Don't Miss
Home / বিশেষ প্রতিবেদন / ঢাকায় বর্জ্য সংগ্রহকারীদের দৌরাত্ম্য: নির্ধারিত বিলের বাইরে অতিরিক্ত টাকা ও ঈদ বোনাস দাবি, ভোগান্তিতে বাসিন্দারা

ঢাকায় বর্জ্য সংগ্রহকারীদের দৌরাত্ম্য: নির্ধারিত বিলের বাইরে অতিরিক্ত টাকা ও ঈদ বোনাস দাবি, ভোগান্তিতে বাসিন্দারা

বিশেষ প্রতিবেদন

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বাসাবাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহকারী ভ্যান সার্ভিস কর্মীদের অতিরিক্ত অর্থ আদায়, ঈদ বোনাস দাবি এবং অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত বিলের বাইরে অতিরিক্ত টাকা দাবি করা এবং না দিলে বাসা থেকে ময়লা না নেওয়ার মতো অভিযোগে ভোগান্তিতে পড়েছেন অনেক বাসিন্দা।

ঢাকার আদাবর ও বায়তুল আমান এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, তাজমহল রোড, শেখেরটেকসহ আশপাশের এলাকায় ময়লা সংগ্রহকারীরা বাসাপ্রতি মাসে প্রায় ১০০০ টাকা পর্যন্ত বিল আদায় করছে। একই সঙ্গে ঈদ উপলক্ষে অতিরিক্ত ১০০০ টাকা ‘বোনাস’ দাবি করা হচ্ছে। কেউ এই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বা কম দিতে চাইলে সংশ্লিষ্ট বাসা থেকে ময়লা সংগ্রহ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে বাসিন্দাদের সঙ্গে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজও করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

একই অবস্থা চলছে ঢাকার গুলশান, বাড্ডা, বনানী, বনশ্রী, ধানমন্ডি, তেজগাঁও, মগবাজার, মতিঝিল, পুরান ঢাকা মিরপুর, পল্লবী, উত্তরাসহ ঢাকার অন্য এলাকাগুলোতেও।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী বাসিন্দারা বলছেন, নির্ধারিত নিয়ম কার্যকর না হওয়ায় মাঠপর্যায়ে অনেক ক্ষেত্রে ভ্যান সার্ভিস কর্মীরা নিজেদের ইচ্ছামতো টাকা আদায় করছে। তারা দ্রুত এ বিষয়ে কার্যকর নজরদারি ও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে, ঢাকা সিটি করপোরেশনের নীতিমালা অনুযায়ী বাসাবাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহের জন্য নির্ধারিত ফি সর্বোচ্চ ১০০ টাকা। এর বেশি আদায় করলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ।

সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, বাসা থেকে ময়লা সংগ্রহের জন্য নির্ধারিত ১০০ টাকার বেশি কেউ দাবি করলে তা সিটি করপোরেশনকে জানাতে হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের চুক্তি বাতিল করা হবে।

সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, গৃহস্থালির বর্জ্য সংগ্রহের কাজ করতে হলে ভ্যান সার্ভিস প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হয়। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সংশোধিত নীতিমালা অনুযায়ী পুরোনো ওয়ার্ডগুলোতে বর্জ্য সংগ্রহের কাজ পেতে প্রতিষ্ঠানকে বছরে ২০ লাখ টাকা জমা দিতে হয়, যার মধ্যে ১০ লাখ টাকা অফেরতযোগ্য ফি এবং ১০ লাখ টাকা জামানত। নতুন ওয়ার্ডগুলোতে এই পরিমাণ ১২ লাখ টাকা।

নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, বাসাবাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলো এলাকাভেদে ৫০ থেকে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা নিতে পারবে। তবে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় ভ্যান সার্ভিস প্রতিষ্ঠানগুলো বাসাপ্রতি ৮০ থেকে ৩০০ টাকা এবং হোটেল-রেস্তোরাঁ থেকে ১৫০০ থেকে ৫০০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে ৫৪টি ওয়ার্ডে তিন শতাধিক প্রতিষ্ঠান বর্জ্য সংগ্রহের কাজ করছে। নতুন নীতিমালার আওতায় একটি ওয়ার্ডে একটি প্রতিষ্ঠানকে কাজের অনুমতি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে সেবার মান ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যায়।

এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজের মান ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’ গ্রেডে মূল্যায়ন করা হবে। অতিরিক্ত ফি আদায়, বাসিন্দাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ বা সেবার মান খারাপ হলে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজন হলে অনুমতি বাতিল করা হবে।

x

Check Also

কর কর্মকর্তাদের সততা, নৈতিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান রিহ্যাবের

এমএনএ প্রতিবেদক কর কর্মকর্তাদের সততা, স্বচ্ছতা ও নৈতিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ রিয়েল ...