালয়ে স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে তাবিথ খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেন।
দলের সিদ্ধান্ত জানার পর তাবিথ আউয়াল সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচনী আইন মেনে তিনি এখনও কোনো ধরনের প্রচার চালাননি। শিগগির মেনিফেস্টো ঠিক করে গণমাধ্যমের সামনে আসবেন।
দলে প্রার্থী হতে তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসা অন্য চারজনকে ধন্যবাদও জানান বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টুর ছেলে তাবিথ আউয়াল।
দলীয় প্রার্থী ঘোষণার পর মনোনয়নপ্রত্যাশী ড. আসাদুজ্জামান রিপন তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তাবিথ আউয়ালকে অভিনন্দন জানান। তিনি সমকালকে বলেন, দলীয় সিদ্ধান্তকে তিনি সম্মান জানিয়েছেন। দলীয় প্রার্থীর পক্ষে তিনি কাজ করবেন। একই বক্তব্য দিয়েছেন শাকিল ওয়াহেদ।
বিগত নির্বাচনেও বিএনপির মেয়র প্রার্থী ছিলেন তাবিথ আউয়াল। নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে দলীয় সিদ্ধান্তে দুপুরের দিকে নির্বাচন বর্জন করেন তিনি। ওই সময়ের মধ্যে ৩ লাখের বেশি ভোট পেয়েছিলেন তাবিথ। অবশ্য ওই নির্বাচনে প্রথমে তাবিথ আউয়ালের বাবা দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টুকে সমর্থন দিয়েছিল বিএনপি। তবে মনোনয়নপত্রে ত্রুটির কারণে তার মনোনয়ন বাতিল হলে তাবিথকে সমর্থন দেয় দলটি।
এর আগে দিনের বেলায় মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে ওই পাঁচজন নেতাই নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন।
ওই সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তাবিথ আউয়াল বলেন, একই নির্বাচনে কয়েক বছর আগে দল এবং ২০ দলীয় জোট তাকে সমর্থন দিয়েছিল। তাতে তিনি ব্যাপক সাড়া পেয়েছিলেন। যদিও ওই নির্বাচন কারও প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি। তিনি জানান, গতবার যারা ভোটের অধিকার হারিয়েছেন তারাই এবার তাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন।
এদিকে প্রার্থিতা ঘোষণার আগে এক সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী ডিএনসিসি উপনির্বাচন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের অধীনে নির্বাচনের অর্থ- ভোটারদের ভোটের অধিকার হরণ করা। তারপরও সংকুচিত গণতন্ত্রকে সম্প্রসারণ করতে এবং আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিএনপি স্থানীয় পর্যায়ের সব নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। তবে ডিএনসিসি উপনির্বাচন আদৌ হবে কি-না কিংবা ভোটাররা ভোট দিতে পারবে কি-না তা নিয়ে জনমনে শঙ্কা ও সন্দেহ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ সময় তিনি জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে উপনির্বাচনে সেনা মোতায়েনের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মীর সরাফত আলী সপু, আবদুস সালাম আজাদ, তাইফুল ইসলাম টিপু, মনির হোসেন, আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।
x

Check Also

ব্যাংক রেজুলেশন আইন ২০২৬ দুর্নীতি সহায়ক, লুটেরাদের পুনর্বাসন আত্মঘাতী: টিআইবি

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক সদ্য পাস হওয়া ব্যাংক রেজুলেশন আইন, ২০২৬ নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনার ...