Don't Miss
Home / হোম স্লাইডার / পাহাড়ে পাহাড়ে বৈসাবী উৎসবের আমেজ লেগেছে
বৈসাবী

পাহাড়ে পাহাড়ে বৈসাবী উৎসবের আমেজ লেগেছে

এমএনএ ফিচার ডেস্কঃ পার্বত্য অঞ্চলে শুরু হয়েছে বৈসাবী উৎসবের আমেজ। তিন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষের সামাজিক উৎসব বিজু, সাংগ্রাই, বৈসুক, বিষু তথা বৈসাবী উৎসবকে ঘিরে উৎসবের নানান রঙে সাজতে শুরু করেছে পুরো পার্বত্য এলাকা।

বৈসাবী উৎসবের বর্ণিল আয়োজনে সোমবার থেকে রাঙামাটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি সাংস্কৃতিক ইনষ্টিটিউট প্রাঙ্গণে শুরু হচ্ছে পাঁচ দিনের সংস্কৃতি মেলা।

মেলার ষ্টলে নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী বস্ত্র ও হস্ত সামগ্রীসহ নানা পসরা প্রদর্শিত হবে। এছাড়া থাকবে সেমিনারসহ সাংস্কৃতিক পরিবেশন।

এর আগে জেলা পরিষদের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও মেলার মধ্য দিয়ে বিজু সাংগ্রাই, বৈসুক, বিষু তথা বৈসাবী উৎসবের সূচনা হবে। সংস্কৃতি মেলার উদ্বোধন করবেন রাঙামাটির সংসদ সদস্য ও খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি দীপংকর তালুকদার।

পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অংসুইপ্রু চৌধুরীর সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ব্রিগেড কমান্ডার ৩০৫ পদাতিক ব্রিগেড ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ইমতাজ উদ্দিন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, পুলিশ সুপার মীর মোদদাছছের হোসেন প্রমুখ।

রাঙামাটি জেলা পরিষদ মেলার আনুষ্ঠানিকতা শুরু করতে ইতিমধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বলে জানান জেলা পরিষদ সদস্য ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর আহ্বায়ক রেমলিয়না পাংখোয়া।

এবার পাহাড়ে প্রধান ও সামাজিক উৎসব বৈসাবী উৎসব পালন সারম্বরে করা হচ্ছে। করোনা মহামারীর কারণে গত তিন বছরে বৈসাবী উৎসবের আয়োজন ছিল সীমিত পরিসরে। বিজু, সাংগ্রাইং, বৈসুক, বিষু, বিহু ও বাংলা নববর্ষ-২০২২ উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছে নানান অনুষ্ঠানমালা।
বৈসাবীর এই উৎসবকে কেন্দ্র করে এই দিনটিকে ঘিরে আনন্দ উৎসবে মেতে থাকে পাহাড়ের সকল সম্প্রদায়ের মানুষ। এ বছর বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ কমে আসার কারণে রাঙামাটি সর্বত্র বৈসাবী উৎসব পালিত হবে আনন্দঘন পরিবেশে।

আগামী ১২ এপ্রিল পাহাড়ের বৈসাবী উৎসবের প্রথম দিন চাকমা, ত্রিপুরা, তংচঙ্গ্যা জাতির ফুল বিজু বৈসু কিংবা বিষু। অনুরূপ ভাবে ১৩ এপ্রিল চৈত্র সংক্রান্তির দিনকে বলা হয় মূল বিজ বৈসু বা বিষুু। আর ১৪ এপ্রিল থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত চলে মারমাদের জল কেলী উৎসব।

উৎসবের প্রথম দিনে চাকমা, ত্রিপুরা ও মারমারা বন থেকে ফুল আর নিমপাতা সংগ্রহ করে সেই ফুল দিয়ে ঘর সাজায় ও মা গঙ্গার উদ্দেশ্যে নদীতে ফুল ভাসায়। মুল বিজুর দিনে ঘরে ঘরে রান্না হয় ঐতিহ্যবাহী পাচন। আর বাংলা নববর্ষের দিনে রাঙামাটির কাউখালীর বেতবুনিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে মারমাদের জলকেলী উৎসব।

প্রতি বছর বাংলা নববর্ষকে কেন্দ্র করে রাঙামাটিতে বসবাসরত ১৩ নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর উদ্যোগে বিজু, সাংগ্রাইং, সাংক্রান, সাংক্রাই, বৈসু, বিষু, বিহু, জল উৎসব ও বাংলা নববর্ষ উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালন করা হয়। এ উৎসব সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে আজ সোমবার থেকে সংস্কৃতি মেলা ও র‌্যালিসহ বিভিন্ন ধরনের পাহাড়ি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আগামী ১৬ এপ্রিল মারমাদের জলকেলী উৎসব এর মধ্য দিয়ে বৈসাবী উৎসব শেষ হবে।

x

Check Also

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত চালুতে সরকারের জোর তৎপরতা: উপদেষ্টা মাহদী

এমএনএ প্রতিবেদক মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের শ্রমবাজার দ্রুত পুনরায় চালু করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে ...