Don't Miss
Home / সম্পাদকীয় / নিরাপত্তার পদক্ষেপ অব্যাহত রাখুন

নিরাপত্তার পদক্ষেপ অব্যাহত রাখুন

গুলশান ও শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার পর এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে ঢাকা মহানগরীসহ সারা দেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। দেশে ‘টার্গেট কিলিং’সহ জঙ্গি হামলার ঘটনায় ব্যক্তিগত নিরাপত্তা প্রশ্নে মানুষের মনে যে উদ্বেগ ও শংকার মেঘ জমেছে, তা দূর করা জরুরি। নিরাপত্তার ব্যাপারে স্বভাবতই সবচেয়ে বেশি উৎকণ্ঠিত বিদেশী নাগরিকরা। এসব বিষয় মাথায় রেখে একটি সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে রাষ্ট্রীয়, সামাজিক ও ব্যক্তিগতভাবে। তবে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মূল দায়িত্ব সরকারের। অবশ্য ইতিমধ্যে আইনশৃংখলা বাহিনীর টহল ও তল্লাশি বাড়ানো হয়েছে। সন্ত্রাসী ও জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের কাজও চলছে। এছাড়া বিদেশীদের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। কূটনৈতিক এলাকা থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। পুলিশ সদর দফতর থেকে সংসদ সদস্যসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এবং মসজিদ, মন্দিরসহ সব ধরনের উপাসনালয় ও স্পর্শকাতর স্থাপনার নিরাপত্তা জোরদার করতে সারা দেশের পুলিশ সুপারদের (এসপি) নির্দেশ দেয়া হয়েছে। দৃশ্যত মানুষের নিরাপত্তা নিশ্ছিদ্র করতে নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

Police-Checkpostতবে এসব পদক্ষেপের পাশাপাশি সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের কারণগুলো দূর করার দিকেও মনোনিবেশ করা প্রয়োজন। যেসব কারণে দেশে জঙ্গিবাদ সৃষ্টি ও সম্প্রসারিত হচ্ছে, সেগুলো সঠিকভাবে চিহ্নিত করে সুচিন্তিত পদক্ষেপ নেয়া উচিত। এক্ষেত্রে মনে রাখা প্রয়োজন, জঙ্গিবাদ নির্মূলে বিভিন্ন দেশে ইতিমধ্যে যেসব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, তার অনেকগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দেখা গেছে, বিভিন্ন পশ্চিমা পদক্ষেপ জঙ্গিবাদকে নিরোধ না করে বরং আরও উসকে দিয়েছে। বস্তুত এভাবে যে জঙ্গি দমন সম্ভব নয়, বিভিন্ন ঘটনায় তা প্রমাণিত হয়েছে। তাই জঙ্গিবাদ দমনে পশ্চিমা বিশ্বের সহায়তা নেয়ার ব্যাপারে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।

সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূলে প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি জাতীয় সংসদে যে বক্তৃতা দিয়েছেন, তা প্রণিধানযোগ্য। সব বাহিনীর সমন্বয়ে বিশেষ তদন্ত টিম গঠনের কথা অবহিত করে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় দেশবাসীর সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে প্রত্যেক সংসদ সদস্যকে নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম চালানোর আহ্বানও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বস্তুত সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে মানুষকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ করতে পারলে এর বিস্তার রোধ করা সম্ভব। জঙ্গি হামলা ও বিভিন্ন অপরাধ রোধে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) গত বছরের শেষদিকে রাজধানী ঢাকায় ভাড়াটিয়া ও বাড়ির মালিকদের তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করলেও অনেক বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়া এখনও ফরম জমা দেননি। এ কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করা প্রয়োজন। জঙ্গি হামলা ও বিভিন্ন অপরাধ রোধে আইনশৃংখলা বাহিনীর পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করা হলে ভালো ফল পাওয়া যাবে, যা বলাই বাহুল্য। এছাড়া সরকার দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে জঙ্গিবিরোধী সেল খোলার পাশাপাশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক এলাকায় কঠোর নজরদারিসহ অনুপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষার্থীর তথ্য দেয়ার ব্যাপারে বাধ্যবাধকতা জারির চিন্তাভাবনা করছে। এগুলো নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। জঙ্গি বা সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে যারাই যুক্ত থাকুক, তারা জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষ সবার অভিন্ন শত্রু। মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে, এটাই প্রত্যাশা।

-সম্পাদক

x

Check Also

২০২১ গুরুত্বপূর্ণ একটি বছর

এমএনএ সম্পাদকীয় : হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনার মধ্য দিয়ে কেটে গেলো একটি বছর। শতাব্দির ভয়াবহ মহামারির কবলে ...