Don't Miss
Home / আইন আদালত / নূর হোসেন-তারেক সাঈদসহ ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল

নূর হোসেন-তারেক সাঈদসহ ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল

এমএনএ রিপোর্ট : নারায়ণগঞ্জে আলোচিত সাত খুন মামলায় সাবেক কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা নূর হোসেন, র‍্যাব-১১-এর সাবেক অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, সাবেক কোম্পানি কমান্ডার মেজর (অব.) আরিফ হোসেনসহ ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। বাকি ১১ জনের মৃত্যুদণ্ড পরিবর্তন করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার আসামিদের করা জেল আপিল ও রাষ্ট্রপক্ষের করা ডেথ রেফারেন্সের (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) ওপর রায় ঘোষণা করেন বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। সকাল সাড়ে ১০টায় তারা এ রায় পড়া শুরু করেন এবং তা শেষ হয় বিকেল সাড়ে ৪টায়।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- র‌্যাব-১১ এর সাবেক অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, সাবেক দুই কোম্পানি কমান্ডার মেজর (অব.) আরিফ হোসেন, লে. কমান্ডার (চাকরিচ্যুত) মাসুদ রানা, সাবেক কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগের নেতা নূর হোসেন, ল্যান্স নায়েক বেলাল হোসেন, হাবিলদার এমদাদুল হক, হাবিলদার আরিফ হোসেন, সিপাহি আবু তৈয়ব আলী, কনস্টেবল মো. শিহাব উদ্দিন, ল্যান্স নায়েক হিরা মিয়া, এসআই পূর্ণেন্দু বালা, সৈনিক আবদুল আলিম, সৈনিক মহিউদ্দিন মুনশি, সৈনিক আল আমিন ও সৈনিক তাজুল ইসলাম।

এর আগে গত ২৬ জুলাই আসামিদের করা আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের ওপর শুনানি শেষে ১৩ আগস্ট রায়ের জন্য দিন ধার্য করেন হাইকোর্ট। তবে ওইদিন রায় ঘোষণার জন্য প্রস্তুত না হওয়ায় পরে ২২ আগস্ট রায়ের দিন পুননির্ধারণ করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের দৈনন্দিন কার্যতালিতায় মঙ্গলবার মামলাটি রায়ের জন্য এক নম্বরে ছিল।

চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি সাত খুন মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত নূর হোসেনসহ আসামিদের নিয়মিত ও জেল আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন হাইকোর্ট।

সাত খুনের ঘটনায় করা দুই মামলায় নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেন গত ১৬ জানুয়ারি রায়ে র‌্যাবের সাবেক কর্মকর্তা (বরখাস্ত) লে. কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদসহ ১৬ কর্মকর্তা-সদস্য, নারায়ণগঞ্জের সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর নূর হোসেন ও তাঁর অপরাধজগতের নয় সহযোগীসহ মোট ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। এ ছাড়া র‍্যাবের আরও নয়জন সাবেক কর্মীকে বিভিন্ন মেয়াদে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ওই রায়ের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২৬ জনের মধ্যে গ্রেপ্তার ও আত্মসমর্পণ করে কারাগারে থাকা ২০ জন হাইকোর্টে নিয়মিত ও জেল আপিল করেন। পলাতক ৬ জন আপিল করেনি।

সাত খুন মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি হয়ে ২৬ জুলাই যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। ৩৩ কার্যদিবসে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল মান্নান মোহন, জাহিদ সারোয়ার কাজল ও সহকারি অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ এবং আসামিপক্ষে ছিলেন মনসুরুল হক চৌধুরী ও এসএম শাহজাহান শুনানি করেন।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজনকে ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ফতুল্লার লামাপাড়া থেকে অপহরণ করা হয়। তিনদিন পর শীতলক্ষ্যা নদীতে তাদের লাশ পাওয়া যায়। নিহত অন্যরা হলেন- কাউন্সিলর নজরুলের বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন, গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম ও চন্দন সরকারের গাড়িচালক মো. ইব্রাহীম। ওই ঘটনায় নিহত নজরুলের স্ত্রী সেলিনা হোসেন বিউটি ও চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল ফতুল্লা মডেল থানায় দু’টি মামলা করেন।

x

Check Also

এক মামলায় জামিন পেয়েছেন সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী

আদালত প্রতিবেদক সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী একটি মামলায় জামিন পেয়েছেন। রোববার (১২ এপ্রিল) ঢাকা ...