পদত্যাগে অস্বীকৃতি জানালেন বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু
Posted by: News Desk
November 23, 2019
এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : ঘুষগ্রহণ, প্রতারণা ও আস্থা-বিশ্বাস ভঙ্গের একাধিক অভিযোগ সত্ত্বেও পদত্যাগে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। সেই সঙ্গে বরাবরের মতোই ঘুষ ও দুর্নীতির সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। তার বিরুদ্ধে ‘অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা’ চালানো হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমি দেশকে নেতৃত্ব দিয়ে যাব। আইন মতে, আমি পদত্যাগ করতে বাধ্য নই।’ খবর আলজাজিরা ও এএফপির।
আলজাজিরা জানায়, গত বৃহস্পতিবার দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল অভিচাই ম্যানডেলব্লিট এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ঘুষ, জালিয়াতি ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ আনেন।
দেশটির ইতিহাসে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা অবস্থায় প্রথম ব্যক্তি হিসেবে এমন অভিযোগের মুখোমুখি হলেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
তবে সব ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করে নেতানিয়াহু বলেন, ‘এসব অভিযোগ মিথ্যা ও রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তদন্তকারীরা সত্যের ওপরে নেই।’
আনুষ্ঠানিক এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি দাবি করেন, এসব অভিযোগ তার বিরুদ্ধে ‘ক্যু’র প্রচেষ্টা। এই মুহূর্তে পদত্যাগ করতে ইচ্ছুক নন তিনি।
নেতানিয়াহু তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সমালোচনা করেন সেই সঙ্গে পুলিশ ও বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ আনেন।
তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তকারীদের বিরুদ্ধেই তদন্ত চালানোর দাবি তোলেন নেতানিয়াহু।
আদালতের চাপ সত্ত্বেও পদত্যাগে অস্বীকৃতি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি দেশকে নেতৃত্ব দিয়ে যাব। আমি মিথ্যাকে জয়ী হতে দেব না।’
গত বৃহস্পতিবার চলমান তিন মামলায় নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের ঘোষণা দেন দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল আভিচাই মেন্ডেলব্লিট। মামলা তিনটি কেস ৪০০০, কেস ২০০০ ও কেস ১০০০ নামে পরিচিত।
ইসরাইলের ইতিহাসে এই প্রথম ক্ষমতাসীন কোনো প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হল। এর আগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে দুটি দুর্নীতির মামলায় কয়েক মাসের তদন্তের পর গত ফেব্রুয়ারিতে তাকে অভিযুক্ত করার সুপারিশ করে পুলিশ।
গত এপ্রিল ও সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় জোট করে সরকার গঠনেও বারবার ব্যর্থ হয়েছেন নেতানিয়াহু। এই রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে তার বিচারের ঘোষণা দিল আইন বিভাগ।
এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগগুলো নিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, ভারাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ এনেছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘এটা কোনো বামপন্থী বা ডানপন্থী রাজনীতির ব্যাপার নয়।
এ ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগও ইচ্ছাধীন কোনো বিষয় নয়।’ আরও বলেন, নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো বিস্তৃত প্রমাণ ও সাক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করে পরিচালনা করা হয়েছে। সবকিছুই পেশাদারভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে। কোনো প্রচেষ্টা বাদ রাখা হয়নি।
নিজের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কর্তৃপক্ষ আসলে সত্য উদঘাটনে ইচ্ছুক নয়, তারা আমার পেছনে লেগেছে। তবে অভিযোগ গঠনকে সমর্থন জানিয়েছে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী কাহল লাভান গান্টেজ।
বলেছেন, অ্যাটর্নি জেনারেল নেতৃত্বাধীন বিচারব্যবস্থার ওপর পূর্ণ বিশ্বাস রয়েছে তার। তিনি আরও বলেন, ইসরাইলে কোনো সরকারের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান হচ্ছে না। এখানে ক্ষমতার পরিখা খনন করা হচ্ছে। নেতানিয়াহু আজ প্রমাণ করেছেন যে, তাকে তার পদ ছাড়তে হবে।
নিজের আইনি দুর্দশার দিকে নজর দিতে হবে। কেস ১০০০ নামের প্রথম তদন্তে বলা হয়, নেতানিয়াহু রাজনৈতিক সুবিধা দেয়ার বিনিময়ে ধনাঢ্য ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে উপহার নিয়েছিলেন।
তাদের কাছ থেকে দুই লাখ ৮০ হাজার ডলার মূল্যের উপহার সামগ্রী গ্রহণ করেছেন নেতানিয়াহু। কেস ২০০০ নামে দ্বিতীয় তদন্তে বলা হয়, তেল আবিবের একটি পত্রিকার প্রকাশক আরনোন মোজেসকে ঘুষ দিয়ে ইতিবাচক সংবাদ প্রকাশের চেষ্টা করেছেন তিনি।
নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তার পক্ষে সংবাদ প্রচারের জন্য বেশ কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে দিয়ে লাখ লাখ ডলার খরচ করেছেন। অবৈধ সুবিধা পাইয়ে দিতে দেশটির একটি শীর্ষ মিডিয়া প্রতিষ্ঠান থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ গ্রহণের অভিযোগও আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এ ছাড়া রাজনৈতিক সুবিধা পাইয়ে দিতে এক হলিউড প্রযোজকের কাছ থেকে নেতানিয়াহু ও তার স্ত্রী সারা নেতানিয়াহু ঘুষ নিয়েছিলেন। এক অস্ট্রেলীয় বিলোনিয়ার থেকেও ঘুষ নেয়ার অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে।
ঘুষের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে নেতানিয়াহুর সর্বোচ্চ ১০ বছর সাজা হতে পারে। জালিয়াতি ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ তিন বছরের সাজা হতে পারে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর ।
অস্বীকৃতি বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু পদত্যাগে জানালেন 2019-11-23