Don't Miss
Home / হোম স্লাইডার / ডেঙ্গুতে দুই শিশুসহ আরো সাতজনের মৃত্যু

ডেঙ্গুতে দুই শিশুসহ আরো সাতজনের মৃত্যু

এমএনএ রিপোর্ট : ডেঙ্গুতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই শিশুসহ অন্তত সাত জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে ঢাকায় দুই নারী ও এক পুরুষ, দিনাজপুরে এক কিশোর এবং রংপুর ও চাঁদপুরে একজন করে শিশু রয়েছে।

রাজধানী ঢাকার আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে গতকাল সোমবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইতালি প্রবাসী এক নারী এবং ধানমন্ডির একটি প্রাইভেট হসপিটালে শিশু মারা গেছেন। এদিকে, আজ মঙ্গলবার সকালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে বৃদ্ধা ও রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

স্বামী-সন্তান নিয়ে দেশে বেড়াতে এসে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গতকাল সোমবার রাতে ঢাকার আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে মারা যান ইতালি প্রবাসী হাফসা লিপি (৩৪)।

হাসপাতালের পরিচালক জসিমউদ্দিন খান গণমাধ্যমকে জানান, ওই নারী চার দিন ধরে সেখানে চিকিৎসাধীন ছিলেন। আইসিইউতে থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

হাফসার স্বামী সর্দার আব্দুল সাত্তার তরুণ (৩৬) নিজেও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন। দুই সন্তান অলি (১২) ও আয়ানকে (৬) নিয়ে সপ্তাহ তিনেক আগে দেশে এসে কলাবাগানে উঠেছিলেন তারা।

সাত্তারের বড় বোন ডা. নুরুন্নাহার গণমাধ্যমকে জানান, শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ থানার সর্দার বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে হাফসাকে দাফন করা হবে।

এদিকে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক বৃদ্ধা মারা গেছেন। তার নাম মনোয়ারা বেগম (৭২)। তাদের গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের আহমেদপুর। ছেলে মোশারফ হোসেনের পরিবারের সঙ্গে মিরপুরে থাকতেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক মো. নাসির উদ্দিন জানান, গত ৩ অগাস্ট ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আইসিইউতে ভর্তি ছিলেন মনোয়ারা। আজ মঙ্গলবার ভোর ৪টায় তিনি মারা যান।

তিনি বলেন, ডেঙ্গু জ্বরে আমজাদ মণ্ডল (৫২) নামে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সোমবার মধ্যরাতে তাকে ভর্তি করা হয়। আজ মঙ্গলবার সকাল পৌনে ৬টায় তার মৃত্যু হয়।

আমজাদ পেশায় কৃষক। তার বাড়ি মানিকগঞ্জের শিবালয় থানার তেতুয়াধারা গ্রামে।

মৃতের ছোট ভাই রাশেদ মণ্ডল গণমাধ্যমকে বলেন, আমজাদ শুক্রবার জ্বরে আক্রান্ত হলে তাকে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়।

ধানমন্ডির একটি প্রাইভেট হসপিটালে গতকাল সোমবার রাতে ডেঙ্গুতে মদিনা আক্তার (৮) নামের এক শিশু মারা গেছে। তার বাড়ি মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর পৌরসভার ছোট ঝিনাইয়া গ্রামে। সে স্থানীয় অক্সফোর্ড কিন্ডারগার্ডেন এ কেজি ওয়ানে পড়তো। তার বাবা মিজানুর রহমান মধ্যপ্রাচ্যে থাকেন। দুই ভাই-বোনের মধ্যে মদিনা বড়।

ছেংগারচর বাজারের একটি ডায়াগনিস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করালে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয় তার পরিবার। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পর দ্রুত চাঁদপুর সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে পরামর্শ দেওয়া হয়। চাঁদপুর থেকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হসপিটালে। সেখানে চিকিৎসা চলাকালীন আইসিইউতে নেয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। সেখানে সিট না পাওয়ায় বেশ কয়েকটি হসপিটাল ঘুরে অবশেষে ভর্তি করানো হয় ধানমন্ডির একটি প্রাইভেট হসপিটালে। গত সোমবার রাত ১২টার দিকে সেই হসপিটালে মদিনা মৃত্যুবরণ করে।

মা ময়না আক্তার জানান, ডেঙ্গু আতঙ্কের কথা মেয়ে আমাকে প্রায়ই জানাতো। স্কুলে শিক্ষকরা না নাকি ডেঙ্গুর বিষয়ে তাদের সতর্ক থাকতে এবং বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখতে বলতো। কে জানে সেই ডেঙ্গুই মেয়ের প্রাণ নেবে। মদিনা বাড়িতেই ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে।

এদিকে, দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে।

কিশোর রবিউল ইসলাম (১৭) ঠাকুরগাঁও জেলার রানীশংকৈল উপজেলার নেকমরদ গ্রামের নয়ন ইসলামের ছেলে।

আজ মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে তার মৃত্যু হয় বলে হাসপাতালের পরিচালক ডা. আবু মোহাম্মদ খয়রুল ইসলাম জানিয়েছেন।

এদিকে, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পক্ষ থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়েছে, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আজ মঙ্গলবার সকালে রিয়ানা নামের তিন বছরের এক শিশু মারা গেছে। তার বাড়ি গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার নাকাইহাট এলাকায়। রিয়ানার বাবার নাম আশরাফুল আলম।

হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকরী অধ্যাপক সাহেদুজ্জামান রিবেল গণমাধ্যমকে বলেন, ডেঙ্গু জ্বরসহ শিশুটিকে গত শনিবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সঙ্গে নিউমোনিয়াও ছিল।

চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে। তবে গণমাধ্যমের তথ্য মতে এ সংখ্যা নব্বই ছাড়িয়েছে।

x

Check Also

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত চালুতে সরকারের জোর তৎপরতা: উপদেষ্টা মাহদী

এমএনএ প্রতিবেদক মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের শ্রমবাজার দ্রুত পুনরায় চালু করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে ...