ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় মন্দির ও হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনার জের ধরে সেখানকার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চৌধুরী মোয়াজ্জাম আহমেদকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ২৪তম ব্যাচের এই কর্মকর্তাকে পরবর্তী পদায়নের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।
জনপ্রশাসন সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী আজ রবিবার এ তথ্য জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপনও জারি করা হয়েছে।
এর আগে এই ঘটনার জের ধরে নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল কাদেরকেও প্রত্যাহার করা হয়েছিল। তাদের পাশাপাশি স্থানীয় সংসদ সদস্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী ছায়েদুল হকের পদত্যাগের দাবিও উঠেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক যুবকের ধর্মীয় অবমাননাকর একটি পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে ৩০ অক্টোবর সকালে স্থানীয় ডিগ্রি কলেজ মোড়ে আহলে সুন্নত ওয়াল জমা’আতের উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক রিয়াজুল করিমের নেতৃত্বে এবং স্থানীয় খেলার মাঠে খাঁটি আহলে সুন্নত ওয়াল জমা’আতের সভাপতি মো. মহিউদ্দিনের নেতৃত্বে পৃথক দুটি সমাবেশ হয়। উপজেলা প্রশাসন ওই সমাবেশের অনুমতি দিয়েছিল। এরপর ওইদিনই নাসিরনগরে ১৫টি মন্দির এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের দেড় শতাধিক ঘর ভাংচুর ও লুটপাট চালানো হয়।
ওই যুবককে পুলিশ আগের দিন গ্রেপ্তারের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠালেও আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের ব্যানারে ৩০ অক্টোবর প্রতিবাদ সমাবেশ ডাকা হয়। ওই সমাবেশ চলার মধ্যেই হিন্দু পাড়ায় হামলা হয়।
আহলে সুন্নাতের ওই সমাবেশে ইউএনও ও ওসি দুজনই উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশে বক্তারা উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন বলে স্থানীয়দের ভাষ্য।
তবে আহলে সুন্নাতের নেতারা তাদের দায় অস্বীকার করে পুরো ঘটনার জন্য প্রশাসনের গাফিলতিকে দায়ী করেছেন। হামলা না ঠেকিয়ে তাদের সমাবেশে ইউএনও মোয়াজ্জাম ও ওসি কাদেরের উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
৩০ অক্টোবরে ওই হামলার পর পুলিশ পাহারার মধ্যেও পাঁচদিন পর গত শুক্রবার আবার নাসিরনগরে হিন্দুদের ঘরে অগ্নিসংযোগ হলে প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আরও জোরদার হয়। তার দুদিনের মধ্যে ইউএনও মোয়াজ্জামকে সরিয়ে দেওয়া হল।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

