Don't Miss
Home / আন্তর্জাতিক / ফিলিস্তিন প্রশ্নে আমেরিকার দৃশ্যত ইতিবাচক পরিবর্তন
যুক্তরাষ্ট্র

ফিলিস্তিন প্রশ্নে আমেরিকার দৃশ্যত ইতিবাচক পরিবর্তন

এমএনএ আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ শুরু থেকেই দখলদার ইসরায়েলিদের দোসর হিসেবে কাজ করছে ইউরোপের কতিপয় দেশ এবং যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র জন্মলগ্ন থেকেই ইসরায়েলিদের অন্ধ পৃষ্ঠপোষক। যুুক্তরাষ্ট্রের আশ্রয়ে প্রশ্রয়েই বিভিন্ন সময়ে ইসরায়েল ফিলিস্তিনিদের দমন পীড়ন চালায় বা চালাচ্ছে। ১৯৩০ থেকে শুরু করে ১৯৪৮, ১৯৬৭ এবং তৎপরবর্তী ঘটনা প্রবাহে এই যুক্তরাষ্ট্রের অন্ধ সমর্থন ছিল। কিন্তু ইদানিংকালে এই বাতাস কিছুটা কমতে শুরু করেছে, যার কিছুটা প্রভাব দেখা গেছে সাম্প্রতিক ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধে।

আমেরিকার প্রখ্যাত জনমত জরিপকারী জন যগবি, যিনি গত কয়েক দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রে জনমতের ওপর নজর রাখছে, বলেন, ইসরায়েল প্রশ্নে দলের ভেতর থেকে চাপ বাড়ছে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের ওপর। এই পরিবর্তন নাটকীয়, গভীর পরিবর্তন, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের তরুণ প্রজন্ম এখন ফিলিস্তিনিদের ব্যাপারে অনেক সহানুভূতিশীল এবং এই পরিবর্তনের প্রতিফলন পড়ছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টিতে।

প্রেসিডেন্ট বাইডেন আমেরিকার প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করেছেন, বার বার তিনি বলেছেন আত্মরক্ষার অধিকার ইসরায়েলের রয়েছে। কিন্তু দলের ভেতর তিনি বেশ বেকায়দায় পড়ছেন। কারণ ডেমোক্র্যাট শিবিরে এখন গাজা এবং পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের অবস্থা নিয়ে অনেক বেশি উদ্বেগের সুর শোনা যাচ্ছে এবং এই পরিস্থিতির জন্য ইসরায়েলকে সরাসরি দায়ী করা হচ্ছে।

ইসরায়েল-ফিলিস্তিনি ইস্যুতে ডেমোক্র্যাট দলে যে পরিবর্তন, তার কারণ খুঁজতে হলে মার্কিন কংগ্রেসের দিকে তাকাতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় আইনসভায় ঐতিহাসিকভাবে ইসরায়েলের প্রতি প্রায় একতরফা সমর্থন দেখা গেছে। এর পেছনে প্রধান কারণ ছিল প্রভাবশালী ইহুদি ভোট যেটি ডেমোক্র্যাটদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে ইভানজেলিক্যাল খ্রিস্টান সম্প্রদায়- যারা কট্টর ইসরায়েলপন্থি-তারা রিপাবলিকানদের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভোট ব্যাংক। এই দুই ভোট ব্যাংকের বিবেচনায় মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের ব্যাপারে ইসরায়েলি ব্যাখ্যাই সবসময় কংগ্রেসে মেনে নেয়া হয়েছে। আমেরিকার বিদেশ নীতিতে সেটাই প্রতিফলিত হয়েছে। কিন্তু কংগ্রেসের ভেতর দিনকে দিন বৈচিত্র্য আসছে, আর সেই সাথে ইসরায়েলের প্রশ্নে আমেরিকার প্রচলিত নীতি চাপের মধ্যে পড়েছে।

