এমএনএ রিপোর্ট :সরকারের নৌমন্ত্রীর মদদে পরিবহন শ্রমিকদের এই ধর্মঘটের অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একজন বাস চালককে সাজা দিয়েছে আদালত। কিন্তু জনগণকে ব্ল্যাকমেইল করে এখন সারাদেশে পরিবহন ধর্মঘট পালন করা হচ্ছে।
আজ বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন নেতারা। ২০০৯ সালে বিডিআর বিদ্রোহে পিলখানায় শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের স্মরণে বিএনপি এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।
মির্জা ফখরুল বলেন, পরিবহন ধর্মঘটের পেছনে যিনি মদদ জোগাচ্ছেন, তিনি সরকারের একজন প্রভাবশালী মন্ত্রী। আজকে একটি অরাজক পরিবেশ সৃষ্টি করা হচ্ছে। সরকার এই সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ হয়েছে।
বিডিআর বিদ্রোহে নিহত ব্যক্তিদের স্মরণ করে মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, জাতীয় নিরাপত্তাব্যবস্থাকে ভেঙে দেওয়ার জন্য সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে পিলখানা হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়েছে। স্বাধীনতা–সার্বভৌমত্বের ওপর বারবার যখনই আঘাত
এসেছে, সেনাবাহিনী তা প্রতিহত করেছে। কিন্তু তাদের ওপর যেদিন প্রথম আঘাত এসেছে, সেদিন তাদের পক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। এ জন্য বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দায়ী।
তিনি বলেন, এখন গ্যাসের দাম বাড়ানোর কোনো প্রয়োজনই ছিল না। কারণ কোম্পানিগুলো লাভ করছে, আমাদের
ট্যাক্সদাতারা টাকা দিচ্ছে। কিন্তু তারা ২২.৭ ভাগ দাম বাড়িয়েছে। এ সময় গ্যাসের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত স্থগিত করায় আদালতকে ধন্যবাদ জানান বিএনপির মহাসচিব।
বিএনপি ক্ষমতায় গেলে খোলা মাঠে বিডিআর বিদ্রোহের বিচার করা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ে কেউ কোনো কথা বলতে পারে না। বলতে গেলেই গুম হয়ে যেতে পারে। কিন্তু একদিন সত্য চাপা থাকবে না। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে আসল সত্য উদঘাটন হবে।
তিনি বলেন, যাদের বিচার হয়েছে, তাদের অনেকেই পিলখানায় ছিলেন না, কেউ সিলেটে, কেউ রাজশাহী, কেউ কুমিল্লায় ছিলেন। কিলিং মিশনে যারা অংশ নিয়েছিল, তাদের বিচার হয়নি। তারা পুনর্বাসিত হয়েছেন।
মির্জা ফখরুল দাবি করেন, এখন বিচার বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গণমাধ্যম—সরকার সব নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে। কারণ, তারা একদলীয় শাসন কায়েম করবে। বিচারের নামে সরকার মিথ্যা মামলা দিয়ে গোটা দেশকে কারাগারে পরিণত করেছে।
ফখরুল বলেন, নির্বাচন সম্পর্কে বিএনপির বক্তব্য স্পষ্ট। বিএনপি নির্বাচন চায়, বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক দল। কিন্তু সে নির্বাচন অবশ্যই নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে হতে হবে।
সাবেক সেনাপ্রধান ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে বক্তব্যে রাখেন দলের স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) রুহুল আলম চৌধুরী, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল আলম চৌধুরী, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, নির্বাহী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) মিজানুর রহমান মিজান প্রমুখ। আলোচনাসভা সঞ্চালনা করেছেন বিএনপির সহ-প্রচার সম্পাদক আলিমুল ইসলাম খান আলিম।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

