Don't Miss
Home / আইন আদালত / ধর্ষণ মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিতে বিশেষ উদ্যোগ নিতে মন্ত্রণালয়গুলোকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

ধর্ষণ মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিতে বিশেষ উদ্যোগ নিতে মন্ত্রণালয়গুলোকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

বিশেষ প্রতিনিধি

দেশে ধর্ষণ মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে সমন্বিত বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে তিনি এ নির্দেশনা দেন।

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, মন্ত্রিসভা সুয়োমোটো (নিজ উদ্যোগে) একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে—দেশে বর্তমানে চলমান এবং পূর্বে দায়ের করা সব ধর্ষণ মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সব মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে সমন্বিতভাবে একটি বিশেষ উদ্যোগ বা ‘স্পেশাল ড্রাইভ’ গ্রহণ করতে হবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী সমাজ থেকে ধর্ষণ প্রবণতা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন এবং এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করে প্রয়োজনে সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত গিয়ে বিচার নিশ্চিত করার কথাও বলেছেন তিনি।

তিনি বলেন, কোনো মামলা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে সাধারণত একাধিক সংস্থা জড়িত থাকে। তাই এসব সংস্থার মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতার ঘটনায় আইন প্রয়োগের সক্ষমতা আরও বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নাসিমুল গনি বলেন, ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের মামলার দ্রুত বিচারের জন্য দেশের প্রতিটি জেলায় ইতোমধ্যে বিশেষ আদালত রয়েছে। এসব আদালতের কার্যকারিতা আরও বাড়ানো এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শক্তিশালী করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

বাজেট সংক্রান্ত দুই অধ্যাদেশ আইনে রূপ দেওয়ার অনুমোদন

মন্ত্রিসভার তৃতীয় বৈঠকে ২০২৪–২৫ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট এবং ২০২৫–২৬ অর্থবছরের মূল বাজেট সংক্রান্ত দুটি অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, ‘নির্দিষ্টকরণ (সম্পূরক) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ আইনে রূপ দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। সংবিধানের ৯১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো অর্থবছরে অনুমোদিত ব্যয় অপর্যাপ্ত হলে বা নির্ধারিত সীমার বেশি ব্যয় হলে সম্পূরক আর্থিক বিবৃতি জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করতে হয়। তবে সংসদ ভেঙে যাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে তা উপস্থাপন সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, এ পরিস্থিতিতে সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অধ্যাদেশ জারি করেছিল, যা এখন আইনে পরিণত করার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

একইভাবে ২০২৫–২৬ অর্থবছরের বাজেট সংক্রান্ত ‘নির্দিষ্টকরণ অধ্যাদেশ, ২০২৫’ আইনে রূপ দেওয়ার প্রস্তাবও মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পেয়েছে। সংবিধানের ৮৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রতি অর্থবছরের আয়-ব্যয়ের বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি সংসদে উপস্থাপন করার কথা থাকলেও সংসদ না থাকায় তা সম্ভব হয়নি। এজন্য সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদের অধীনে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল।

ঈদ ছুটির মধ্যেও প্রধানমন্ত্রীর দাপ্তরিক কার্যক্রম

এদিকে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সাত দিনের সরকারি ছুটি শুরু হলেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মঙ্গলবার সচিবালয়ে অফিস করেন এবং সরকারি কার্যক্রম অব্যাহত রাখেন।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, প্রধানমন্ত্রী সকাল প্রায় ১১টার দিকে সচিবালয়ে তার কার্যালয়ে পৌঁছান। পরে সেখানে বিভিন্ন বৈঠকে অংশ নেন।

এর আগে সকালে তিনি কৃষক কার্ড প্রস্তুতি সেলের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে প্রায় ২১ হাজার ৫০০ কৃষকের জন্য কৃষক কার্ড কর্মসূচির প্রি-পাইলটিং চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আগামী ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখে টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় কৃষকদের মধ্যে কার্ড বিতরণের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।

মন্ত্রিসভা বৈঠক ও অন্যান্য কার্যক্রম

বিকেলে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে সচিবালয়ে পৌঁছালে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার তাকে স্বাগত জানান।

উল্লেখ্য, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ১৭ মার্চ থেকে শুরু হওয়া সরকারি ছুটি চলবে ২৩ মার্চ পর্যন্ত। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় আগে ১৯ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত পাঁচ দিনের ছুটি নির্ধারণ করেছিল। পরে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ১৮ মার্চও ছুটি ঘোষণা করা হয়। এছাড়া ১৭ মার্চ শবে কদরের ছুটি থাকায় মোট সাত দিনের টানা ছুটি হচ্ছে।

এর আগে সোমবার দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার সাহাপাড়া খালে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে সারাদেশে খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

x

Check Also

লাভজনক হয়েও ১০১ কোটি টাকা পরিশোধে বিএসসির গড়িমসি, বিপাকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন (বিএসসি) এখনো ১০১ কোটি টাকার ...