এমএনএ ডেস্ক রিপোর্ট : জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জামাতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বামী, বিশিষ্ট পরমাণুবিজ্ঞানী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়ার ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০০৯ সালের ৯ মে তিনি ইন্তেকাল করেন।
তিনি তাঁর মেধা, মনন ও সৃজনশীলতা দিয়ে জনগণের কল্যাণে আমৃত্যু কাজ করে গেছেন। ওয়াজেদ মিয়া তাঁর কর্মের জন্য ভবিষ্যত্ প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণার উত্স হিসেবে বেঁচে থাকবেন।
বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের অধিকারী বিজ্ঞানী ওয়াজেদ মিয়া ১৯৪২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার ফতেপুর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। প্রয়াত আবদুল কাদের মিয়া ও ময়জান নেছার সন্তান ওয়াজেদ মিয়া ‘সুধা মিয়া’ নামেই বেশি পরিচিত ছিলেন।
ওয়াজেদ মিয়া ১৯৬১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক (সম্মান) পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে তৃতীয় এবং ১৯৬২ সালে স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান লাভ করেন।
১৯৬৭ সালে তিনি যুক্তরাজ্যের ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৬৫ সালে তিনি তৎকালীন পাকিস্তান আণবিক শক্তি কমিশনে যোগ দিয়ে চাকরি জীবন শুরু করেন। পরে আণবিক শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যানেরও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগে যুক্ত ওয়াজেদ মিয়া ১৯৬১ সালে ফজলুল হক হল ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত হন। ১৯৬৭ সালে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার সঙ্গে তার বিয়ে হয়।
বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়া ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর দীর্ঘ ৭ বছর নির্বাসিত জীবন কাটান।
তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক স্তরের পদার্থ বিজ্ঞান, ফলিত পদার্থ বিজ্ঞান ও প্রকৌশলের ছাত্রদের জন্য দু’টি গ্রন্থ রচনা করেছেন।
তার লেখা ৪৬৪ পৃষ্ঠার ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে ঘিরে কিছু ঘটনা ও বাংলাদেশ’ শিরোনামের গ্রন্থটি ১৯৯৩ সালের জানুয়ারিতে এবং ৩২০ পৃষ্ঠার ‘বাংলাদেশের রাজনীতি ও সরকারের চালচিত্র’ শিরোনামের গ্রন্থটি ১৯৯৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড কর্তৃক প্রকাশিত হয়। বহুল রাজনৈতিক ঘটনা সংবলিত এ দু’টি গ্রন্থ পাঠকদের কাছে বিশেষভাবে সমাদৃত হয়।
ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়ার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি বাণী দিয়েছেন। বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, বিজ্ঞান শিক্ষা, গবেষণা ও রাজনীতিতে ড. ওয়াজেদ মিয়ার অবদান বর্তমান ও ভবিষ্যত্ প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।
ওয়াজেদ মিয়ার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে আবদুল হামিদ বলেন, বিজ্ঞানী ওয়াজেদ মিয়া মৌলিক মিথস্ক্রিয়া এবং কণা পদার্থবিজ্ঞান, অনু এবং পারমাণবিক চুল্লী, সলিড স্টেট ফিজিক্স, তড়িত্চুম্বকত্ব, স্বাস্থ্য ও বিকিরণ পদার্থবিদ্যা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ক্ষেত্রে গবেষণা করেন। ওয়াজেদ মিয়া বিজ্ঞান গবেষণার পাশাপাশি জাতীয় রাজনীতিতে নীরবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে গেছেন।
দিবসটি পালনে পীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ, ড. এম এ ওয়াজেদ ফাউন্ডেশন, মহাজোটের শরীক দলসমূহ এবং আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন বিজ্ঞানীর কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন, ফাতেহা পাঠ ও জিয়ারত, স্মৃতিচারণ, মিলাদ মাহফিল ও গরিবদের মাঝে খাবার বিতরণসহ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
এ উপলক্ষে বিকাল ৪টায় ১৯, বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের ২য় তলায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হইবে। এতে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ এবং থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন।
এদিকে, রংপুর জেলা আওয়ামী লীগ, অঙ্গ সংগঠন, ড. ওয়াজেদ মিয়া ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে সকাল ৯টায় তার সমাধিস্থলে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হবে। বাদ জোহর রংপুর নগরীর কেরামতিয়া মসজিদ ও কোর্ট জামে মসজিদসহ বিভিন্ন মসজিদে মিলাদ মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত
হবে। সন্ধ্যা ৭টায় রংপুর জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ড. ওয়াজেদ মিয়ার স্মরণে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।
দিবসটি পালনে ড. ওয়াজেদ স্মৃতি সংসদও নানান কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। সকালে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় নগরীর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ড. ওয়াজেদ মিয়ার জীবনালেখ্যর উপর একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। ড. ওয়াজেদ মিয়া ফাউন্ডেশন ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় তার মৃত্যুবার্ষিকী পালন উপলক্ষে দিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
প্রয়াত বিজ্ঞানীর ভাতিজা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র তাজিমুল ইসলাম শামীম জানান, ওই দিন সকালে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে লালদীঘির ফতেহপুরে জয়সদনে প্রয়াত বিজ্ঞানীর কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু করা হবে।
সকালে ফতেহপুরের জয়সদন প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের পর গরিবদের মাঝে খাবার বিতরণ করা হবে। বিকালে উপজেলা সদরে দলীয় কার্যালয়ে আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের উদ্যোগে বিজ্ঞানীর স্মৃতিচারণে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।
এছাড়া বিভিন্ন মন্দির, গির্জা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ড. ওয়াজেদ মিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সজীব ওয়াজেদ জয় ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুল এবং তার পরিবারের সদস্যদের মঙ্গল কামনা করে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

