এমএনএ অর্থনীতি রিপোর্ট : আগামী ২০১৭-১৮ অর্থবছরে প্রায় ৪ লাখ কোটি টাকার জাতীয় বাজেট পরিকল্পনা প্রণয়নের আগাম প্রস্তুতি চলছে। যার এক তৃতীয়াংশই নির্ভর করতে হবে ঋণের উপর।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় বাজেটের আয়, ব্যয়, উন্নয়ন বাজেট এবং রাজস্ব বাজেট নীতিগতভাবে চূড়ান্ত করা হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী বাজেটেও থাকছে উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা এবং চলতি বছরের মতো বড় অংকের ঘাটতি, যা হতে পারে ১ লাখ ৮ হাজার ৪৯২ কোটি টাকা।
যদিও চলতি অর্থবছরে এই ঘাটতি ধরা হয়েছে, ৯৭ হাজার ৮৫৩ কোটি টাকা। এই ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে হবে ৪৯ হাজার ২৮০ কোটি টাকা। পাশাপাশি বিদেশী সহায়তার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে ৩৩ হাজার ৫৬০ কোটি টাকা। এদিকে অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, সরকারের শেষ বছরে ৫ লাখ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণার প্রস্তুতি তিনি নিচ্ছেন।
১৪ নভেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক কো-অডিনেশন কাউন্সিল সভায় আগামী বছরের প্রস্তাবিত বাজেটের রূপরেখা উপস্থাপন করা হয়। এই সভায় বাজেটের সম্ভাব্য আকার প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত করা হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নতুন বাজেটের আকার ঠিক করা হয়েছে ৩ লাখ ৯০ হাজার ১৫৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে রাজস্ব ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা ২ লাখ ৫৯ হাজার ৫২০ কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) হচ্ছে ১ লাখ ৩১ হাজার ৪৩০ কোটি টাকা।
এছাড়া দুই লাখ ৮১ হাজার ৬৬৪ কোটি টাকার রাজস্ব আয় ছাড়াও জিডিপি প্রবৃদ্ধি ধরা হচ্ছে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের এ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ৭ দশমিক ২ শতাংশ। নতুন বাজেটে এনবিআর কর রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ৩৫ হাজার ৬৪৬ কোটি টাকা, যা মোট জিডিপির ১০ দশমিক ৬ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে এনবিআর কর রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ২ লাখ ৩ হাজার ১৫২ কোটি টাকা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আগামী ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন অর্থমন্ত্রী। সেখানে তিনি বাজেটের সম্ভাব্য এই রূপরেখা তুলে ধরবেন। এরপর জাতীয় সংসদে প্রকাশ করা হবে অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত চলতি বাজেট বাস্তবায়ন অগ্রগতি রিপোর্ট। সেখানে প্রকাশ করা হবে নতুন বাজেটের আকার।
নতুন বাজেট ছাড়াও ২০১৮-১৯ সাল পর্যন্ত জাতীয় বাজেটের আকার কেমন হবে- তা নিয়ে অনেক আগ থেকেই স্বপ্ন দেখা শুরু করেছেন অর্থমন্ত্রী। তার কল্পনায় ২০১৭-১৮-এর জন্য সোয়া চার লাখ কোটি টাকা এবং ২০১৮-১৯-এর বাজেটের আকার চার লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা।
জানা গেছে, চিরাচরিত প্রথা ভেঙে আয়ের সুষম বণ্টনের লক্ষ্যকে মাথায় রেখেই নতুন বাজেট তৈরিতে হাত দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। রাজস্ব আদায়ের যে লক্ষ্য ধরা হচ্ছে তা চলতি বাজেটের তুলনায় ৩৮ হাজার ৯১২ কোটি টাকা বেশি। চলতি অর্থবছরে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য হচ্ছে ২ লাখ ৪২ হাজার ৭৫২ কোটি টাকা। অবশ্য অর্থবছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আদায় পিছিয়ে আছে। তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সার্বিক পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, প্রবৃদ্ধি, ব্যক্তি খাতে ভোগ ব্যয়, ব্যক্তি ও সরকারি খাতে বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হলে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য অর্জন হবে। পাশাপাশি আয়কর ও মূল্য সংযোজন করের উৎস সম্প্রসারণ সম্ভাবনাকে পূর্ণ সদ্ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
এছাড়া আগামী বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার ধরা হচ্ছে ১ লাখ ৩১ হাজার ৪৩০ কোটি টাকা। এটি জিডিপির ৫ দশমিক ৯ শতাংশ। বাস্তবায়নের সক্ষমতার চ্যালেঞ্জ নিয়েই আগামী বছর বড় এডিপির আকার ঠিক করা হচ্ছে। অবশ্য গত অক্টোবর পর্যন্ত এডিপি বাস্তবায়নের মোট হার বরাদ্দের ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ ছিল। এই চার মাসে বাস্তবায়ন গত বছরের তুলনায় আড়াই শতাংশ বেশি। তবে ২০১২-১৩ অর্থবছরের তুলনায় সাড়ে ৬ শতাংশ এবং ২০১৩-১৪ অর্থবছরের তুলনায় দশমিক ৫ শতাংশ কম।
বর্তমান সরকারের প্রথম মেয়াদের ৫ বছরের প্রবৃদ্ধির হার ৬ শতাংশের ঘরেই সীমাবদ্ধ ছিল। দ্বিতীয় মেয়াদের তৃতীয় বছরে প্রবৃদ্ধির হার ৬ শতাংশের ঘর অতিক্রম করে ৭ শতাংশে পৌঁছায়। প্রবৃদ্ধির হারের দীর্ঘ সময়ের বৃত্ত ভেঙে গত অর্থবছরে ৭ দশমিক ১১ শতাংশ অর্জন করেছে। এ লক্ষ্য অব্যাহত রাখতে সব ধরনের বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে বাজেটে। নতুন বাজেটে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ। এছাড়া মূল্যস্ফীতির হার নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ এবং মোট জিডিপির আকার ধরা হয়েছে ২২ লাখ ২৬ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। সামগ্রিক বাজেট ঘাটতি জিডিপির ৫ শতাংশের মধ্যেই রাখা হয়েছে।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

