Don't Miss
Home / সম্পাদকীয় / নারীর মর্যাদায় দৃষ্টিভঙ্গি বদলানো প্রয়োজন

নারীর মর্যাদায় দৃষ্টিভঙ্গি বদলানো প্রয়োজন

পরিবার বা সমাজে পুরুষের তুলনায় নারীর অবদান কোনো অংশেই কম নয়; এর পরও তারা সমান মর্যাদায় আজও আসীন হতে পারছে না। একশ্রেণির মানুষের পক্ষপাতমূলক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে ঘরে-বাইরে নারী বঞ্চনার শিকার হয়।

দেশের এমন কোনো এলাকা নেই, নারী সহিংসতার শিকার হয় না। সংবিধানে জেন্ডার নির্বিশেষে সব মানুষের সমানাধিকার নিশ্চিত করা আছে। নারী নির্যাতনের বিচারে কঠোর শাস্তির বিধান করা হয়েছে। আইনের যথার্থ প্রয়োগ না থাকায় অপরাধীরা যেমন পুলিশ প্রশাসনকে তোয়াক্কা করে না, নির্যাতিত অনেক নারীও বিচারমুখী হয় না। কালের কণ্ঠ ও মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে নারীনেত্রী ও মানবাধিকারকর্মীরা এ বিষয়ে উদ্বেগ ব্যক্ত করে বলেছেন, পরিস্থিতির ইতিবাচক পরিবর্তন চাইলে সমাজের সবার দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আনতে হবে।

নারীর ক্ষমতায়নে দেশ অনেক এগিয়েছে, শিক্ষায়-কর্মজগতে তাদের অংশগ্রহণ বেড়েছে। সার্বিকভাবে নারীর উন্নয়ন
কই! সমাজের অর্ধেক সদস্য যে নারী তাদের পশ্চাৎপদ রেখে কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্রীয় অগ্রগতি অর্জন কি সম্ভব? বিশ্লেষকদের মত হচ্ছে, নারীদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা প্রাপ্তির পথে বড় বাধাগুলোর মধ্যে আছে সচেতনতার অভাব, পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি, আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হওয়ার মতো অনেক কারণ। কোনো একটি বিষয়ে গোটা সমাজ এক দিনেই সচেতন হয়ে ওঠে না। নানামুখী কর্মসূচির মাধ্যমে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটাতে হয়।

আমাদের সমাজে নারীদের সমমর্যাদা প্রাপ্তির পক্ষে মত এখন আগের তুলনায় অনেক শক্তিশালী হলেও তা যথেষ্ট নয়। নারীর সমানাধিকার নিশ্চিতে জাতিসংঘ প্রণীত সিডও সনদ বাংলাদেশ এখনো পুরোপুরি অনুমোদন করেনি, দুটি অনুচ্ছেদ এখনো ‘সংরক্ষণ’ রেখেছে। এ বিষয়ে সরকার জাতিসংঘকে সম্প্রতি জানিয়েছে, সংরক্ষণ করা দুই অনুচ্ছেদে অনুমোদন দিতে বাংলাদেশের সমাজ এখনো প্রস্তুত নয়। অনুচ্ছেদ দুটির একটিতে সম্পত্তিতে নারীকে সমান অধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

নারী নেতৃত্বের বিচারে আমরা বিশ্বে নজর কেড়েছি। আমাদের সরকারপ্রধান ও স্পিকার নারী। নারীশিক্ষার হার বাড়ছে। এসব অগ্রগতি তখনই পুরোপুরি অর্থবহ হবে, যখন একজন নারী তার জেন্ডার পরিচিতি ছাড়িয়ে প্রধানত মানুষ হিসেবে গণ্য হবে। অধিকার আদায়ে নির্যাতিত নারীদের অবশ্যই মুখ খুলতে হবে—দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন আনতে হবে পুরুষ সমাজকেও। একইভাবে প্রয়োজন রয়েছে আইনের শাসনের। মামলার বিচারে ধীরগতি, ন্যায়বিচার প্রাপ্তি নিয়ে সংশয়, মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি নারীদের প্রতিবাদী হতে দিচ্ছে না। সমাজ নারী ও পুরুষ সবারই। কোনো একটি অংশকে অবহেলিত রেখে সার্বিক সমাজব্যবস্থাকে স্থিতিশীল করা যাবে না।

-সম্পাদক

x

Check Also

২০২১ গুরুত্বপূর্ণ একটি বছর

এমএনএ সম্পাদকীয় : হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনার মধ্য দিয়ে কেটে গেলো একটি বছর। শতাব্দির ভয়াবহ মহামারির কবলে ...