Don't Miss
Home / প্রচ্ছদ / ডিজি পদ শূন্য, পরিচালক বিদেশে, খাদ্য অধিদপ্তরের প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা

ডিজি পদ শূন্য, পরিচালক বিদেশে, খাদ্য অধিদপ্তরের প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা

এমএনএ প্রতিবেদক

খাদ্য অধিদপ্তরের প্রশাসনিক কার্যক্রমে দীর্ঘদিন ধরে স্থবিরতা বিরাজ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, নিয়মিত মহাপরিচালক (ডিজি) না থাকা এবং প্রশাসন বিভাগের পরিচালকের দীর্ঘ অনুপস্থিতি—এই দুই প্রধান কারণে প্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

জানা গেছে, বর্তমানে খাদ্য অধিদপ্তরে কোনো পূর্ণকালীন মহাপরিচালক নেই। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে এই পদে নিয়োজিত করা হয়েছে। তবে মাঠ প্রশাসনে তার পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা না থাকায় তাকে অধীনস্থ কর্মকর্তাদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা এই কর্মকর্তা অধিদপ্তরের কার্যক্রমে তেমন সক্রিয় নন, যার ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে ধীরগতি দেখা দিয়েছে।

অন্যদিকে, প্রশাসন বিভাগের পরিচালক মো. মাহবুবুর রহমান প্রায় তিন মাস ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। তিনি ২০ দিনের বহির্বাংলাদেশ ছুটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন, কিন্তু নির্ধারিত সময়ের অনেক বেশি সময় সেখানে অবস্থান করছেন। সূত্র জানায়, তিনি পরিবারসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ভ্রমণ করছেন, যা নিয়ে প্রশাসনের ভেতরে-বাইরে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

সরকারি চাকরিবিধি অনুযায়ী, বহির্বাংলাদেশ ছুটির নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশে ফিরে এসে কর্মস্থলে যোগদান বাধ্যতামূলক। অন্যথায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে, যার সর্বোচ্চ শাস্তি চাকরিচ্যুতি। যদিও বিশেষ পরিস্থিতিতে ছুটির মেয়াদ বাড়ানো সম্ভব, তবে সেটি সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল। অনুমোদন ছাড়া নির্ধারিত সময় অতিক্রম করলে তা শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে গণ্য হয়।

এছাড়া, কোনো সরকারি কর্মকর্তার পুরো পরিবার বিদেশে রাখতে চাইলে যথাযথ কারণ দেখিয়ে সরকারের অনুমোদন নেওয়ার বিধান রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এই নিয়ম অনুসরণ না করেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা তার পরিবারকে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে রেখেছেন।

এর পাশাপাশি পরিচালক মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি জানুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সময় বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার করেছেন, যার পরিমাণ শতকোটি টাকার বেশি হতে পারে। এই অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

আরও জানা গেছে, খাদ্য অধিদপ্তরের নিয়োগ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলে প্রায় শতকোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। বিভাগীয় ফুড কন্ট্রোলার অফিসগুলোতেও একই ধরনের সিন্ডিকেট তৈরি করে বদলির নামে প্রায় ২০ কোটি টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। অতীতে বিভিন্ন সরকারের সময়েও তিনি প্রভাব খাটিয়ে এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ।

এছাড়া, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে খাদ্য মন্ত্রণালয়কে ভুল তথ্য দিয়ে দেশের ১৮টি খাদ্য গুদামকে প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত করার আদেশ জারি করানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব গুদামে পদায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রায় ৭ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার কথাও শোনা যাচ্ছে।

আরও অভিযোগ রয়েছে, নিজের প্রভাব অক্ষুণ্ণ রাখতে তিনি অন্য কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ঠেকাতে গোয়েন্দা সংস্থার কাছে বিভ্রান্তিকর তথ্য সরবরাহ করেছেন।

খাদ্য অধিদপ্তরের অভ্যন্তরে কর্মরতদের মতে, এসব অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার কারণে পুরো বিভাগে হতাশা ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই মনে করছেন, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ায় কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছে।

একজন কর্মচারীর দাবি, মাহবুবুর রহমান ছয় মাসের আগে দেশে ফিরবেন না, কারণ টানা ছয় মাস যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলে তিনি গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারবেন। অন্য এক কর্মকর্তা জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধ উপায়ে অর্থ উপার্জন ও বিদেশে পাচারের সঙ্গে জড়িত এবং বিগত সময়গুলোতে তার প্রভাব এতটাই ছিল যে তাকে কার্যত খাদ্য বিভাগের মন্ত্রীর মতো আচরণ করতে দেখা গেছে।

সব মিলিয়ে, প্রশাসনিক দুর্বলতা, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে খাদ্য অধিদপ্তরের কার্যক্রম বর্তমানে গভীর সংকটের মুখে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

x

Check Also

টানা বৃষ্টিতে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বরিশালে জলাবদ্ধতা: নগরজীবন স্থবির, দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের তাগিদ

এমএনএ প্রতিবেদক দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা বৃষ্টিপাতের ফলে রাজধানী ঢাকা, বন্দরনগরী চট্টগ্রাম এবং দক্ষিণাঞ্চলের বরিশাল ...