Don't Miss
Home / সম্পাদকীয় / প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক তিন সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অর্জন

প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক তিন সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অর্জন

জাপান, বুলগেরিয়া এবং সৌদি আরবে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক সফর অত্যন্ত অর্থবহ এবং গুরুত্বপূর্ণ অর্জন বলে বিবেচিত হচ্ছে।কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আয়োজন ও মর্যাদার দিক থেকে তিন দশকের মধ্যে এই সফরগুলো ছিল অনন্য।

সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদের আমন্ত্রণে তিন দিনের সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত মঙ্গলবার দেশে ফিরেছেন। এর আগে গত মাসে গ্লোবাল উইমেন লিডার্স ফোরামের সম্মেলনে যোগ দিতে বুলগেরিয়া গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা ও ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের গৃহীত পদক্ষেপগুলো সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী বিশ্বনেতাদের ভূয়সী প্রশংসা অর্জন করে। পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়েও বুলগেরিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বুলগেরিয়া থেকে ফিরে প্রধানমন্ত্রী জাপানে গিয়েছিলেন জি-৭ আউটরিচ বৈঠকে যোগ দিতে। এ সময় তিনি শিল্পোন্নত দেশগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বেশ
কিছু বৈঠকে মিলিত হন। শুধু দেশের গণমাধ্যম নয়, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও এসব বৈঠকের খবরাখবর অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়, যাকে অনেকেই বাংলাদেশের পরিবর্তিত ভাবমূর্তির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। গতকাল বুধবার গণভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তিনটি সফরের নানা দিক ও অর্জন নিয়ে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।

PM-Soudi-Tourবর্তমান বিশ্বে কোনো দেশের এগিয়ে যাওয়ার একটি প্রধান শর্ত হচ্ছে দেশটির সঠিক বৈদেশিক নীতি ও সফল কূটনৈতিক সম্পর্ক। বাংলাদেশ নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। এখন মধ্যম আয় পেরিয়ে উন্নত দেশে উত্তরণের স্বপ্ন দেখছে। এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উন্নয়নে অবশ্যই সচেষ্ট থাকতে হবে। তারই গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ দেখা যায় শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক সফরগুলোতে। সৌদি আরবের এই সফরটিকে তিনি ‘অত্যন্ত ফলপ্রসূ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর এই দাবির প্রকাশও দেখা যায় দেশটির ঘোষণায়। সৌদি শ্রমমন্ত্রী জানিয়েছেন, দেশটি শিগগিরই বাংলাদেশ থেকে আরো পাঁচ লাখ কর্মী নেবে। বলা বাহুল্য, বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান বেকার সমস্যা সমাধানে এখনো প্রধান গন্তব্য সৌদি শ্রমবাজার। প্রবাসী আয়ের দিক থেকেও দেশটির অবস্থান এক নম্বরে। তাই সৌদি শ্রমমন্ত্রীর এই ঘোষণা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় অর্জন। এ ছাড়া দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশের বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্পে সহায়তার কথাও সেখানে ঘোষিত হয়েছে। বাংলাদেশের বিনিয়োগের খরা মেটাতে সৌদি ব্যবসায়ীদের একটি প্রতিনিধিদল শিগগিরই বাংলাদেশ সফরে আসবে বলে জানানো হয়েছে। একইভাবে জাপান সফরকালে জাপানের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের উন্নয়নপ্রক্রিয়ায় অংশীদার হতে যে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, তা ছিল অভূতপূর্ব। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের শীর্ষ নেতারাও উন্নয়নপ্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের পাশে থাকার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এ সবই বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।

সভ্যতাবিরোধী কিছু অন্ধকারের শক্তি শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বেই এখন একটি বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে এবং তার আগে জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, যেকোনো মূল্যে এই অপশক্তিকে মোকাবিলা করা হবে এবং বাংলাদেশ তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে এগিয়ে যাবে। বেশ কিছু উন্নত দেশও এ কাজে বাংলাদেশকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। আমরা আশা করি, সব ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে বাংলাদেশ যেমন তার স্বাধীনতার সূর্য ছিনিয়ে এনেছিল, একইভাবে সব চক্রান্তের বিষদাঁত ভেঙে বাংলাদেশ উন্নয়নের অভীষ্ট লক্ষ্যে এগিয়ে যাবে। কোনো প্রতিবন্ধকতাই আমাদের অগ্রযাত্রা রুখতে পারবে না।

-সম্পাদক

x

Check Also

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত চালুতে সরকারের জোর তৎপরতা: উপদেষ্টা মাহদী

এমএনএ প্রতিবেদক মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের শ্রমবাজার দ্রুত পুনরায় চালু করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে ...