এমএনএ রিপোর্ট : রাজধানীর কল্যাণপুরে পুলিশি অভিযানে নিহতরা ‘সত্যিই জঙ্গি নাকি নিরীহ মানুষ’ তা নিয়ে দেশবাসীর মনে সন্দেহ রয়েছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনে বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ দাবি করেন তিনি।
‘জঙ্গিবাদ দমন এবং গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বর্তমান ব্যর্থ সরকারের পদত্যাগের বিকল্প নেই’- শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করে ন্যাপ ভাসানী। দলটির ৫৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়।
উল্লেখ্য, আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর কল্যাণপুরের জাহাজ বিল্ডিং নামের একটি ভবনের ‘জঙ্গি আস্তানায়’ অভিযান চালায় পুলিশ। পুলিশের দাবি, এ অভিযানে ৯ ‘জঙ্গি’ নিহত হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে হান্নান শাহ বলেন, ‘কল্যাণপুরে আজ (মঙ্গলবার) সকালে পুলিশ অভিযান চালিয়ে নয় জঙ্গিকে হত্যা করেছে। নিহতরা জঙ্গি নাকি নিরীহ মানুষ নিয়ে দেশবাসীর মনে সন্দেহ রয়েছে। কেন সন্দেহ হয়? কারণ, গুলশানের ঘটনায় দেখা গেলো, সেখানে শত শত পুলিশ ছিল, আর ৫-৭ জন জঙ্গি ছিল। কিন্তু পুলিশ সেই সশস্ত্র জঙ্গিকে মোকাবিলা করতে যায়নি। সুতরাং উনারা (পুলিশ) যখনই ক্রসফায়ার বা বন্দুকযুদ্ধের কথা বলেন, তখনই মানুষের মনে সন্দেহ দেখা দেয়- এরা কি সত্যিই অপরাধী ছিল, নাকি নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে?’
তিনি আরো বলেন, ‘বহু ঘটনা আছে, যেগুলো এই সরকারের নির্দেশে হয়েছে। কারণ, এমনিতে কোনো ঘটনা ঘটে না। আমি সেনাবাহিনীতে ছিলাম, জানি- কারো না কারো হুকুমে এসব ঘটনা ঘটে।’
বিএনপির এই নেতা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘এ দেশে যখন আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে এবং জাতীয়তাবাদী শক্তি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসবে, তখন এই বিচারবহির্ভূত প্রত্যেকটি হত্যাকাণ্ডের বিচার করা হবে। আর এসব হত্যাকাণ্ডের হুকুমদাতা হিসেবে কার নাম সবার প্রথমে আসবে, তা আপনারা সবাই জানেন, আমিও জানি।’
ন্যাপ ভাসানীর চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. আজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে এতে আরো বক্তব্য দেন- জাগপার সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান ও মহাসচিব হামদুল্লাহ আল মেহেদী, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের (বিএমএল) মহাসচিব অ্যাডভোকেট শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী, ইসলামিক পার্টির
মহাসচিব আবুল কাশেম, ন্যাপ-ভাসানীর অতিরিক্ত মহাসচিব মাওলানা রুহুল আমিন, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক সাঈদ আহমেদ প্রমুখ।
এদিকে, দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাইঞ্জে বাংলাদেশ ইয়ূথ ফোরামের এক আলোচনা সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘সকালে কল্যাণপুরে পুলিশি অভিযানে নয় জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে শুনছি। তারা জঙ্গি হতে পারে। যদি জঙ্গি হয়, তাহলে তাদের গ্রেপ্তার করা যেতো। গ্রেপ্তার করে বিচারের সম্মুখীন করা যেতো। সেক্ষেত্রে এর সঙ্গে কারা জড়িত, সে তথ্য বের হয়ে আসার সুযোগ থাকতো।’
এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, ‘তারা যদি সত্যিই জঙ্গি হয়, তাহলে বিচারে তাদের ফাঁসিও হতে পারতো। এ ক্ষেত্রে আমাদেরও কোনো আপত্তি নেই। কারণ, আমরাও জঙ্গিবাদের বিরোধী। এমনকি জঙ্গিবাদের সঙ্গে বিএনপিরও যদি কাউকে পান, তাহলে তাদেরও বিচারে সোপর্দ করেন। বিচার করে তাদের ফাঁসি দেন।’
সরকারের মধ্যে জঙ্গি রয়েছে, এমন দাবি করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘কেন তাদের (কল্যাণপুরে নিহতরা) হত্যা করা হলো? তাদের গ্রেপ্তার করা গেল না কেন? আপনারা (সরকার) গুলশানের এত বড় একটা জঙ্গি হামলার ঘটনা মোকাবিলা করেছেন। এভাবে যদি গুলি করে কিছু লোককে মারার অধিকার দেন (প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে), তাহলে এ দেশে ভবিষ্যতে এর চেয়ে খারাপ অবস্থা হতে পারে।’
ইয়ূথ ফোরামের উপদেষ্টা আকবর হোসেন ভুইয়া নান্টুর সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সভাপতি শফিউল আলম প্রধান।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