জরিপ সংস্থা পিউ ফাউন্ডেশন স্টাডি বলছে, ২০২১ সালের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ এবং সেনেটে নির্বাচিত সদস্যদের ২৩ শতাংশ কৃষ্ণাঙ্গ, হিসপানিক, এশীয় এবং আদি আমেরিকান বংশোদ্ভ‚ত। এটি একটি রেকর্ড। বিশ বছর আগে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ১১ শতাংশ। ১৯৪৫ সালে ছিল মাত্র ১ শতাংশ। আইন সভায় প্রতিনিধিত্বে এই বৈচিত্র্যের কারণে বিভিন্ন ইস্যুতে মতামতের ভিন্নতা বাড়ছে এবং ক্ষমতা ও প্রভাবের ভরকেন্দ্র পাল্টে যাচ্ছে।

কংগ্রেসে তরুণ, প্রগতিশীল কয়েকজন সদস্যের একটি জোট – যেটি স্কোয়াড নামে পরিচিতি পেয়েছে, তার মধ্যে রয়েছেন মিশিগান থেকে নির্বাচিত ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভ‚ত রাশিদা তালিব এবং মিনেসোটা থেকে নির্বাচিত সোমালিয়ান বংশোদ্ভূত ইলহান ওমর। এই স্কোয়াডের মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত মুখ নিউ ইয়র্ক থেকে নির্বাচিত আলেকজান্ডার ওকাসিও কর্টেজ যিনি প্রাইমারিতে সিনিয়র ডেমোক্র্যাট জো ক্রাউলিকে হারিয়ে দলের টিকিট পেয়ে জিতেছেন।

জো ক্রাউলি ছিলেন ইসরায়েলের কড়া একজন সমর্থক। ফলে, এখন নিউ ইয়র্কের ডেমোক্র্যাটদের ভোটারদের যে প্রোফাইল তার সাথে ৩১ বছরের পোর্টো-রিকান বংশোদ্ভ‚ত ওকাসিও-কর্টেজ ৫৯ বছরের ক্রাউলির চেয়ে অনেক বেশি খাপ খান।?“ডেমোক্র্যাট শিবিরে এখন উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় অশ্বেতাঙ্গ রয়েছেন যারা অন্য অশ্বেতাঙ্গদের প্রতি আচরণ নিয়ে অনেক বেশি স্পর্শকাতর।?” অনেক ইসরায়েলকে একটি আগ্রাসী শক্তি হিসাবে দেখে।

তিনি বলেন, “এই প্রজন্ম ইনতিফাদা পরবর্তী পরিস্থিতি জানে। তারা দুই পক্ষের মধ্যে বিভিন্ন যুদ্ধের কথা জানে, তারা ইসরায়েলি বোমা হামলা দেখছে এবং নিরপরাধ মানুষের মৃত্যু দেখছে।”

কংগ্রেসে এই যে বৈচিত্র্য তার পেছনে প্রধান যে কারণ তা হলো যুক্তরাষ্ট্রে প্রগতিশীল বাম-ধারার একটি সামাজিক-রাজনৈতিক আন্দোলন যার পরিণতিতে ওকাসিও কর্টেজের মতো রাজনীতিক নির্বাচিত হয়েছেন। এবং এই বাম-প্রগতিশীল আন্দোলনের পেছনে ম‚ল শক্তি হিসাবে কাজ করেছেন ভারমন্টের ডেমোক্র্যাট সেনেটর বার্নি স্যান্ডার্স।

ইহুদি পরিবারে জন্ম মি. স্যান্ডার্স ষাটের দশকে বেশ কয়েক বছর ইসরায়েলে বসবাস করেছেন। তার রাজনৈতিক জীবনের শুরুর দিকে তিনি ইসরায়েলের প্রতি সহানুভূতিশীলও ছিলেন। ২০১৬ সালে সালে তিনি প্রথম যখন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হলেন সেসময় তার মুখে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থনের কথা শোনা যায় যেটা ছিল ডেমোক্র্যাট শিবিরে একটি ব্যতিক্রম।

২০১৬ সালের মার্চে যখন হিলারি ক্লিনটনের সঙ্গে প্রার্থিতার লড়াইয়ের বিতর্ক চলছিল, সেসময় হামাস ইসরায়েলে রকেট হামলা শুরু করেছিল। বার্নি স্যান্ডার্স তখন খোলাখুলি ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন তাদের বেকারত্ব ‘ধ্বংস হয়ে যাওয়া ঘরদোর, স্কুল, হাসপাতাল।

মূলত ‘ফিলিস্তিনি দুর্ভোগের কথা বললে নির্বাচনে হারতে হবে বলে যে অলিখিত রীতি প্রচলিত ছিল, তা ভেঙ্গে ফেললেন বার্নি স্যান্ডার্স।?’ অবশ্য মি. স্যান্ডার্স প্রেসিডেন্ট প্রার্থিতার দুটো লড়াইতেই হেরে যান। তবে তার এই মতামত ডেমোক্র্যাট দলের অনেক বহু সমর্থক হতে তুলে নেয়।

সেই সাথে, শিক্ষা, চিকিৎসা, মজুরির সাম্যতা এবং পরিবেশ ইস্যুতে আন্দোলনকারী বিভিন্ন প্রগতিশীল প্ল্যাটফর্মগুলোতে মি. স্যান্ডার্সের ঐ অবস্থান জনপ্রিয়তা পায়। প্রার্থী হতে না পারলেও বার্নি স্যান্ডার্স তখন থেকেই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সমালোচনা বাড়িয়ে চলেছেন। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে তিনি ‘বেপরোয়া বর্ণবাদী এবং একনায়ক?’ বলে একাধিকবার প্রকাশ্যে নিন্দা করেছেন।

গত সপ্তাহে নিউ ইয়র্ক টাইমস পত্রিকায় এক মন্তব্য প্রতিবেদনে এই সংঘাত নিয়ে যে সব কথা তিনি বলেছেন তা এখন ডেমোক্র্যাটিক দলের একটি উল্লেখযোগ্য অংশের মতামতের প্রতিফলন। বার্নি স্যান্ডার্স লেখেন, ?“যেটা সত্য তা হলো ইসরায়েলি এবং ফিলিস্তিনি এলাকায় ইসরায়েল-ই একমাত্র সার্বভৌম রাষ্ট্র। এবং শান্তি এবং সুবিচারের পথে না গিয়ে তারা তাদের ভারসাম্যহীন ক্ষমতা এবং অগণতান্ত্রিক দখলদারিত্ব শক্ত করার চেষ্টায় লিপ্ত।

বিশ্লেষকরা বলেন, আমরা বেশ কিছুদিন ধরেই আমেরিকাতে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন ক্রমাগত বাড়তে দেখছি এর পেছনে শক্তি হচ্ছে অশ্বেতাঙ্গ এবং তরুণ প্রজন্মর ভোটাররা এবং দলের প্রগতিশীল অংশ।

বিদেশ নীতিতে, বিশেষ করে আমেরিকার মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে, জনমতের এই প্রতিফলন এখনো হয়তো তেমন নেই। মি বাইডেন এখনও বিষয়টিকে ততটা গ্রাহ্য করছেন না। কিন্তু ডেমোক্র্যাট শিবিরের ইসরায়েলি সমর্থকরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছেন। তারা ভয় পাচ্ছেন, বহু বছর ধরে জনকল্যাণের ইস্যুতে মি বাইডেনের যে গ্রহণযোগ্যতা তা নড়বড়ে হয়ে যেতে পারে- জন যগবির ভাষায়।

x

Check Also

আবারও ছড়িয়ে পড়ছে হাম, ২৩.২% শিশু দুই ডোজ নেওয়ার পরও আক্রান্ত

দেশে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারকে একাধিক জরুরি পদক্ষেপ ...