Don't Miss
Home / হোম স্লাইডার / পাহাড়ী জনগোষ্ঠীর প্রাণের বৈসাবী উৎসব শুরু
বৈসাবী

পাহাড়ী জনগোষ্ঠীর প্রাণের বৈসাবী উৎসব শুরু

এমএনএ জীবনচর্চা ডেস্কঃ পার্বত্য অঞ্চলের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর তিন দিনব্যাপী বৈসাবী উৎসব শুরু হয়েছে। রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের গঙ্গা দেবীর উদ্দেশ্যে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে আজ (মঙ্গলবার) থেকে রাঙামাটিতে শুরু হয়েছে চাকমাদের বিজু, মারমাদের সাংগ্রাই ও ত্রিপুরাদের বৈসুক উৎসব।

সকাল থেকে উপজাতীয় নারীরা বাগান থেকে ফুল তুলে নিয়ে একে একে চলে আসে কাপ্তাই হ্রদের নৌ ঘাটে। ভগবানের আর্শিবাদ প্রার্থনা করে কাপ্তাই হ্রদে গঙ্গা দেবীর উদ্দেশে পানিতে ফুল ভাসিয়ে উৎসবের সূচনা করেন।

গর্জনতলীতে গঙ্গা দেবীর উদ্দেশ্য ফুল ভাসানোর মধ্যে দিয়ে ত্রিপুরাদের বৈসুক উৎসবের উদ্বোধন করেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অংসুইপ্রু চৌধুরী।

এ সময় জেলা পরিষদ সদস্য বিপুল ত্রিপুরাসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অন্য রাজবাড়ী ঘাটে বৈসাবি উদযাপন কমিটির উদ্যোগে ফুল বিজুর উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।

এ সময় সাবেক উপসচিব প্রকৃত রঞ্জন চাকমা, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমা বিনতে আমিনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থত ছিলেন।

উৎসবে আগত অন্য সম্প্রদায়ের লোকজন বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের সামাজিক উৎসব বৈসাবী যেন সকল সম্প্রদায়ের উৎসব। এখানে এসে মনে হচ্ছে না আমরা বাঙ্গালী। আমাদের মনে হচ্ছে আমরাও এদের একজন।

বিজু উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ইন্টু মনি চাকমা বলেন, করোনার কারণে গত দুই বছর উৎসব না করলেও রাঙামাটিসহ তিন পার্বত্য জেলায় এ বছর উৎসবের উচ্ছ্বাস বয়ে যাচ্ছে। এই ফুল ভাসানোর মধ্যে দিয়েই শুরু হচ্ছে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীগুলোর তিন দিনব্যাপী প্রধান সামাজিক উৎসব বিজু। মঙ্গলবার মূল বিজু পালিত হয়। বুধবার গোজ্যেপোজ্যে দিন পালিত হবে যার যার ঘরে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, এতো রং এতো বৈচিত্র্য দেখে আমি মুগ্ধ। গত দুই বছর করোনার কারণে পাহাড়ের বৈসাবী উৎসবের রং ছড়াতে পারেনি। কিন্তু এ বছর করোনা কিছু মুক্ত হওয়ায় পাহাড়ের তার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিক চর্চা আবারও শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, বৈসাবী উৎসব পার্বত্য অঞ্চলের সকল সম্প্রদায়কে এক করে দিয়েছে। পার্বত্য অঞ্চলের সকল সম্প্রদায়ের প্রাণের উৎসব বৈসাবী উৎসব। এই উৎসবকে ঘিরে পাহাড়ের প্রতিটি ঘরে ঘরে আনন্দ বয়ে যাচ্ছে। পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের ফলে পাহাড়ের সকল সম্প্রদায়ের মাঝে ভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টি হয়েছে। সেই সঙ্গে পার্বত্য অঞ্চলের এই উৎসবের মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলে সকল সম্প্রদায়ের মাঝে সম্প্রীতির বন্ধন সুদৃঢ় হবে। পার্বত্য অঞ্চলের সকল সম্প্রদায় যাতে এক হয়ে সন্দুর একটি আগামীর বাংলাদেশ গড়তে পারে সেই দিকে আমাদের সকলের প্রত্যাশা থাকবে।

বৈসাবীর উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর এই তিন দিনে আনন্দ উৎসবে মেতে থাকবে পার্বত্য অঞ্চলের সকল সম্প্রদায়ের মানুষ। আজ মুল বিজুর উৎসব পালন করবে পাহাড়ের জনগোষ্ঠী। ঐতিহ্যবাহী পাঁজন রান্না করে অতিথি আপ্যায়নের মধ্যে দিয়ে মুল বিজুর আনুষ্ঠানিকতা হয়। আগামী ১৬ এপ্রিল সাংগ্রাই জলোৎসবের মধ্যে দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।

x

Check Also

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত চালুতে সরকারের জোর তৎপরতা: উপদেষ্টা মাহদী

এমএনএ প্রতিবেদক মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের শ্রমবাজার দ্রুত পুনরায় চালু করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে ...