এমএনএ আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আফগানিস্তানের নতুন শাসক তালেবানের সঙ্গে ভারতের আলোচনা নিয়ে সরব হয়েছেন অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ।প্রতিবেশী দেশের নতুন সরকার ব্যবস্থাকে তারা সন্ত্রাসী হিসেবে দেখছেন কিনা; ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে তিনি ব্যাখ্যা দাবি করছেন।-খবর এনডিটিভির
এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন। ওমর আবদুল্লাহ বলেন, তালেবান কি সন্ত্রাসী সংগঠন, নাকি তারা সন্ত্রাসী না? কেন্দ্রীয় সরকার দয়া করে সেই ব্যাখ্যা দেবে। যদি তারা সন্ত্রাসী সংগঠন না হয়, তবে জাতিসংঘের সন্ত্রাসী তালিকা থেকে তাদের নাম ফেলে দেন। তাদের ব্যাংক হিসাব সচল করার সুযোগ করে দেন। চলুন, আমরা তাদের সঙ্গে ভিন্ন আচরণ না করি।
মোদি সরকারের কাছে ওমর আবদুল্লাহর প্রশ্ন—যদি তারা কোনো সন্ত্রাসী সংগঠন হয়, তাহলে তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসছেন কেন? যদি তারা সন্ত্রাসী না হন, তবে তাদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছেন কেন? কেন আপনারা তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দিচ্ছেন না? দয়া করে মনঃস্থির করুন। ব্যাখ্যা দিন।
আফগানিস্তান থেকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বিদেশি সেনাদের প্রত্যাহারের পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির ক্ষমতায় আসে তালেবান। এ ক্ষেত্রে ভারত সরকার যে তাদের অবস্থানে থাকছেন না তা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ওমর আবদুল্লাহ বলেন, আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে যাওয়া নিয়ে আমার কোনো অনাগ্রহ নেই। কিন্তু এভাবে কোনো দেশ ছেড়ে যাওয়া যায় না।তালেবান নেতাদের সঙ্গে গোপনে ভারত কিছুদিন ধরেই আলাপ-আলোচনা চালাচ্ছে। এ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এত দিন ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে তা স্বীকার করেনি।
গত মঙ্গলবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিবৃতি দিয়ে জানায়, দোহায় ভারতীয় দূতাবাসে রাষ্ট্রদূত দীপক মিত্তলের সঙ্গে আফগানিস্তান পরিস্থিতি আলোচনা করেছেন তালেবান নেতা শের মহম্মদ আব্বাস স্ট্যানিকজাই। এই খবর জানাজানি হওয়ার পরই ওমর আবদুল্লা প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই বিষয়ে ব্যাখ্যা দাবি করেন।
জাতিসংঘের যে কমিটি তালেবানের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি রেখেছে, বর্তমানে সেই কমিটির প্রধান পদে রয়েছে ভারত। পরিস্থিতি পরিবর্তন হওয়ায় সেই কমিটি যদি তালেবানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে, তবে তা হবে ভারতের হাত দিয়েই।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

