আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের উপপররাষ্ট্র মন্ত্রী মাজিদ তাখত-রাভাঞ্চি বলেছেন, তেহরান এমন কোনো যুদ্ধবিরতি চায় না, যা প্রতিপক্ষকে পুনরায় সংগঠিত হয়ে ইরানের ওপর হামলার সুযোগ দেবে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরান কূটনীতি ও সংলাপকে স্বাগত জানালেও তা হতে হবে “মিথ্যা তথ্য বা প্রতারণার ভিত্তিতে নয়” এবং তা যেন নতুন সামরিক আগ্রাসনের পথ তৈরি না করে।
তেহরানে আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধান ও বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এসব মন্তব্য করেন। ইরানি সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজ এজেন্সির বরাতে জানা যায়, ইসলামাবাদে আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র–ইরান আলোচনার প্রেক্ষাপটে ইরানের দেওয়া ১০ দফা প্রস্তাবকে আলোচনার ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “আমরা এমন যুদ্ধবিরতি চাই না যা আক্রমণকারী শত্রুকে আবার সজ্জিত হয়ে হামলার সুযোগ দেবে।” মধ্যস্থতাকারীদের কাছে ইরানের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
ইরানে ব্যাংক কার্যক্রম স্বাভাবিক হচ্ছে
ইরানের ব্যাংক সমন্বয় কাউন্সিল জানিয়েছে, আগামীকাল শনিবার থেকে দেশজুড়ে সব ব্যাংক শাখায় পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হবে। নির্দেশনার আওতায় রাজধানী তেহরানের প্রধান কার্যালয়সহ সব শাখা অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে।
লেবাননে ইসরায়েলি হামলা ও পাল্টা উত্তেজনা
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির জাতীয় সংবাদ সংস্থা (এনএনএ)। দেইর কানুন রাস আল-আইন এলাকায় হামলায় একাধিক অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ারট্রাক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, হিজবুল্লাহ অ্যাম্বুলেন্স সেবাকে সামরিক কাজে ব্যবহার করছে—তাই এসব লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হচ্ছে। তবে এই অভিযোগের সপক্ষে কোনো প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি।
অন্যদিকে হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, তারা ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। কিরিয়াত শিমোনা, মেতুলা, মারগালিওত এবং মিসগাভ আম এলাকায় এসব হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
ইরানি ড্রোন প্রতিরোধে ইউক্রেনের সহায়তার দাবি
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছেন, তাঁর দেশ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশকে ইরানের তৈরি ‘শাহেদ’ ড্রোন ভূপাতিত করতে প্রযুক্তিগত ও সামরিক সহায়তা দিয়েছে।
তিনি বলেন, ইউক্রেনীয় বিশেষজ্ঞরা ইন্টারসেপ্টর ড্রোন ও ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার প্রযুক্তি ব্যবহার করে শত্রু ড্রোন ধ্বংসের কৌশল সরাসরি প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। জেলেনস্কির মতে, একাধিক দেশে এসব প্রযুক্তি প্রয়োগ করা হয়েছে এবং তা “বড় সাফল্য” হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান কূটনৈতিক উত্তেজনা, সীমান্ত সংঘাত এবং প্রযুক্তিগত সামরিক সহায়তার এই ধারাবাহিকতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

