মএনএ রিপোর্ট : বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন ভারত সফরে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি না হলে অন্য যেকোনো চুক্তি হবে অর্থহীন।
তিনি দাবি করেন, সরকার নিজের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে অন্য দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিচ্ছে; যে কারণে তিস্তা চুক্তি নিয়ে দর-কষাকষি করতে পারছে না।
আজ বুধবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা জানানোর পর মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। জিয়া পরিষদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সংগঠনটির নেতা-কর্মীদের নিয়ে জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা জানান বিএনপির মহাসচিব।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর ফলপ্রসূ করতে হলে সবার আগে দুই দেশের অমীমাংসিত সমস্যাগুলোর সমাধান করতে হবে, যার অন্যতম হল পানি বণ্টন।
তিস্তাই হচ্ছে এখন সবার আগে প্রধান সমস্যা। এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর মানুষ আশা করেছিল, একটা সম্পর্ক তৈরি করে তিস্তার ন্যায্য হিস্যা আমরা পাব। শুধু তিস্তাই নয়, আমরা ৫৪টি নদীর কোনো ন্যায্য হিস্যা পাচ্ছি না। তিস্তার পানি চুক্তি যদি না হয়, তাহলে অন্য কোনো চুক্তি অর্থহীন হবে।
দেশের ‘স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে’ কোনো চুক্তি দেশের মানুষ মেনে নেবে না বলেও মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব।
২০১১ সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের সময়ই তিস্তা চুক্তি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপত্তির কারণে তা আটকে যায়।
সাত বছর ধরে ঝুলে থাকা এই চুক্তি প্রধানমন্ত্রীর এবারের ভারত সফরেও হচ্ছে না বলে মঙ্গলবার ইঙ্গিত দেন পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ।
তিস্তা চুক্তি ঝুলে থাকায় সরকারের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা দর কাষাকষি করতে পারছি না এজন্য যে, আমরা নতজানু হয়ে আছি। বাংলাদেশে যারা সরকার চালাচ্ছেন, যারা দরকাষাকষি করছেন, তারা আগেই দুর্বল হয়ে নতজানু হয়ে আছেন। তারা বাংলাদেশের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে অন্য দেশের স্বার্থকে রক্ষা করার চেষ্টা করছেন। সেজন্য আজ এই অবস্থা দাঁড়িয়েছে।

ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় বিএনপি ২০০১ সালে ক্ষমতায় গিয়েছিল—প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ভিত্তিহীন, অসত্য, বানোয়াট।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘এ কথাগুলো বলে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) কী প্রমাণ করতে চাইছেন? বাংলাদেশের নির্বাচন কি ভারতের “র”, আমেরিকার সহযোগিতা নিয়ে হয়?’
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী প্রায়ই এ ধরনের ভিত্তিহীন অসত্য কথা বলে থাকেন। এ কথাগুলোর একেবারেই ভিত্তি নেই, অসত্য-বানোয়াট।’
২০০১ সালে জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থনে বিএনপি জয়লাভ করেছিল—দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তারা (আওয়ামী লীগ) যে ক্ষমতা জবরদখল করে বসে আছে, তাহলে তারাও কি ভারতের “র” আর আমেরিকার সাহায্য নিয়ে বসে আছে?’
তিনি বলেন, এ ধরনের মন্তব্য করার আগে প্রধানমন্ত্রীর ভাবা উচিত ছিল যে এ ধরনের মন্তব্য করলে দেশের ভাবমূর্তির ক্ষতি হয়। দেশের ক্ষতি হয়। রাজনীতির ক্ষতি হয়। প্রধানমন্ত্রী লাগামহীন উক্তি করেছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিরোধী দলকে ‘ঘরে বন্দি’ রেখে নিজের দলীয় প্রতীক নৌকার পক্ষে ‘একতরফা’ নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন ফখরুল।

সম্প্রতি গত তিন সাপ্তাহে বগুড়ার শান্তাহার, চট্টগ্রাম ও মাগুরায় আওয়ামী লীগের জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর নৌকায় ভোট চাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে ফখরুল বলেন, এটাই প্রমাণ করে, এ দেশে গণতন্ত্র নেই। একটি দল এবং তার সভাপতি হিসেবে রাষ্ট্রীয় টাকায় হেলিকপ্টারে করে রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে প্রধানমন্ত্রী প্রত্যেকটি জনসভায় যাচ্ছেন, ভোটের প্রচার চালাচ্ছেন। তিনি (শেখ হাসিনা) একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য এগিয়ে চলছেন এবং গায়ের জোরে একতরফা ক্যাম্পাইন করছেন।
অন্যদিকে, অন্য দলগুলোকে ঘরে বন্দী করে রাখা হয়েছে। বিএনপিকে জনসভা করারও অনুমতি দেওয়া হয় না। এখানে প্রমাণ হয়, দেশে গণতন্ত্র নেই। প্রধানমন্ত্রী গায়ের জোরে প্রচার চালাচ্ছেন।
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, যেটা আগে করা দরকার, রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে দিতে হবে, তাদের সভা-সমাবেশ করতে দিতে হবে, স্বাভাবিক কার্যক্রম চালাতে দিতে হবে। এখানে নির্বাচনটা অর্থহীন হয়ে দাঁড়াবে।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, জঙ্গিবাদের কারণে নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে—এ বিষয়ে জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, তাঁরা এই ধরনের আশঙ্কা করেন না। কারণ, নির্বাচনের বিষয়টা এখনো নিশ্চিত নয়।
এসময় তার সঙ্গে ছিলেন- জিয়া পরিষদের চেয়ারম্যান কবীর মুরাদ, সহ-সভাপতি অধ্যাপক আবদুল কুদ্দুস, অধ্যাপক আবু তাহের, অধ্যাপক লুৎফুর রহমান, অধ্যাপক আবদুল লতিফ, অধ্যাপক আলী নুর রহমান, অধ্যাপক মাইনুল ইসলাম প্রমুখ।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

