Don't Miss
Home / রাজনীতি / পুলিশ হবে নিরপেক্ষ, জনগণের আস্থাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ: প্রধানমন্ত্রী

পুলিশ হবে নিরপেক্ষ, জনগণের আস্থাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ: প্রধানমন্ত্রী

এমএনএ প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, পুলিশ প্রশাসন কোনো রাজনৈতিক দলের নয়; বিধিবদ্ধ আইন অনুযায়ীই পুলিশ বাহিনী পরিচালিত হবে। তিনি পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, কোনো নিরপরাধ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা পুলিশের অন্যতম দায়িত্ব।

রোববার রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মিলনায়তনে ‘পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত কল্যাণ প্যারেডে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পুলিশ শুধু আইন প্রয়োগকারী বাহিনী নয়, বরং জনগণের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রথম ভরসাস্থল। জনগণের কাছে পুলিশ যদি বিশ্বাস ও নিরাপত্তার প্রতীক হয়ে উঠতে পারে, সেটিই হবে পুলিশের প্রকৃত সাফল্য এবং একই সঙ্গে সরকারেরও অর্জন।

তিনি জানান, সরকার থানাগুলোকে আরও জনবান্ধব করতে চায়, যাতে সাধারণ মানুষ কোনো প্রভাব বা মধ্যস্থতা ছাড়াই থানায় গিয়ে নিরাপদে অভিযোগ জানাতে পারেন এবং দ্রুত প্রতিকার পান।

আধুনিক বিশ্বে প্রযুক্তিনির্ভর ও মানবিক পুলিশ বাহিনীর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, জনগণের প্রত্যাশিত সেবা দিতে দক্ষ ও প্রযুক্তিগতভাবে সক্ষম পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলা জরুরি। সরকার এ লক্ষ্যে কাজ করছে এবং পুলিশ সদস্যদের যৌক্তিক চাহিদাগুলো ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হবে।

তিনি বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে পুলিশ দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে। এর মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে, পুলিশের পক্ষেও নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন সম্ভব। তবে অতীতে রাজনৈতিক স্বার্থে পুলিশকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করানোর ঘটনাও দেশবাসী দেখেছে।

প্রধানমন্ত্রী সবাইকে সতর্ক করে বলেন, বাংলাদেশে যেন আর কখনো ফ্যাসিবাদী শাসনের পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে পুলিশ সপ্তাহ থেকেই নতুন অঙ্গীকার নেওয়া প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, জনগণের আস্থা অর্জন ও তা ধরে রাখাই বর্তমানে পুলিশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। পুলিশ ও জনগণের সম্পর্ক হতে হবে আইনসম্মত ও মানবিক। যেকোনো বিপদে মানুষ যেন থানাকে নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে মনে করতে পারে, সে পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

তারেক রহমান উল্লেখ করেন, মানুষ সাধারণত বিপদে না পড়লে থানায় যায় না। তাই থানায় গিয়ে মানুষের দুর্ভোগ যেন না বাড়ে, বরং কমে— এমন মানসিকতা গড়ে তোলা জরুরি। আইনি পদক্ষেপের পাশাপাশি মানবিক আচরণও পুলিশের দায়িত্বের অংশ হওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জনগণের সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কমিউনিটি পুলিশিং ও ওপেন হাউস ডে’র মতো উদ্যোগ আরও জোরদার করতে হবে। জনগণের সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক তৈরি হলে অপরাধ দমন আরও সহজ হবে।

বক্তব্যে তিনি বাল্যবিয়ে, নারী ও শিশু নির্যাতন, চুরি-ডাকাতি, দাঙ্গা, কিশোর গ্যাং, আর্থিক জালিয়াতি ও সাইবার অপরাধ বৃদ্ধির বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে সাইবার বুলিং নারীদের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু মাদকসেবী নয়, মাদক সরবরাহকারী চক্র এবং এর উৎসকে লক্ষ্য করেই আইন প্রয়োগ করতে হবে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তির যুগে অপরাধের ধরনও পাল্টে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশকে প্রযুক্তিগতভাবে আরও দক্ষ করে তুলতে হবে। অপরাধ বিশ্লেষণ, ডিজিটাল ফরেনসিক, বিগ ডাটা বিশ্লেষণ ও এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।

তারেক রহমান জানান, সাইবার ক্রাইম, আর্থিক জালিয়াতি, সন্ত্রাসবাদ ও আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় সরকার ইতোমধ্যে ধাপে ধাপে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, গুম, অপহরণ কিংবা বিচারবহির্ভূত কোনো কর্মকাণ্ড গ্রহণযোগ্য নয়। মানবাধিকার রক্ষা এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করা প্রতিটি পুলিশ সদস্যের সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব।

পুলিশে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে মেধা, যোগ্যতা, দক্ষতা ও সততাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনলাইনে পুলিশ সদস্যরাও অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন।

x

Check Also

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ফের উত্তেজনা, ১১ মে থেকে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা শিক্ষকদের

বরিশাল প্রতিনিধি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়-এ চলমান প্রশাসনিক সংকট নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করেছে। শিক্ষকদের পদোন্নতি ...