এমএনএ খেলাধুলা ডেস্ক : বাংলাদেশের বিপক্ষে দুর্দান্ত জয়ে বিশ্বকাপে শুভসূচনা পেয়েছে স্কটল্যান্ড। রোববারের (১৭ অক্টোবর) ম্যাচে টাইগারদের হারানোর নায়ক স্কটিশ অলরাউন্ডার ক্রিস গ্রেভস। ব্যাটে ও বলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে ম্যাচসেরাও নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।ম্যাচে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে তৃতীয় ওভারেই অধিনায়ক কাইল কোয়েটজারের বিদায়ে শুরুতেই চাপে পড়ে গিয়েছিল স্কটল্যান্ড। একপর্যায়ে ৫৩ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে রীতিমতো কোণঠাসা হয়ে পড়ে তারা। ঠিক ওই সময়ই স্কটিশদের ত্রাতা হয়ে নামেন ক্রিস গ্রেভস। টাইগার বোলারদের পাত্তা না দিয়ে মাত্র ২৮ বলে ৪৫ রান করে শেষপর্যন্ত দলকে ১৪০ রানের লড়াকু পুঁজি এনে দেন।
ব্যাট হাতে ছড়ি ঘুরানোর পর বল হাতেও উজ্জ্বল ছিলেন ক্রিস গ্রেভস। এদিন টাইগারদের প্রধান দুই অস্ত্র সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিম জুটিকে নিজের শিকারে পরিণত করেন। এদিকে, বিশ্বকাপের মঞ্চে দ্যুতি ছড়িয়ে এরই মধ্যে সবার নজরে পড়েছেন গ্রেভস।এদিকে, স্কটিশ এই অলরাউন্ডার সম্পর্কে জানা গেছে অবাক করা এক তথ্য। আর তা হচ্ছে, এক সময় ই-কমার্স সাইট আমাজনের হয়ে ডেলিভারি বয়ের কাজ করতেন ক্রিস গ্রেভস। কঠোর পরিশ্রম করে সংসার চালিয়ে নিয়ে গেছেন তিনি।
স্কটল্যান্ডের হয়ে খেলার কথাই ছিল না গ্রেভসের। এই মুহূর্তে জনপ্রিয় এ অলরাউন্ডার মাসখানেক আগেও দলে ছিলেন না। কারণ তিনি জন্মসূত্রে দক্ষিণ আফ্রিকান। নিজের দেশের টিমে ঠাঁই না পেয়ে গ্রেভস চেয়েছিলেন ইংল্যান্ডের হয়ে খেলতে। কিন্তু চোটের কারণে তার সেই ইচ্ছাও পূরণ হয়নি। এরপর চিকিৎসার জন্য একসময় স্কটল্যান্ডে পাড়ি জমান তিনি। আর এভাবেই দেশটির ক্রিকেটের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। তারপর কেবল ইতিহাস।
এদিকে, বাংলাদেশকে হারানোর নায়ককে নিয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত স্কটল্যান্ড অধিনায়ক কাইল কোয়েটজার। তিনি বলেন, ‘স্মরণীয় একটা দিন পার করল গ্রেভস। তবে তার পারফরম্যান্সে আমি মোটেও অবাক হইনি। তার জন্য আমরা গর্বিত।’ আরও বলেন, সে জীবনে অনেক কিছুর মধ্য দিয়ে গেছে। কিছু দিন আগেও সে ছিল সামান্য এক ডেলিভারি বয়। আর এখন বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয়েছে।’
ম্যাচ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে কোয়েটজার বলেন, ‘আমরা জানতাম প্রতিপক্ষকে হারাতে হলে দুর্দান্ত খেলতে হবে। তবে বাংলাদেশের বিপক্ষে আমরা সামর্থ্যের পুরোটা দিয়ে খেলতে পারিনি। দারুণ প্রস্তুতি নিয়ে খেলতে নেমেও ব্যাট হাতে ব্যর্থ হয়েছেন খোদ স্কটিশ কাপ্তান। সে আক্ষেপও তার মুখে শোনা গেল।তবে তিনি বলেন, সামর্থ্যের সবটা দিতে না পারলেও যে জিনিসটা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, প্রত্যেকে একে অপরকে সাহায্য করেছে। ছেলেদের পারফরম্যান্সে আমি খুব খুশি।’
এদিকে, বাংলাদেশের বোলারদের কৃতিত্ব দিতেও ভুললেন না কোয়েটজার। মেহেদী-সাকিবদের তোপে শুরুতেই যে বেশ চাপে পড়ে গিয়েছিলেন তারা, তা অকপটেই স্বীকার করে নিয়েছেন স্কটিশ অধিনায়ক।বলেন, ‘বাংলাদেশি বোলাররা ভালো দক্ষতা দেখিয়েছে। আমাদের বেশ চাপে রেখেছিল তারা। তবে আমাদের ব্যাটিং গভীরতার ওপর আমরা ভরসা রেখেছিলাম। আমাদের বিশ্বাস ছিল আমরা মেরে খেলতে পারব।’
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

