এমএনএ জাতীয় ডেস্কঃ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে টানা চতুর্থবারের মতো জয়ী হয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এরপরই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসনে বিজয়ী হয়ে চমক দেখিয়েছেন স্বতন্ত্রপ্রার্থীরা। অপরদিকে, মহাজোটে থেকেও ভরাডুবি হয়েছে জাতীয় পার্টির (জাপা)। খালি হাতে ফিরেছে বিএনপির দলছুট নেতাদের নিয়ে গঠিত শমসের মবিন চৌধুরী ও তৈমূর আলম খন্দকারের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল বিএনপি।
নির্বাচনে ২৮টি দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও ২২৩টি আসন জয়ী হয়েছেন নৌকা মার্কা নিয়ে নির্বাচন করা আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা। উৎসব-উৎকণ্ঠার এ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ৬২টি, জাতীয় পার্টি ১১টি ও অন্যান্য দল ২টি আসন পেয়ে জয়ী হয়েছে। আর একটি আসনে নির্বাচন স্থগিত রয়েছে। ফলে দেশের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রা অব্যহত রাখতে ফের সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। একই সাথে টানা চতুর্থ মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। সরকার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর নতুন রাজনৈতিক ইতিহাস গড়বেন তিনি। সারাদেশে ভোট পড়েছে মাত্র ৪০ শতাংশ। রাজপথের প্রধান বিরোধী দল বিএনপির নির্বাচন বর্জন ও ফলাফল পূর্ব নির্ধারিত থাকার ফলে ভোটার উপস্থিতি অনেকটাই কম ছিল।
এদিকে ভোটের মাঠে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের পর দলের কর্মী-সমর্থকদের বিজয় র্যালি না করার নির্দেশনা দিয়েছেন শেখ হাসিনা। নির্বাচনী শৃঙ্খলা রক্ষায় এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। আর ভোটের মাঠে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কাছে হেরেছেন আওয়ামী লীগের বেশ ক’জন হেভিওয়েট প্রার্থীরা। তবে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে মনে করছেন ক্ষমতাসীনরা। আর নির্বাচন কমিশনের দাবি প্রত্যাশার চেয়ে ভালো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (৭ জানুয়ারি) সকাল আটটা থেকে সারাদেশে একযোগে শুরু হয় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ভোটগ্রহণ। বিরবিহীন ভোটগ্রহণ চলে বিকেল চারটা পর্যন্ত। দেশের বেশ কিছু স্থানে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন সাধারণ ভোটাররা। এদিকে গোপালগঞ্জ-৩ (টুঙ্গিপাড়া-কোটালীপাড়া) আসনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২ লাখ ৪৯ হাজার ৯৬২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন তিনি।
অন্যদিকে মাঠের প্রধান বিরোধী দল বিএনপির ভোট বর্জনের কারণে ফলাফল অনেকটাই নিশ্চিত থাকায় নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতির সংখ্যা অনেকটাই কম ছিল। ভোটগ্রহণ শুরুর পর থেকে দীর্ঘ লাইন দেখা যায় অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রে। ধীর গতিতে চলেছে ভোটগ্রহন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার দাবি করেছেন, প্রায় ৪০ শতাংশ ভোট পড়েছে। আর ভোটের মাঠে দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছে ধরাশায়ী হয়েছে আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট নেতারা। ভোটের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করলেও শেষ পর্যন্ত হেরে গেছেন তারা। তবে বিজয় অর্জনের পর দলের কর্মী-সমর্থকরা যেন সংঘাত-সহিংসতা বা কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলায় জড়িয়ে না পড়ে— সেজন্য বিজয় র্যালি না করার নির্দেশনা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এ বিষয়ে রোববার দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমাদের দলের প্রধান শেখ হাসিনা প্রমাণ করে দেখিয়েছেন, সরকারপ্রধান হয়েও স্বাধীন-নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে পারেন। জনগণ তাদের পছন্দমতো প্রার্থীদের ভোট দিয়েছে। তবে দলের নেতাকর্মীরা বিজয় র্যালি করতে পারবে না। এটা আমাদের নেত্রীর নির্দেশনা।’
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণের মধ্য দিয়ে টানা চতুর্থ মেয়াদে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আশা আওয়ামী লীগকে শক্ত হাতেই নেতৃত্ব দিচ্ছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। তার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ দলটির কেন্দ্র থেকে তৃণমূল। অথচ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যার পর ২২ বছর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার বাহিরে ছিল আওয়ামী লীগ। দ্বিধাদন্দ্বে বিভক্ত ছিল দলটির নেতাকর্মীরা। বিরোধীদের কর্তৃক নির্যাতন, অত্যাচার জেল-জুলুম, হত্যা, খুন ও গুমের শিকার হয়েছে নেতাকর্মীরা। এরপর ১৯৮১ সালের ১৭ মে দীর্ঘ নির্বাসন শেষে বাংলার মাটিতে ফিরে আসেন শেখ হাসিনা। দেশে ফিরে দলীয় নেতাকর্মীকে সাথে নিয়ে রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করেন তিনি। নির্যাতিত নেতাকর্মীদের নিয়ে এরশাদ বিরোধী আন্দোলন ও বিএনপি-জামায়াতের অপরাজনীতি মোকাবিলা করেন সফল ভাবে। ঐক্য গড়ে তোলেন দলের অভ্যন্তরে।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে দীর্ঘ ২১ বছর পর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পায় ১৪৬ আসন। ২০০১ সালের ভোটের মাঠে পরাজয়ের পর বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের কর্তৃক ফের নির্যাতনের শিকার হন বঙ্গবন্ধুকন্যা। তাকে ২১ বার হত্যা চেষ্টা করে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার। নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয় আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের। তবে সব বাঁধা পেরিয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বগুণেই ২০০৮ সালের ২৩০ আসনে বিজয় অর্জনের মধ্য দিয়ে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। তার নেতৃত্বে ২০১৪ সালের দশম, ২০১৮ সালে একাদশ এবং সর্বশেষ গতকাল রবিবার দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের মাঠে বিজয় অর্জন করে।
ক্ষমতার এই দীর্ঘদিনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেধা, দক্ষতা, প্রজ্ঞা ও দক্ষতায় আজ অনন্য উচ্চতায় বাংলাদেশ। তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় কৃষি খাতে ঘটে গেছে নীরব বিপ্লব। অর্থনৈতিক জোন, হাইটেক পার্ক, পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ অসংখ্য মেগাপ্রকল্প এখন দৃশ্যমান। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগব্যবস্থা থেকে শুরু করে জীবনমানের প্রতিটি ক্ষেত্রে বিস্ময়কর সাফল্যে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের রোল মডেল। জীবনমানের উন্নয়ন ঘটিয়ে দারিদ্রতার হার নিম্ন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া, বিনামূল্যে শিক্ষার্থীর হাতে বই বিতরণ, মাতৃত্বকালীন ও বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা প্রদান, কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, দেশের রপ্তানি আয় বৃদ্ধি, মাথা পিছু আয় বৃদ্ধি, গরিব শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি প্রদান, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ, মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানি ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা করেছেন তিনি।
এ ছাড়াও প্রতিটি ইউনিয়নে ডিজিটাল তথ্য সেবা কেন্দ্র, দেশের বিভিন্ন স্থানে ইকোনমিক জোন নির্মাণ, মোবাইল ও ইন্টারনেট গ্রাহক সংখ্যা বৃদ্ধি, কৃষিতে সফলতা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, জঙ্গি ও সন্ত্রাস দমনে সফল বাংলাদেশ।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

