এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে (ব্রুঙ্কসে) বাড়ির মালিকের ছুরিকাঘাতে জাকির খান (৪৪) নামে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী ও কমিউনিটি নেতা নিহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে থ্রগস নেক এলাকার লগান এভিনিউয়ে তাঁর ভাড়া বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এমন সময় বাড়িওয়ালা এসে বাড়ি ভাড়া চাইলে এ নিয়ে জাকির খানের তর্ক হয়। এক পর্যায়ে ১২ বছর বয়সী সন্তানের সামনেই জাকির খানকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান ওই বাড়ির মালিক।
পরে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় জ্যাকবি মেডিকেল সেন্টারে নিলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা জাকির খানকে মৃত ঘোষণা করেন। তার বুকে অন্তত সাতটি ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
স্থানীয় পুলিশ ৫১ বছর বয়সী ওই অ্যাপার্টমেন্টের মালিককে গ্রেপ্তার করেছে জানিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, ভাড়া নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতিবেশীদের ভাষ্য, বাড়িভাড়া নিয়ে জাকিরের সঙ্গে মালিকের বছর খানেক ধরে বিরোধ চলছিল।
সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের সন্তান জাকির খান ব্রঙ্কসের পার্কচেস্টার রিয়েল এস্টেট কোম্পানি নামে একটি ব্রোকার প্রতিষ্ঠান চালাতেন। জাকিরের স্ত্রী, ১৩ বছর বয়েসী এক মেয়ে, দশ ও সাত বছর বয়েসী দুই ছেলে রয়েছে।
তার গ্রামের বাড়ি সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ থানার পাঠানটিলা গ্রামে। নিউইয়র্কে পড়ালেখা করতে গিয়ে ১৯৯২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস শুরু করেন তিনি।
রিয়েল এস্টেট ব্যবসা সূত্রে জাকির খান নিউইয়র্কের বাংলাদেশী কমিউনিটিতে খুবই সুপরিচিত মুখ হয়ে উঠেন।
জাকির খানের ঘনিষ্ঠজনরা বলেন, মিশরীয় ওই মালিকের বাসায় জাকির দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া ছিলেন। তবে মালিকের অভিযোগ ছিল, জাকির বেশ কয়েক মাস ধরে ভাড়া দিচ্ছিলেন না, তিনি নাকি অ্যাপার্টমেন্টটি কিনতে চাইছিলেন।
জাকিরের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে শত শত প্রবাসী বাংলাদেশি জ্যাকবি হাসপাতালে ভিড় করেন। কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে আসে। ঘাতকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তারা।
নিউইয়র্কে বাংলাদেশের বিভিন্ন দিবস উদযাপনের আয়োজনে সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল জাকিরের। দুদিন আগে ব্রঙ্কসে একুশ উদযাপনের কর্মসূচিতেও জাকির খানের ভূমিকা ছিল।
প্রবাসীদের দাবি নিয়ে আলোচনার সূত্র ধরে স্থানীয় কংগ্রেস সদস্য, সিনেটর ও অ্যাসেম্বলি সদস্যদের সঙ্গেও তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ তৈরি হয়েছিল।
ব্রঙ্কসে বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতা মোহাম্মদ এন মজুমদার হাসপাতাল থেকে জানান, স্ত্রী ও সন্তানেরা জাকিরের লাশের পাশে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন।
পার্কচেস্টারে বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতা নজরুল হক বলেন, মর্মান্তিক এ ঘটনায় জাকির খানের পরিবার মুষড়ে পড়েছে। তারা সবার দোয়া চেয়েছেন।
ময়নাতদন্তের জন্য জাকিরের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁর মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানো হবে, নাকি নিউইয়র্কে দাফন হবে—এ বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

