এমএনএ রিপোর্ঠ : প্রথম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে ২২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে দাবি করে এর জন্য নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করেছে বিএনপি।
আজ বৃহস্পতিবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ এই দাবি করেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, নির্বাচন কমিশন কোন ভূমিকাই পলেন করেনি। শুধু দায় সারা ভাবে কিছু কথা বলেছে। নির্বাচন কমিশন পদক্ষেপ নিয়ে এতগুলো মানুষের জীবন দিতে হত না। এতগুলো প্রাণহানির জন্য নির্বাচন কমিশন দায়ী। তাদের এই আনুগত্যমূলক আচরণ, সেবাদাসমূলক আচরণের কারণে এতোগুলো জীবনহানি হল, এতো মানুষ নিহত হল, মানুষের অঙ্গহানি ঘটল। অত্যন্ত নির্লজ্জভাবে তিনি বললেন নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে।

নির্বাচনের একদিন পর আজ বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, তফসিল ঘোষণার থেকে ২২ মার্চ ভোটের দিন পর্যন্ত সারাদেশে ৭১২টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ‘সংঘাত-সংঘর্ষ-সহিংসতা, পুলিশ-র্যাব-বিজিবির গুলি এবং আওয়ামী সন্ত্রাসীদের পৈশাচিক হামলায়’ এই ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
নিহতদের মধ্যে তিনজন প্রার্থীও রয়েছেন বলে এই বিএনপি নেতার দাবি।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দিন আহমদের ‘মানসিক সুস্থতা’ নিয়ে প্রশ্ন তুলে রিজভী বলেন, নির্বাচনের আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছিলেন, প্রশাসনের কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পাচ্ছি না। যদি কোথাও সংঘাত-সংঘর্ষ হয় তবে পুলিশকে দায়-দায়িত্ব নিতে হবে। আবার নির্বাচন শেষে তিনিই (সিইসি) বললেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। তার এই ধরনের কথা-বার্তায় মনে হয়েছে, তিনি মানসিক অস্থিরতায় ভুগছেন।
সিইসি প্রশাসন ও পুলিশকে নিয়ে যেসব বক্তব্য দিয়েছেন, সে বিষয়গুলোতে তার নিজস্ব ক্ষমতা প্রয়োগ করে ব্যবস্থা নিলে এতোগুলো মানুষের প্রাণহানি ঘটত না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নির্বাচন কমিশন সরকারের কথামতো কাজ করে বলে অভিযোগ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, সিইসি মাঝে মাঝে বজ্রাদপি কঠিন কথা বললেও যখন সরকারের দিকে তাকান তখন কুসমাদপি কোমল হয়ে পড়েন। কারণ তিনি আনুগত্য বিসর্জন দিতে চান না। রক্তস্রোতের মধ্যে নির্বাচনকে ভাসিয়ে দিয়ে হলেও তিনি সরকারের ইচ্ছাপূরণের সর্বোচ্চ আত্মনিয়োগ করেন।
তিনি বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের স্নায়ু শিথিল হয়ে গেছে, মস্তিষ্ক অলস হয়ে গেছে। হৃদয় দুর্বল হয়ে যাওয়ার কারণেই তারা (ইসি) আজ নিথর, লক্ষ্যভ্রষ্ট ও বিপথগামী একটি প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হয়েছে। সংঘাতে মানুষের মৃত্যুতে তারা শিহরিত হয় না, অসংখ্য মানুষের অঙ্গহানি তাদের বিবেককে নাড়া দেয় না। তাদের চাকরিতে যাতে কোনো ছেদ-যতি না ঘচে তারা সেই প্রচেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে।
রিজভী বলেন, সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদে সুষ্পষ্টভাবে লেখা আছে-“নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালনে সহায়তা করা সকল নির্বাহী কর্তৃপক্ষের কর্তব্য হইবে। নির্বাচন কমিশনের এ কথা সরকার না মানে তাহলে অবশ্যই সরকার সংবিধান লঙ্ঘন করেছে। নির্বাচন কমিশনের সেই মূহুর্তে উচিত নিজস্ব শক্তি প্রয়োগ করার। আর সেই শক্তি প্রয়োগে সরকার যদি রাষ্ট্রশক্তি ব্যবহার করে বাধা দান করে তাহলে নির্বাচন কমিশন দেশবাসী ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে তা অবহিত করে সরকারের সংবিধান লঙ্ঘনের কথা উল্লেখ করে পদত্যাগ করা উচিত।
বিএনপির এই নেতা বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিজস্ব শক্তি প্রয়োগে যাবতীয় ব্যবস্থা নিতে পারতেন। সংবিধান লঙ্ঘনের জন্য সরকারের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করতে পারতেন। কিন্তু তিনি সেটি না করে অনুগত হয়ে প্রভূর মনোবাঞ্ছাই পূরণ করলেন। এই সরকার যেমন বেআইনী, ভোটারবিহীন জবরদখলকারী সরকার তেমনি এই নির্বাচন কমিশনও এখন একটি বেআইনী প্রতিষ্ঠানে হিসেবে পরিণতি লাভ করেছে।
এছাড়া বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বরকত উল্লাহ বুলু, স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু ও যুব দলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম নিরবসহ ১৭ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে গতকাল বুধবার জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি। খুলনা সিটি করপোরেশন বরখাস্ত মেয়র মনিরুজ্জামান মনির নিঃশর্ত মুক্তিও দাবি করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব।
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালী ইউনিয়নের ছাত্রদল নেতা তুন-এর হত্যাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার দাবিও জানান তিনি।
নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালযে সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এ জেড এম জাহিদ হোসেন, কেন্দ্রীয় নেতা খায়রুল কবীর খোকন, আবদুস সালাম আজাদ, আবদুল লতিফ জনি, আসাদুল করীম শাহিন, রফিক শিকদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক


