দেশে করোনা সংক্রমণের শীর্ষে রাজধানী ঢাকা
Posted by: News Desk
April 19, 2020
এমএনএ রিপোর্ট : মহামারী করোনা ভাইরাসে সংক্রমণের দিক থেকে এখনও শীর্ষে রাজধানী ঢাকা। দ্বিতীয় স্থানে নারায়ণগঞ্জ। এতদিন অন্য জেলাগুলোতে সংক্রমণের হার কম ছিল। কিন্তু গতকাল শনিবারের নতুন তথ্য হচ্ছে- গাজীপুর, নরসিংদী ও কিশোরগঞ্জে দ্রুত বাড়ছে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে ৩০৬ জনের দেহে করোনার সংক্রমণ ধরা পড়েছে। শনাক্তের ৪৯ শতাংশই যুবক।
তাদের বয়স ২১ থেকে ৪০ বছরের ঘরে। এছাড়া একই সময়ে মারা গেছেন আরও ৯ জন। এ পর্যন্ত শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১৪৪ এবং মৃতের সংখ্যা ৮৪। নতুন ৮ জনসহ সুস্থ হয়ে বাড়ি গেছেন ৬৬ জন। গত শুক্রবার রাত পর্যন্ত ঢাকায় ১১৩টি এলাকায় প্রায় ৭৪০ জনের দেহে ভাইরাসটির সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া সারা দেশের ৫০ জেলায় প্রাণঘাতী করোনা ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে ২৯ জেলা লকডাউন ঘোষণা করা হয়।
এদিকে বিশ্বের অন্যান্য দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার বয়স্কদের মধ্যে বেশি হলেও বাংলাদেশে যুবক ও তরুণরাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। গত শুক্রবার পর্যন্ত যেখানে ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সী রোগী ছিল ৪০ শতাংশ, গতকাল শনিবার তা ৪৯ শতাংশে পৌঁছেছে। মূলত সরকারি নির্দেশনা লঙ্ঘন করে সামাজিক দূরত্ব না মানা, কাজের খোঁজে শহরমুখিতাসহ অন্যান্য কারণে যুবকরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
গতকাল শনিবার দুপুর আড়াইটায় দেশের কোভিড-১৯ সম্পর্কিত সার্বিক পরিস্থিতি জানাতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত অনলাইন ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। এতে জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা জানান, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এ নিয়ে দেশে করোনা ভাইরাসে মোট মৃতের সংখ্যা ৮৪ জন। একদিনে নতুন করে আরও করোনা শনাক্ত হয়েছেন ৩০৬ জন। ৮ মার্চের পর এটাই একদিনে সর্বোচ্চ আক্রান্তের রেকর্ড।
গত শুক্রবার রাত ৮টা পর্যন্ত প্রাপ্ত হিসাব অনুযায়ী ঢাকা মহানগরীর ১১৩টি এলাকায় করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে আদাবর ৫, আগারগাঁও ২, আরমানিটোলা ১, আশকোনা ১, আজিমপুর ১১, বাবুবাজার ১১, বাড্ডা ৮, বেইলিরোড ৩, বনানী ৮, বংশাল ১৫, বানিয়ানগর ১, বাসাবো ১৭, বসুন্ধরা ৫, বেগুনবাড়ী ১, বেগমবাজার ১, বেড়িবাঁধ ১, বকশীবাজার ১, বছিলা ১, বুয়েট এরিয়া ১, ক্যান্টনমেন্ট ১, সেন্ট্রাল রোড ১, চানখাঁরপুল ৬, চকবাজার ১০, ঢাকেশ্বরী ১, ডেমরা ২, ধানমণ্ডি ১৮, ধোলাইখাল ১, দয়াগঞ্জ ১, ইস্কাটন ৬, ফরিদাবাদ ১, ফার্মগেট ১, গেণ্ডারিয়া ১৪, গোড়ান ১, গোপীবাগ ৩, গ্রিন রোড ১০, গুলিস্তান ৩, গুলশান ১৩, হাতিরঝিল ১, হাতিরপুল ৩, হাজারীবাগ ১৫, ইসলামপুর ২, জেলগেট ২, যাত্রাবাড়ী ২৩, ঝিগাতলা ৫, জুরাইন ৩, কল্যাণপুর ১, কামরাঙ্গীরচর ৪, কাজীপাড়া ৩, কারওয়ান বাজার ১, কচুক্ষেত ১, খিলগাঁও ১, খিলক্ষেত ১, কলতাবাজার ১, কদমতলী ২, কোতোয়ালি ৪, কুড়িল ১, লালবাগ ২১, লক্ষ্মীবাজার ৪, মালিটোলা ১, মালিবাগ ৪, মানিকদী ১, মাতুয়াইল ১, মীরহাজীরবাগ ২, মিরপুর-১ : ৮, মিরপুর-৬ : ৩, মিরপুর-১০ : ৭, মিরপুর-১১ : ১৩, মিরপুর-১২ : ১১, মিরপুর-১৩ : ২, মিরপুর-১৪ : ৬, মিটফোর্ড ১৭, মগবাজার ১১, মহাখালী ১২, মোহনপুর ১, মোহাম্মদপুর ২৬, মতিঝিল ১, মুগদা ৩, নবাবপুর ১, নবাবগঞ্জ ২, নারিন্দা ৩, নাখালপাড়া ৫, নিকুঞ্জ ১, পীরেরবাগ ২, পুরানা পল্টন ২, রাজারবাগ ১৩, রামপুরা ৪, রমনা ৫, রায়েরবাগ ১, রায়েরবাজার ১, সবুজবাগ ২, সদরঘাট ১, সায়েদাবাদ ১, সায়েন্সল্যাব ১, শাহআলীবাগ ২, শাহবাগ ৬, শাঁখারী বাজার ৭, শান্তিবাগ ১, শ্যামপুর ১, শান্তিনগর ৭, শ্যামলী ৪, শেওড়াপাড়া ১, শেখেরটেক ১, সোয়ারীঘাট ৩, সিদ্ধেশ্বরী ৩, শনির আখড়া ১, সূত্রাপুর ৯, তেজগাঁও ১৬, তেজতুরী বাজার ১, টোলারবাগ ১৯, উর্দু রোড ১, উত্তরা ২০, ভাটারা ১, ওয়ারী ২৭।
দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫০টিতেই সংক্রমণ ধরা পড়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হয়েছে ঢাকা মহানগরীতে।
ঢাকা বিভাগ : ঢাকা সিটি ৭৪০, ঢাকা জেলা ২৮, গাজীপুর ১১৭, কিশোরগঞ্জ ৩৩, মাদারীপুর ২৩, মানিকগঞ্জ ৫, নারায়ণগঞ্জ ২৮৯, মুন্সীগঞ্জ ২৭, নরসিংদী ৬৫, রাজবাড়ী ৭, ফরিদপুর ২, টাঙ্গাইল ৯, শরীয়তপুর ৬, গোপালগঞ্জ ১৭।
চট্টগ্রাম বিভাগ : চট্টগ্রাম ৩৭, কক্সবাজার ১, কুমিল্লা ১৫, বি-বাড়ীয়া ৯, লক্ষ্মীপুর ১৮, বান্দরবান ১, নোয়াখালী ২, ফেনী ১, চাঁদপুর ৮।
সিলেট বিভাগ : মৌলভীবাজার ২, সুনামগঞ্জ ১, হবিগঞ্জ ১, সিলেট ৩।
রংপুর বিভাগ : রংপুর ৩, গাইবান্ধা ১২, নীলফামারী ৬, লালমনিরহাট ২, কুড়িগ্রাম ২, দিনাজপুর ৮, রংপুর ১, ঠাকুরগাঁও ৩।
খুলনা বিভাগ : খুলনা ১, নড়াইল ২, চুয়াডাঙ্গা ১।
ময়মনসিংহ বিভাগ : ময়মনসিংহ ১৮, জামালপুর ১২, নেত্রকোনা ৭, শ্রীপুর ৫।
বরিশাল বিভাগ : বরগুনা ৫, বরিশাল ১৭, পটুয়াখালী ২, পিরোজপুর ৪, ঝালকাঠি ৩।
রাজশাহী বিভাগ : জয়পুরহাট ২, পাবনা ১, বগুড়া ১, রাজশাহী ৪।
লকডাউন জেলা : সাত এপ্রিল লকডাউন করা হয় নারায়ণগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলা। এছাড়া ৮ এপ্রিল নরসিংদী, জামালপুর ও কক্সবাজার; ৯ এপ্রিল চাঁদপুর; ১০ এপ্রিল গাইবান্ধা, নোয়াখালী ও কুমিল্লা; ১১ এপ্রিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সিলেট, ঠাকুরগাঁও, রাজবাড়ী ও গাজীপুর; ১২ এপ্রিল বরিশাল, লক্ষ্মীপুর ও সুনামগঞ্জ; ১৩ এপ্রিল নেত্রকোনা, মৌলভীবাজার; ১৪ এপ্রিল গোপালগঞ্জ, নীলফামারী, ময়মনসিংহ; ১৫ এপ্রিল শরীয়তপুর, নওগাঁ, দিনাজপুর, শেরপুর এবং গত বৃহস্পতিবার মাদারীপুর ও জয়পুরহাট জেলা লকডাউন ঘোষণা করা হয়।
লকডাউন উপজেলার মধ্যে পটুয়াখালীর দুমকি, মাদারীপুরের শিবচর, বরগুনার আমতলী, ঢাকার সাভার, টাঙ্গাইলের বাসাইল ও চট্টগ্রামের সাতকানিয়াও লকডাউন করা হয়েছে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার বগুড়ার আদমদীঘি ও ঝালকাঠি সদর উপজেলা লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে।
শীর্ষে ঢাকা রাজধানী দেশে করোনা সংক্রমণের 2020-04-19