সংসদ প্রতিবেদক
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি নির্ধারণ নিয়ে আলোচনার জন্য জাতীয় সংসদে মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন সরকারি দলের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক।
বুধবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ প্রস্তাবটি গ্রহণ করেন এবং এর ওপর আগামী ৫ এপ্রিল দুই ঘণ্টা আলোচনার সময় নির্ধারণ করেন।
প্রস্তাবটি গ্রহণের ঘোষণা দিয়ে স্পিকার সংসদে বলেন, বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে এটি একটি বিরল ঘটনা। স্বাধীনতার পর গত ৫৩ বছরের ইতিহাসে এই প্রথমবার সরকারি দলের কোনো সদস্যের উত্থাপিত মুলতবি প্রস্তাব আলোচনার জন্য গ্রহণ করা হয়েছে।
এর আগে গত ৩০ মার্চ স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালও জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা চেয়ে একটি মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপন করেছিলেন, তবে সেটি এখনো বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী, সংবিধানসংক্রান্ত প্রস্তাবগুলো কার্যকর করার একটি ধাপ ছিল গণভোট। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী হওয়ায় এসব প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য বর্তমান জাতীয় সংসদকে একই সঙ্গে সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবে কাজ করার কথা। তবে এখনো সেই পরিষদের কোনো অধিবেশন আহ্বান করা হয়নি। পাশাপাশি বিএনপির সংসদ সদস্যরাও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেননি।
সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা আহ্বানের বিষয়ে আলোচনা চেয়ে গত ২৯ মার্চ মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপন করেছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। এ বিষয়ে গত মঙ্গলবার সংসদে আলোচনা হলেও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এ অবস্থায় ‘প্রতিকার না পাওয়া’ এবং প্রস্তাবটি ‘চাপা দেওয়ার চেষ্টা’ হচ্ছে—এই অভিযোগ তুলে আজ বুধবার বিরোধী দল ওয়াকআউট করে।
এমন প্রেক্ষাপটে আজকের অধিবেশনে নতুন মুলতবি প্রস্তাবটি উপস্থাপন করেন জয়নুল আবদিন ফারুক। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন ও ত্যাগের ফল হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতৃত্বে সংঘটিত জুলাই-আগস্ট আন্দোলন থেকে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ প্রণীত হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনার একটি রূপরেখা। এই সনদে সংবিধান সংশোধনসহ বিভিন্ন আইন প্রণয়ন, সংশোধন ও পরিমার্জনের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এর কার্যকর বাস্তবায়ন পদ্ধতি নির্ধারণে সংসদের চলমান কার্যক্রম স্থগিত রেখে বিস্তারিত আলোচনা অপরিহার্য।
স্পিকার প্রস্তাবটির গুরুত্ব বিবেচনা করে কার্যপ্রণালি বিধির ৬৫(২) অনুযায়ী তা আলোচনার অনুমতি দেন। সংসদের বর্তমান কার্যসূচি বিবেচনায় নিয়ে তিনি আগামী ৫ এপ্রিল দিনের শেষ বিষয় হিসেবে এ প্রস্তাবের ওপর সর্বোচ্চ দুই ঘণ্টা আলোচনার সময় নির্ধারণ করেন।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

