এমএনএ অর্থনীতি ডেস্ক : ডিএসইতে সাড়ে ৫ মাসের মধ্যে আজ সর্বনিম্ন লেনদেন হয়েছে। যদিও দেশের দুই শেয়ারবাজারে গতকালও লেনদেন হওয়া বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর কমেছে। তবে দরপতনের হার ছিল তুলনামূলক কম।
পতন রুখতে লেনদেনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি ও রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ সংস্থা আইসিবি বেশ তৎপর ছিল। বেশিরভাগ শেয়ার দরের পতন ঠেকানোর তুলনায় সূচকের পতন ঠেকানো ছিল তাদের মূল লক্ষ্য। সে লক্ষ্যে সফলও হয়েছেন তারা।
আজ দিনের লেনদেন শেষে প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২ পয়েন্ট হারিয়ে ৫৪৩৫ পয়েন্টে নেমেছে। লেনদেন আরও কিছুটা কমে ৪৯৯ কোটি ৯৩ লাখ টাকায় নেমেছে। গত ৬ নভেম্বর বা সাড়ে ৫ মাস পর এবারই প্রথম ডিএসইর লেনদেন ৫০০ কোটি টাকার নিচে নামল ।
গত এক মাসের টানা দরপতনের পর গতকালের লেনদেনের শুরুটা ভালোই ছিল। সকাল সাড়ে ১০টায় লেনদেনের প্রথম ১৩ মিনিটেই অধিকাংশ শেয়ারের দরবৃদ্ধি পাওয়ায় বাজার সূচক ২৬ পয়েন্ট বেড়ে ৫৫৬৪ পয়েন্টে ওঠে।
এ ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা ছিল সিটি ও আইএফআইসিসহ ব্যাংক খাতের বেশিরভাগ শেয়ারের দরবৃদ্ধি। তবে পরের পৌনে এক ঘণ্টায় সিংহভাগ শেয়ারের দরপতনে আগের অবস্থান থেকে সূচকটি ৭৬ পয়েন্ট হারিয়ে ৫৩৮৮ পয়েন্টে নামে।
আইসিবিসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান শেয়ার কিনলে পরের পৌনে এক ঘণ্টায় প্রায় ৬০ পয়েন্ট পুনরুদ্ধার করে। সূত্র জানায়, আইসিবি ৩০ কোটি টাকার শেয়ার কিনেছে। এর বিপরীতে বিক্রি করেছে মাত্র দেড় কোটি টাকার। এটি আরও বড় পতন ঠেকাতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সাম্প্রতিক দরপতনে ব্যাংক এবং ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের শেয়ারদর কমে যাওয়া মুখ্য ভূমিকায় ছিল।
গতকাল এ দুই খাতসহ বৃহৎ মূলধনি কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর বাড়ানোর ক্ষেত্রে মনোযোগী ছিল সবাই। তাতে কিছুটা কাজও হয়েছে। বেড়েছে ব্যাংক খাতের বেশিরভাগ শেয়ারদর। এ খাতের ৩০ কোম্পানির মধ্যে ১৪টির দর বেড়েছে। কমেছে ১১টির।
ব্যাংক খাতের বেশিরভাগ শেয়ারদর বাড়লেও মিশ্রাবস্থা ছিল ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক, বীমা, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে। তবে বরাবরের মতো প্রকৌশল, ওষুধ ও রসায়ন, বস্ত্র এবং অন্য ছোট খাতগুলোর অধিকাংশ শেয়ারের দর কমেছে।
লেনদেন শেষে ডিএসইতে ১১০ কোম্পানির শেয়ারের দর বেড়েছে। কমেছে ১৭৩টির। অপরিবর্তিত থেকেছে ৪১টির দর।
এ ছাড়া চট্টগ্রামকেন্দ্রিক অন্য শেয়ারবাজার সিএসইতে ৭৫ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের দরবৃদ্ধির বিপরীতে কমেছে ১৪০টির এবং অপরিবর্তিত থেকেছে ২৫টির দর। দুই বাজার মিলে কেনাবেচা হয়েছে ৫৩৩ কোটি ৬২ লাখ টাকার শেয়ার।
যা গতকাল রবিবারের তুলনায়ও ৭ কোটি টাকা কম। এর মধ্যে ডিএসইর লেনদেন ৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা কমে ৪৯৯ কোটি ৯৩ লাখ টাকায় নেমেছে। গত বছরের ৬ নভেম্বরের পর এটাই প্রথম এ বাজারের ৫০০ কোটি টাকার নিচে লেনদেন। সিএসইতে কেনাবেচা হয়েছে ৩৫ কোটি টাকার শেয়ার।
বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, গত এক মাসের দরপতনে অনেকের বিনিয়োগ আটকে যাওয়ায় নতুন বিনিয়োগের ক্ষমতা হারিয়েছেন সিংহভাগ বিনিয়োগকারী।
এ ছাড়া অনেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। সুযোগ খুঁজছেন নতুন বিনিয়োগের। তবে আগামী দুই সপ্তাহে সিংহভাগ কোম্পানি
৩১ মার্চ সমাপ্ত প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করার পর এ অবস্থার অনেকটাই পরিবর্তন হবে বলে বিশ্বাস তাদের।
বিভিন্ন মার্চেন্ট ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদন দেখে পরবর্তী বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেবেন কৌশলী বিনিয়োগকারীরা। তখন লেনদেনে নতুন গতি ফিরবে। শেয়ারদরেও ইতিবাচক পরিবর্তন হবে। যেসব কোম্পানির ভালো মুনাফা করার খবর দেবে, তাদের শেয়ারদর ও লেনদেন তুলনামূলক বেশি বাড়বে।
এদিকে কয়েক দিনের সার্বিক নেতিবাচক ধারার মধ্যেও বাড়ছে প্রিমিয়ার ইন্স্যুরেন্সের দর। গতকালও ডিএসইতে শেয়ারটি সার্কিট ব্রেকার নির্ধারিত সর্বোচ্চ দর (১০ শতাংশ বেশি) ১৯ টাকা ৯০ পয়সায় কেনাবেচা হয়েছে।
একই চিত্র উৎপাদন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ থাকা কোম্পানি বিচ হ্যাচারির ক্ষেত্রে। সার্কিট ব্রেকার নির্ধারিত সর্বোচ্চ দর বেড়ে ১১ টাকা ৩০ পয়সায় কেনাবেচা হয়েছে।
দরবৃদ্ধিতে এর পরের স্থানে থাকা ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, বিডি ফাইন্যান্স, রিজেন্ট টেক্সটাইল, প্রাইম ব্যাংক, নর্দান জুট, এপেক্স ট্যানারি, সালভো কেমিক্যাল, আইএফআইসি, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, লংকাবাংলা ফাইন্যান্স, গোল্ডেন হারভেস্ট, এবি ব্যাংক এবং সিটি ব্যাংকের শেয়ারদর বেড়েছে সোয়া ৩ থেকে সাড়ে ৮ শতাংশ পর্যন্ত।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

