Don't Miss
Home / হোম স্লাইডার / পিকে হালদারের ১৫৯৬ কোটি টাকার হদিস নেই

পিকে হালদারের ১৫৯৬ কোটি টাকার হদিস নেই

এমএনএ অর্থনীতি রিপোর্ট : ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্স সার্ভিসেস থেকে নেয়া প্রশান্ত কুমার হালদারের (পিকে হালদার) ১ হাজার ৫৯৬ কোটি টাকার কোনো হদিস নেই বলে দাবি করেছেন প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান চেয়ারম্যান খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ। গতকাল আদালতে উপস্থিত হয়ে এ দাবি করেছেন তিনি।

পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে উপস্থিত হয়ে কোম্পানির সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে নিজের মতামত উপস্থাপন করেন ইব্রাহিম খালেদ। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে তিন বিচারকের আপিল বেঞ্চে গতকাল তার বক্তব্য শোনেন। শুনানি শেষে আদালত বিষয়টি বুধবার (আজ) আদেশের জন্য রাখেন।

আদালতকে ইব্রাহিম খালেদ জানান, ‘পিকে হালদারের নেয়া ঋণ বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে লেখা আছে। অথচ সেটি খতিয়ে দেখতে অনুমতি দেয়া হয়নি। সর্বশেষ কোন ব্যক্তি পর্যন্ত এ টাকা পৌঁছল তা জানি না। এ টাকা ফেরত আসার সম্ভাবনা নেই।’

শুধু তা-ই নয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ পরিকল্পনা (স্কিম) ছাড়া পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আর্থিক এ প্রতিষ্ঠানটি টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে বলেও আদালতকে জানিয়েছেন ইব্রাহিম খালেদ।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. শাহ আলম আদালতকে বলেছেন, বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ বিলোপ, অপসারণ, নতুন নিয়োগ বা পুনর্গঠন করা হলে হয়তো ওই কোম্পানি টিকিয়ে রাখা সম্ভব।

সাবেক ডেপুটি গভর্নর ইব্রাহিম খালেদ আদালতে বলেন, ‘২০১৫ সাল পর্যন্ত ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্স সার্ভিস লিমিটেড ভালোভাবেই চলছিল। ২০১৬ সাল থেকে অবস্থা খারাপ হতে থাকে। এর পেছনে মূল ব্যক্তি ছিলেন প্রশান্ত কুমার হালদার। তার (পিকে) সঙ্গে আরো অনেকেই রয়েছেন। তারা একসঙ্গে অনেক শেয়ার কিনে কোম্পানির আগের নেতৃত্বকে বের করে দিয়েছেন। বের করে দেয়া মানে কাউকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, কাউকে বাধ্যতামূলক অবসরে অথবা ছাঁটাই করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘পিপলস লিজিংয়ের অবসায়ন করা হয়েছে, এখন যদি একইভাবে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্স সার্ভিস লিমিটেডের অবসায়ন করা হয়, তাহলে আর্থিক খাতে ধস নামতে পারে। আবার বর্তমান অবস্থায় এ কোম্পানিকে দাঁড় করানো যাবে কিনা, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে। আমি সন্দিহান। আমি সাহস পাচ্ছি না। আমি তো এ কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার নই। হাইকোর্টের আদেশে আমাকে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান করা হয়েছে। বাইরে থেকে এসে আমি এটাকে কতটা দাঁড় করাতে পারব! সরষের মধ্যে ভূত থাকলে আমি কী করতে পারি!

প্রধান বিচারপতি কোম্পানির আমানতকারীদের অবস্থা জানতে চাইলে ইব্রাহিম খালেদ বলেন, টাকা নেই, ফলে গ্রাহকরা চাইলেও টাকা ফেরত দেয়া যাচ্ছে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. শাহ আলম আদালতকে বলেন, ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের মূলধনে ৪৫০ কোটি ১৯ লাখ টাকা ঘাটতি রয়েছে। ব্যাংকঋণ আছে ৯৫৭ কোটি ১৪ লাখ টাকা। সর্বমোট ঋণ ৩ হাজার ৮৯৫ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নিয়েছে তা প্রধান বিচারপতি জানতে চাইলে এ কর্মকর্তা বলেন, আমরা বিভিন্ন ধরনের পরিকল্পনা দিয়েছি। কখনো কখনো বাস্তবায়ন করেছে, কখনো কখনো করেনি।

টাকা ঘাটতির বিষয়ে শাহ আলম বলেন, ‘বিধি বহির্ভূতভাবে’ টাকা নিয়ে যাওয়ায় মূলধনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছে। এরই মধ্যে একটি প্রতিবেদন জমাও দিয়েছে।

তিনি বলেন, মোট ৪৮টি ঋণ হিসাবের সঙ্গে ১২টি প্রতিষ্ঠান ও কতিপয় ব্যক্তির বিপরীতে মোট ১ হাজার ৫৯৬ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। ঋণ বিতরণে পরিচালক পর্ষদের ডিউ ডিজিলেন্সে ঘাটতি ছিল। এ ৪৮টি ঋণ হিসাবের লেনদেন ভাউচার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। সুবিধাভোগী কারা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রধান বিচারপতি তখন বলেন, আমরা দেখলাম একজনই সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা নিয়েছে। আপনাদের হিসাব কি শুভঙ্করের ফাঁকি? উত্তরে শাহ আলম বলেন, পিকে হালদারসহ অন্যরা এ কোম্পানি থেকেই সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা নিয়েছেন বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষণে আমরা পাইনি।

বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নিয়েছে, আদালত জানতে চাইলে এ কর্মকর্তা বলেন, আমরা তাদের ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা করেছি, শোকজ করেছি এবং দুর্নীতি দমন কমিশনকে ব্যবস্থা নিতে বলেছি। এরপর ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্স সার্ভিস লিমিটেড নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন প্রতিবেদন তুলে ধরেন আইনজীবী তানজীব-উল আলম।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী তানজিব-উল আলম। আর ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্স সার্ভিস লিমিটেডের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আহসানুল করিম।

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম শুনানিতে বলেন, কিছু লোক পড়ালেখা শেখে জনগণের টাকা হাতিয়ে নেয়ার জন্য। তারা হোয়াইট কলার ক্রিমিন্যাল। তাদের কাজই হচ্ছে জনগণের টাকা হাতিয়ে নেয়া।

তিনি বলেন, আগে তো ব্যাংক ছিল না। মানুষ গোলায় ধান রাখত। এটাই ছিল গ্রামীণ অর্থনীতির বৈশিষ্ট্য। কিন্তু মানুষ এখন ব্যাংকে টাকা রাখে। আর অনেকেই ব্যাংক করেন জনগণের টাকা লুটের জন্য।

x

Check Also

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত চালুতে সরকারের জোর তৎপরতা: উপদেষ্টা মাহদী

এমএনএ প্রতিবেদক মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের শ্রমবাজার দ্রুত পুনরায় চালু করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে ...